Advertisement
E-Paper

শাস্তি বাড়ালেই তামাক কমবে কি

দেশে এত দিন আইন ছিল, নাবালকদের কোনও নেশার দ্রব্য সরবরাহ করলে ২০০ টাকা জরিমানা দিতে হত। বর্তমানে কেন্দ্রীয় শিশু ও নারী কল্যাণ মন্ত্রক ওই আইন সংশোধন করে জরিমানার সর্বাধিক পরিমাণ ১ লক্ষ টাকা ও সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের সংস্থান করেছে। এই সংবাদকে কেউ কেউ ‘দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের জয়’ বলেছেন। (‘ছোটদের তামাক বেচলে জরিমানা বেড়ে লক্ষ টাকা’, ২০-০১)

শেষ আপডেট: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০০:০৫

দেশে এত দিন আইন ছিল, নাবালকদের কোনও নেশার দ্রব্য সরবরাহ করলে ২০০ টাকা জরিমানা দিতে হত। বর্তমানে কেন্দ্রীয় শিশু ও নারী কল্যাণ মন্ত্রক ওই আইন সংশোধন করে জরিমানার সর্বাধিক পরিমাণ ১ লক্ষ টাকা ও সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের সংস্থান করেছে। এই সংবাদকে কেউ কেউ ‘দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের জয়’ বলেছেন। (‘ছোটদের তামাক বেচলে জরিমানা বেড়ে লক্ষ টাকা’, ২০-০১)

জরিমানার পরিমাণ বাড়ালেই কি নাবালকদের নেশার দ্রব্য বিক্রি করা আটকানো যাবে, যেখানে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ২৭ কোটি ভারতবাসী তামাকের নেশায় আসক্ত? এ দেশে তামাকজাত দ্রব্যের নেশাগ্রস্তদের গড় বয়স ১৭ বছর, ২০ শতাংশ নাবালক এই নেশার শিকার, যা সংক্রামক ব্যাধির মতো লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েই চলেছে এবং অকালমৃত্যু জীবনকে গ্রাস করছে। তামাকজাত দ্রব্য সেবনের কুফল নিয়ে প্রচারমাধ্যমে সরকারি প্রচার চালানো হলেও, তা আমাদের কানে ঢুকছে না। আমরা শুনেও শুনছি না, দেখেও দেখছি না, কেবলমাত্র সচেতনতার অভাবে। এই সচেতনতার অভাবের সুযোগে নানা জাতের তামাকজাত দ্রব্য নানা ভাবে, হরেক মোড়কে দিব্যি বিক্রি হচ্ছে হাটে-বাজারে-মাঠে, খেলায়-মেলায়, গ্রামে-গঞ্জের অলিতে-গলিতে। জেলা সদর শহর-সহ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার দোকানবাজারে, এমনকী ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়ালেই পাউচ প্যাকের মালা আগ্নেয়াস্ত্রের ম্যাগাজিনের মতো গলায় ঝুলিয়ে বিক্রেতারা তামাকদ্রব্য আমাদের সামনে এগিয়ে ধরছে। আমরাও তা কিনে অনায়াসে মুখে চালান করে দিচ্ছি। তরুণদের মধ্যে এই সব তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণের প্রবণতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। গালভর্তি থুতু নিজের বিপদ যেমন ডেকে আনছে, তেমনই পরিবেশকে করছে অসুন্দর, অপরিচ্ছন্ন। আইন করে জরিমানার পরিমাণ ও শাস্তির মেয়াদ বাড়ালেই কি দেশের তরুণ প্রজন্মকে এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে? সাফল্য আসবে? বয়সে বড় যাঁরা, তাঁদের এ ব্যাপারে সতর্ক ও সচেতন হওয়া ভীষণ জরুরি। তামাকের নেশার কুফল সম্পর্কে ব্যাপক পারিবারিক ও সামাজিক আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

সেখ সোফিয়ার রহমান। সোনাতলা, উদয়নারায়ণপুর, হাওড়া

খাদ্য সাথী

চলতি বছরের প্রারম্ভিক মাসে রাজ্যের সকলের জন্য খাদ্য সুনিশ্চিত করতে ‘খাদ্য সাথী’ প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার প্রথম দিন থেকে তাঁর প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার হল ‘সকলের জন্য খাদ্য’। আবেগতাড়িতা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের ‘খাদ্য সুরক্ষা’ প্রকল্পটিকে রাজ্যের জন্য ‘খাদ্য সাথী’ নামে নামাঙ্কিত করে এক নতুন মাত্রা যোগ করে দিলেন। এ প্রসঙ্গে নেপোলিয়ান হিলের একটি বিখ্যাত উক্তি মনে পড়ে: When emotion and desire are used together, it creates a very powerful energy.

হিসেবে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের মাত্র ৫.১ শতাংশ পরিবার এএওয়াই (অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা)-র উপযুক্ত হওয়ায় দু’টাকা কিলো দরে চাল-গম মিলিয়ে ৩৫ কিলো খাদ্যশস্য রেশন দোকান থেকে পাবে। অন্য দিকে, ৬০ শতাংশ রাজ্যবাসী ওই মূল্যে মাথা পিছু চাল-গম মিলিয়ে মাসে পাবে মাত্র ৫ কিলো খাদ্যশস্য। সারা দেশে যে বিশাল সংখ্যক মানুষ রোজ রাতে খিদের জ্বালা নিয়ে ঘুমোতে যায়, তাদের এক বড় অংশ এই রাজ্যে বাস করে। কাজেই, ‘খাদ্য সাথী’ প্রকল্পে সকলের জন্য কিছু পরিমাণ খাদ্য হয়তো নিশ্চিত করা যাবে, কিন্তু অনাহারে কতটুকু হবে, বলা কঠিন।

উপরোক্ত ৬০ শতাংশ রাজ্যবাসী, যারা দু’টাকা কিলো দরে প্রতি মাসে মাথা পিছু ৫ কিলো খাদ্যশস্য পাবেন, তাঁদের বিশাল অংশ তথাকথিত এপিএল শ্রেণিভুক্ত। তাঁদের রেশন কার্ড রেশন পাওয়ার পরিবর্তে পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের জন্য বরাদ্দ বিশাল ভর্তুকিযুক্ত চাল-গমের সিংহভাগ ডিলার মারফত খোলা বাজারে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

এ প্রসঙ্গে ২০০৭ সালে রাজ্যব্যাপী ঘটে যাওয়া ‘রেশনকাণ্ড’ বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য। ওই ঘটনার পিছনে অন্যতম কারণ ছিল এপিএল উপভোক্তাদের অপছন্দের গম রেশন থেকে দিনের পর দিন খোলা বাজারে বিক্রি হয়ে যাওয়া। গমের গুণমান অপছন্দের ও পরিমাণ যৎসামান্য হওয়ায় গমের জন্য এপিএল উপভোক্তারা রেশন দোকানে আসত না, ফলে রেশন ডিলাররা তা খোলা বাজারে বিক্রি করে দিতেন। অন্য দিকে, যাতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ কমে না যায়, সেই আশঙ্কায় ডিলারদের গম তোলার জন্য বাধ্য করা হত।

২০০৬ সালে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশন থেকে পাঠানো রেশনে গম-বিলি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ তদন্ত করার সুযোগ হয়েছিল। দিনের পর দিন রেশন দোকান থেকে এপিএল গম খোলা বাজারে বিক্রি হয়ে যাওয়ায় উপভোক্তাদের মধ্যে এক চাপা অসন্তোষ যে দানা বাঁধছিল, তার উল্লেখ ছিল কমিশনে পাঠানো প্রতিবেদনে। অবশেষে বাঁকুড়ায় রেশন উপভোক্তাদের চাপা ক্ষোভ ‘রেশন কাণ্ড’-এর রূপ নিল এবং তা তড়িৎগতিতে সারা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ল। ওই জাতীয় অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে জন্য সময় থাকতে যথাসম্ভব সাবধান হওয়া খুবই প্রয়োজনীয় বলে মনে করি।

‘খাদ্য সাথী’ প্রকল্পের সার্থক রূপায়ণে চাই সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিরন্তর নজরদারি। যা একান্ত প্রয়োজন তা হল, রেশন ডিলার স্তরে যাতে প্রয়োজনাতিরিক্ত চাল-গম মজুত থাকে, তা নিশ্চিত করা।

জয়দেব জানা। কলকাতা-৮

শীত ও স্নান

চিরশ্রী মজুমদারের ‘শীতের স্নানের ছ্যাঁক’(৩১-১) পড়ে কয়েকটি কথা মনে পড়ে গেল।

উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যখন তিব্বতে গিয়েছিলেন তখনকার কথা ‘হিমালয়ের পথে পথে’ গ্রন্থে লিখেছেন: ‘আমাদের স্নান দেখতে তিব্বতীদের মধ্যে সে কী উত্তেজনা!.. আমাদের ঘিরে দাঁড়িয়ে, এমনি অবাক হয়ে দেখে, মনে হয়, ভাবে— এরা করে কি!’

আবার, নীরদ সি চৌধুরী এক জন ভদ্রলোকের কথা লিখেছেন, যিনি শীতকালে তাঁর চিরুনিটাকে ঠাণ্ডা জলে ডুবিয়ে চুল আঁচড়ে নিতেন। সেটিই তাঁর স্নান।

শান্তভানু সেন।
শ্রীপল্লি, শািন্তনিকেতন

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy