Advertisement
E-Paper

আমায় ধরে তোল

মনমোহন সিংহ চুপটি করে থাকত, আমিও চুপটি করে আছি। সে কংগ্রেস বলে অপদার্থ তকমা পেল, আর আমি বিজেপি বলে হিন্দু ক্রিমিনালের ছুপা সমর্থক?এতো ভ্যালা বিপদে পড়া গেল! দেশে হাওয়া গরম বলে বিলিতি ঠান্ডায় বেড়াতে এলুম, এখানে কিনা কড়ায় ফেলে ভাজছে! বিহারে হেরেছি, মুখ পুড়ে ঝামা, পার্টির বাতিল বুড়ো হাবড়াগুলো অবধি বাঁধানো দাঁতে চিবিয়ে প্রতিবাদপত্তর পাবলিশ করে দিলে, সারা ভারত জুড়ে ছিছি আর পুলকিত প্যাঁক, এটাই তো সুট করে প্লেনে চড়ে কূটনৈতিক গ্যাঁড়াকল ঝালাতে কেটে পড়ার সময়।

শেষ আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৫ ০০:০০

এতো ভ্যালা বিপদে পড়া গেল! দেশে হাওয়া গরম বলে বিলিতি ঠান্ডায় বেড়াতে এলুম, এখানে কিনা কড়ায় ফেলে ভাজছে! বিহারে হেরেছি, মুখ পুড়ে ঝামা, পার্টির বাতিল বুড়ো হাবড়াগুলো অবধি বাঁধানো দাঁতে চিবিয়ে প্রতিবাদপত্তর পাবলিশ করে দিলে, সারা ভারত জুড়ে ছিছি আর পুলকিত প্যাঁক, এটাই তো সুট করে প্লেনে চড়ে কূটনৈতিক গ্যাঁড়াকল ঝালাতে কেটে পড়ার সময়। জনগণের পয়সায় ওয়ার্ল্ড ট্যুর সারছি, বোধহয় এস্কিমোদের দেশে যাওয়াটা শুধু বাকি আছে। সেও গেরুয়া ইগলুতে আস্তানা গেড়ে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট দেওয়া যাবে’খন। ভেবেছিলাম বিলেতে এসে ফাটিয়ে দেব, দুশো বছর শাসন করেছ বাওয়া, এখন দেখো কে কার পদানত, বেওসার দরজা খুলব আর তোমরা ক’পাউন্ড ফ্লেশ কচাকচ কেটে দেবে, হঠাৎ এতগুলো বাগড়া-আন্দোলনের পাবলিক এখানে জুটল কী করে! পথে পথে ভুল বানানে অপমানজনক ব্যানার, বিচ্ছিরি নিমুনিয়া-বসা গলায় স্লোগান! তা হলে কি কংগ্রেস আর অন্য শত্তুরগুলো এখানে স্পাই রেখেছে, গ্রুপ কে গ্রুপ ওসকাচ্ছে! বাব্বা, বিরোধী দলেরা এত ভাল ইংরিজি জেনে গেল!

এক একটা হুজুগ ওঠে, মাথা গরম করে দেয়! এই হয়তো দেশের টাটকা ছেলেমেয়েগুলো দাব্‌নায় টিকটিকির ট্যাটু করল, ওই আঁতেলদের পোষা লব্‌জ হয়ে গেল ‘ইনটলারেন্স’! এত বার বলছি, হাবিজাবি আওড়াস না, জগৎসভায় আসনটা তুইয়ে-বুইয়ে ফ্রন্ট-রো’য় আনছি, খামকা বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে, তবু শয়তানগুলো টিআরপির লোভে নাগাড়ে ডায়ালগবাজি মারল। আরে, ইন বললে ইনভেস্টমেন্ট আওড়া, আউট বললে আউটসোর্স, তা না বস্তাপচা নালিশ ঠিকরোচ্ছিস! লে, এখন এখানকার সাংবাদিকেরা অবধি ঠাসঠাস প্রশ্ন ছুড়ে মজা দেখছে। দেশে এ দিক থেকে কোশ্চেন উড়ে এলে ও দিকে তাকিয়ে মেঘের কোলে সাভারকরের মুন্ডু খুঁজি, কিন্তু এখানে উত্তর না দিলে বেইজ্জতের একশেষ, বলবে রিহার্সাল করেনি। গাঁধীর নাম কপচাতেই হল। এমনিতে আমরা গাঁধীর হত্যাকারীর নামে মন্দির গড়ব ঠিক করেছিলাম, এই রে স্লিপ অব টাং হয়ে গেল, আমরা না, হিন্দু মহাসভা, কিন্তু বৃহত্তম গণতন্ত্রে সে প্রস্তাবের প্রশ্রয় তো দিতেই হবে, তা ছাড়া বাক্‌স্বাধীনতা বলে লাফাবে আর নাথুরামের তক্কোকে কোল দেবে না তা তো হয় না, যাগ্গে, এ সব ইউরোপের একবগ্গা দেশে লোকে এক রকমেরই ইতিহাস বোঝে, তার ছ’রকম ব্যাখ্যা ব্রেনে নেওয়ার মুরোদই নেই, এখানে লাঠিয়ালের স্তুতি করার চেয়ে লাঠি হাতে বুড়ো ফোকলার প্রশস্তি করাই সেফ। তাই বুদ্ধ, গাঁধী, আরও কয়েকটা নাম কিছুতে মনে পড়ল না, এদের আঁচল ধরে পার পেতে হল। স্রেফ আমার শনশন সাফল্যে হিংসের চোটে কয়েকটা রাস্কেল প্রাইজ-ফাইজ ফিরিয়ে সার্কাস মচিয়ে, এই জায়গায় ঠেলে দিলে!

যুগ যুগ ধরে ভারতে মার্ডার হয়ে আসছে, প্রতি হপ্তায় হচ্ছে, রোজ হচ্ছে, এখন সেগুলোর গায়ে হঠাৎ স্পেশাল অসহিষ্ণুতার আংরাখা পরিয়ে বাতেলা! কীসের অসহিষ্ণুতা? কে একটা হাঁসমুর্গি না কালবুর্গি মরে গেল, তাইতে আমি বল্লম নিয়ে রাস্তায় লাফাব? সে লোকটা আবেগের বাগিচায় যুক্তির মোষ আমদানি করে পৃথিবীর সব্বাইকে চটিয়ে রেখেছিল, হিন্দুত্ববাদীরাই তাকে মেরেছে তার গ্যারান্টি কী? বিশ্বের সমস্ত বড় বড় লোক ভেজিটেরিয়ান হয়ে যাচ্ছে, আর তোরা এখনও গরুর মাংস থেকে প্রোটিন দাবড়াবি, তা কিছু মানুষ ফ্রিজে উঁকি মেরে স্বতঃস্ফূর্ত পেটানি দিয়েছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী স্টেটমেন্ট দিতে যাবে কেন? এটাই তো বরং অসহিষ্ণুতা, কথায় কথায় সাম্প্রাদয়িকতার লেবেল আটকে দেওয়া, হিন্দু মস্তানি বলে চেঁচানো! আমি তো নতুন কিচ্ছু করিনি, মনমোহন সিংহ চুপটি করে থাকত, আমিও চুপটি করে আছি। সে কংগ্রেস বলে কী সুন্দর সেরেফ অপদার্থ তকমা পেল, আর আমি বিজেপি বলে অমনি হিন্দু ক্রিমিনালের ছুপা সমর্থক?

কোথাকার কে অনীশ কপূর, অনিল কপূরের ডামির চেয়েও কম বিখ্যাত, তার আর্টিক্‌ল নিয়ে হইচই! করে তো কী সব আখাম্বা ভাস্কর্য, না আছে মাথা না আছে মুন্ডু, শিকাগোয় একটা শিমের বিচি বানিয়েছে, আর ভার্সেইয়ের প্রাসাদের বাগানেরটা তো অশালীনতার জাসু, তার ডাকনাম ‘কুইন’স ভ্যাজাইনা’! ওর কাছ থেকে কর্মসূচি শিখব? কৈফিয়ত দেব, কেন ন’হাজার এনজিও-কে ‘ডি-রেজিস্টার’ করা হয়েছে? তিস্তা শেতলওয়াড়কে হ্যারাস করা হচ্ছে? সন্তোষ যাদবকে গ্রেফতার করা হল? আরে, এনজিওগুলো মানবাধিকার ফলায়, তিস্তা ২০০২-এর গুজরাত দাঙ্গার শিকারদের নিয়ে গলা ফাটায় আর আমাকে আদালতে টেনে নিয়ে যেতে চায়, সন্তোষ যাদব বহুত ফড়ফড় করছিল ছত্তীসগঢ়ের আদিবাসীদের ওপর পুলিশের অত্যাচার নিয়ে, এগুলোর জন্যে ওদের কিচ্ছু করা হয়নি। ওরা তো কেউ বিদেশি ফান্ড নিচ্ছে দেশের বুকে বসে দাড়ি ওপড়ানোর জন্য, দুর্গতদের নামে চাঁদা তুলে নিজের পকেট ভরছে, কিংবা মেগা-মাওবাদী, খুনের চার্জও আছে। আমাকে গাল দিলেই ইদানীং ইন্টেল-লিস্টে ওপর দিকে ওঠা যাচ্ছে, তাই কিচ্ছু খতিয়ে বুঝবি না, মিছিলে নেমে পড়বি!

আমি হিন্দু তালিবান নই রে বাবা, হিটলারবাচক লোকই নই। আমি অন্য সব ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর মতোই, সুইট একটা বাক্‌সর্বস্ব অকম্মার ঢেঁকি। আমায় এক্সট্রা দর দিচ্ছিস কেন? আমার ব্রেনে অতিঘুঘু ডিম পাড়লে, রাস্তায় শতরঞ্চি বিছিয়ে ভুজঙ্গাসনকে দেশোদ্ধার ভাবি? ক্যাম্পেনের সময় ফটফট করেছি, সুপারম্যান ইমেজ থ্রো করেছি। এখন দেখ না, ক্ষমতা পেয়ে প্রাণপণ অবান্তর ছাদের পাইপ বাইছি আর ঝিংচ্যাক ফতুয়া ডিজাইন করছি। ৫৬ ইঞ্চি ছাতিটা বাদ দিলে, এটা জাস্ট মূষিকের মূষিক প্রসব।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy