E-Paper

সুযোগের সদ্ব্যবহার

আন্তর্জাতিক মহলে যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের নাম উল্লিখিত হয়ে এসেছে তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে।

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৭
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যুদ্ধ যখন চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করছে, তখন বেশ কয়েকটি দেশের বিদেশনীতি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন। এদেরই অন্যতম পাকিস্তান। এক দিকে সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্য দিকে ইরানের প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি বিবিধ কারণে এখন পড়েছে উভয় সঙ্কটে। অথচ, অতি সম্প্রতি যুদ্ধাবসানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে এসেছে পাকিস্তানেরই নাম, যে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে আনার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিতে পারে। এটা ভাবা কঠিন যে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতার উপর এমন গভীর প্রভাব সৃষ্টিকারী একটি সংঘাত প্রশমনের প্রচেষ্টার জন্য ইসলামাবাদকে একটি সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিশেষত, আন্তর্জাতিক মহলে যেখানে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের নাম উল্লিখিত হয়ে এসেছে তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে।

প্রশ্ন হল, যে দেশ নিজেই তার নিরাপত্তা সঙ্কট নিয়ে জর্জরিত, সে কেন এমন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সংঘাতে মধ্যস্থতা করতে আগ্রহী? কারণ একাধিক। দেশে অপরিশোধিত তেল আমদানির সিংহভাগ এবং প্রায় সমস্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর উপর প্রবল ভাবে নির্ভরশীল ইসলামাবাদ। আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার বিপর্যস্ত হওয়ায় যে দেশগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাকিস্তান তার অন্যতম। যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে তা শুধু পাকিস্তানের জন্য জ্বালানি আমদানিকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলবে না, মূল্যবৃদ্ধি বাড়িয়ে দিয়ে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির উপর আরও চাপ তৈরি করবে। কিছু দিন আগেই সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান। কিন্তু যুদ্ধের শুরু থেকে তাদের বিভিন্ন স্থানে ইরানের ড্রোন হামলার বিষয়টি ভাল চোখে দেখেনি রিয়াধ। জানা গিয়েছে, সৌদি আরব তেহরানের উপর হামলা অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে উস্কানি তো দিচ্ছেই, সঙ্গে নিজেও যুদ্ধে যোগ দিতে ইচ্ছুক। সৌদি এই যুদ্ধে যোগ দিলে প্রতিরক্ষা চুক্তির শর্তে পাকিস্তানকেও যুদ্ধে জড়াতে হবে, যা ইসলামাবাদের কাঙ্ক্ষিত নয়। কারণটি স্পষ্ট— অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশই শিয়া গোষ্ঠীভুক্ত, অর্থাৎ ইরান-সমর্থক। ফলে যে কোনও উত্তেজনা বৃদ্ধিতে শুধু পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনাই নেই, ইরান-পাকিস্তান সীমান্তে অস্থিরতাও সৃষ্ট হতে পারে, অশান্ত বালুচিস্তানেও তার প্রভাব ছড়াতে পারে।

অন্য দিকে, এই যুদ্ধে রাশিয়া বা চিন মধ্যস্থতার প্রয়াস না করায়, পরিস্থিতি সামাল দিয়ে নিজের ভূরাজনৈতিক অবস্থান আরও পোক্ত করার সুযোগ ছিল দিল্লির। অথচ, তা তো ঘটেনিই, বরং যুদ্ধের ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ইজ়রায়েল সফর এই অঞ্চলে ভারতের ভাবমূর্তি কিয়দংশে ক্ষুণ্ণ করেছে। এই শূন্যস্থানই পূরণ করেছে পাকিস্তান। যুদ্ধ শেষ করতে সে দেশ ইতিমধ্যে তুরস্ক ও মিশরের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। এ-হেন অবস্থান ইচ্ছাকৃত, না কি আকস্মিক, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, এর ফলে ইসলামাবাদ নিজেকে এমন ভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ পেয়েছে, যা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আপাতত পশ্চিম এশিয়ার কূটনীতিতে দিল্লির থেকে এক ধাপ এগিয়ে রইল ইসলামাবাদ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Pakistan Shahbaz Sharif Islamabad

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy