আজ যে এক বিশেষ দিন, সে কথা বাঙালিকে মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তবে এই বিশেষ দিন এখন সম্ভবত সবিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ এক বিশেষ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে।  

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের জীবনের প্রতিটা পর্ব, প্রতিটা সম্ভাবনা, প্রতিটা উপলব্ধি নিয়েই লিখে গিয়েছেন সম্ভবত। এমন অনেক পরিস্থিতির সম্মুখীন আমরা হই, যা বেনজির হিসেবে প্রতিভাত হয় আমাদের সামনে। কিন্তু সেই মহাদ্রষ্টার সৃষ্টির রাজ্যে খুঁজলে বোধহয় বুঝতে পারি যে, আমরা ইতিহাসের বা সামাজিকতার কোনও অভূতপূর্ব পর্বের সম্মুখীন হইনি। তাই রবীন্দ্র চৈতন্যে আশ্রয় খুঁজে বার বারই আলোকিত হই আমরা। দেশ এখন যে রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাতে আবার রবীন্দ্র চৈতন্যে আশ্রয় নেওয়া খুব জরুরি বলে মনে হচ্ছে।

উগ্র জাতীয়তাবাদ, খণ্ড জাতীয়তাবাদ, কট্টরতা, অসহিষ্ণুতা— শব্দগুলো গত কয়েক বছর ধরে ভীষণ ভাবে চর্চিত ভারতে। স্বাধীন ভারতে এর আগে কখনও জাতীয়তাবাদ এত উগ্র চেহারা নেয়নি। এই উগ্রতাকে প্ররোচিত করছে জাতীয়তাবাদের ঠিক বিপরীতে থাকা যে সব তত্ত্ব, সে সবও আগে কখনও এত হানিকারক চেহারা নেয়নি। কিন্তু ইতিহাসে এই পরিস্থিতি অভূতপূর্ব, এমনও নয়। এই উগ্র জাতীয়তাবাদের উদ্ভব কী কারণে হয়, কোন পরিস্থিতিতে হয়, প্রশ্রয় পেলে তা কতখানি হানিকারক হতে পারে, এর মোকাবিলা কোন পথে সম্ভব— এই সব কিছু নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখে গিয়েছেন। লিখে গিয়েছেন আজ থেকে কমবেশি একশো বছর আগে। আজ যখন এক বিশেষ পরিস্থিতির সম্মুখীন আমরা সবাই, তখন এই বিশেষ দিনে আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম রবীন্দ্রনাথের সেই আর্ষ বাণী।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক রবি ঠাকুরের যে সব রচনা, সে সবের কিছু কিছু আমরা আরও এক বার প্রকাশ করলাম আনন্দবাজার পত্রিকা ডিজিটালে। উত্তাল হাওয়া-পাল্টা হাওয়া যখন বিভ্রান্ত করছে, তখন এই সব রচনা খুঁজে দিতে পারবে কাঙ্খিত পথটা।

সম্পাদক অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আপনার ইনবক্সে পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন

আরও পড়ুন:  ‘নেশনই যে সভ্যতার অভিব্যক্তি তাহার চরম পরীক্ষা হয় নাই’

আরও পড়ুন: ‘জাতীয়তাকে আমরা পরম পদার্থ বলে পূজা করি নে এইটেই হচ্ছে আমাদের জাতীয়তা’