সোমবার ৩৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য বাজেটে। বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেন রাজ্য সরকারি ও আধা সরকারি কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিএ দেওয়া হবে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হবে। যদিও ২০০৯ সালের রোপা মেনে এখনও বকেয়া পড়ে রয়েছে মহার্ঘ ভাতা। এ বার সেই টাকা আদায়ে মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালকে ই-মেল করলেন শিক্ষকেরা।
গত ফেব্রুয়ারিতে সেই বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। চলতি বছর মার্চ নাগাদ অর্থ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছিল, প্রথম ধাপে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া ডিএ মেটাবে তৎকালীন সরকার। ওই চার বছরের বকেয়ার অর্ধেক মার্চ মাসেই দেওয়া হবে বলেই জানা গিয়েছিল। পাশাপাশি, বাকি অর্ধেক পুজোর আগে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল মমতার সরকার। তবে সে সবের কিছুই পূরণ হয়নি।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘২০০৯ সালের রোপা মেনে সুপ্রিম কোর্ট ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার কথা বলেছিল। বিগত সরকার কর্মচারীদের কিছুটা দিলেও শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের এক টাকাও দেননি।" এই ভাতাকে গ্র্যান্ট ইন এড বলে। তাই মুখ্যসচিবের কাছে ই মেল করা হয়েছে বলে দাবি স্বপনের। দ্রুত সেই ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত ৬২ পাতার একটি স্টেটাস রিপোর্ট পাঠায় বিগত সরকার। তা নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। নতুন সরকার গঠনের পর জুন মাসেও সেই ভাতা এখনও পাওয়া গেল না কেন, তা প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।
নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, ‘‘২০১৯ রোপা অনুযায়ী ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ২০০৯ সালের রোপা অনুসারে যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ২৫ শতাংশ ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেওয়ার কথা ছিল সেটা এখনও পাওয়া য়ায়নি এবং বাজেটেও কোনও উল্লেখ করা হয়নি। তাই সরকারের কাছে আবেদন দ্রুততার সঙ্গে এই কাজটি শেষ করা হোক।’’