বয়স বাড়লে পেশি দুর্বল হয়! এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করলেন অভিনেতা সোনু সুদ। ৫২ বছর বয়সেও সোনুর ‘সিক্স প্যাক্স’ ও অ্যাব্স দেখে ঈর্ষান্বিত হতে পারেন নতুন প্রজন্মের নায়কেরা। কিন্তু কোনও অলৌকিক উপায় বা ওষুধে ভরসা রাখেননি সোনু। কেবল নিয়ম ও শৃঙ্খলাবদ্ধ যাপনের উপর ভিত্তি করে এখনও সুঠাম দেহের অধিকারী তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রোজের নিয়ম ও অভ্যাস নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেতা। তাঁর মতে, দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টি হল সকাল। দিন কী ভাবে শুরু করছেন, তার উপর গোটা দিনটা নির্ভর করে। সোনুর জীবনে সকালগুলি খুব শান্ত। প্রথমে এক গ্লাস গরম জল পান করেন। তার পর কয়েক মিনিট ধ্যান করেন। এর পর হালকা স্ট্রেচিং করে শরীর ও মনকে প্রস্তুত করে নেন গোটা দিনের জন্য। এই সহজ অভ্যাসের ফলে গোটা দিনে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা দূরে থাকে। নতুন যুগে, নতুন প্রজন্ম এই রুটিনকেই ‘স্লো মর্নিং’-এর নাম দিয়েছে। কিন্তু এই অভিধার আবিষ্কারের আগে থেকেই সোনুর সকালগুলি এমন ছিল।
সোনু সুদের সুঠাম দেহের রহস্য। ছবি: সংগৃহীত।
অভিনেতার মতে, ফিটনেস কোনও নির্দিষ্ট সময়ের ফ্যাশন নয়, এটি জীবনযাত্রা। নিয়মিত, ধারাবাহিক ভাবে শরীরের যত্ন নেওয়া দরকার। তাই নিয়মিত অভিনয় না করলেও নিজেকে একই ভাবে সুস্থ রাখার চেষ্টা করেন তিনি। আর তাই শরীরচর্চা ও খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন সোনু।
রোজ অন্তত এক ঘণ্টা ধরে ব্যায়াম করেন বলি তারকা। ভারোত্তোলন, কোর পেশির ব্যায়াম, কার্ডিয়ো, শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম ইত্যাদি মিলিয়ে মিশিয়ে প্রতি দিন শরীরচর্চা করেন তিনি, যাতে একঘেয়েমি না আসে। আর খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রে ঘরোয়া খাবারে ভরসা রাখেন সোনু। প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার থাকে তাঁর পাতে। প্রতিটি খাবার পরিমাপ মেনে খান। তেলে ভাজা বা ফাস্টফুড এড়িয়ে চলেন। তার বদলে স্বাস্থ্যকর খাবারকে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। তবে একেবারেই কৃচ্ছ্রসাধন পছন্দ নয় তাঁর। তাই মাঝে মধ্যে ‘চিট-ডে’ও আসে তাঁর ডায়েটের রুটিনে।
তবে বেশির ভাগ দিন নির্দিষ্ট খাবার খান বা কাজে গেলে টিফিন নিয়ে নেন। টাটকা ফল, বাদাম, অঙ্কুরিত ছোলা-বাদাম-ডাল, শুকনো খোলায় ভাজা ছোলা, প্রোটিনে ভরা স্ন্যাক্স ইত্যাদিই তাঁর টিফিনে থাকে মূলত।
আরও পড়ুন:
শুধু শরীরের যত্ন নয়, মানসিক স্থিরতা আর মনোবল বৃদ্ধির বিষয়েও যথেষ্ট সচেতন তিনি। তাই ধ্যান, যোগাসন, প্রাণায়ামও নিয়ম করে অভ্যাস করেন অভিনেতা, যাতে শরীরের পাশাপাশি মনেরও যত্ন নেওয়া যায়।