Advertisement
E-Paper

নির্বাচনী কাজে যেতে হতে পারে সব স্থায়ী শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে! স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত শিক্ষামহল

শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর অভাব থাকায় প্রাথমিক ভাবে পার্শ্বশিক্ষক ও চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদেরও কাজে নিযুক্ত করতে চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু আইনগত ভাবে তা সম্ভব নয় জেনে সব স্থায়ী কর্মীর নামের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে জেলার নির্বাচনী আধিকারিককে যে এই মর্মে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৪৭

— প্রতীকী চিত্র।

শিক্ষক সঙ্কটে ভুগছে রাজ্যের স্কুলগুলি। ২০১৬ প্যানেল বাতিলের পর বিভিন্ন স্কুলে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী আবহে এ বার সেই জায়গায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে চলেছে বলেই আশঙ্কা।

জানা গিয়েছে, শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর অভাব থাকায় প্রাথমিক ভাবে পার্শ্বশিক্ষক ও চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদেরও কাজে নিযুক্ত করতে চেয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু আইনগত ভাবে তা সম্ভব নয় জেনে সব স্থায়ী কর্মীর নামের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে জেলার নির্বাচনী আধিকারিককে যে এই মর্মে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন শিক্ষকেরা। তাঁদের দাবি, অতীতে এ রকম পরিস্থিতি কখনও তৈরি হয়নি। প্রশ্ন, অধিকাংশ শিক্ষককে ভোটের দায়িত্ব দেওয়া হলে স্কুল চলবে কী করে?

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পার্শ্বশিক্ষক ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নির্বাচনের কাজে যুক্ত না করতে পারায় কর্মীর অভাব দেখা দিয়েছে। এ বার বুথের সংখ্যা বৃদ্ধির কথাও ভাবা হচ্ছে। তাই স্কুলের সব স্থায়ী শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের তালিকাও দিতে হচ্ছে। কমিশনের এক কর্তা বলেন, “প্রয়োজন অনুযায়ী স্কুলের সব স্থায়ী শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নির্বাচনের কাজে যুক্ত করা হতেই পারে।”

Advertisement

ভোটকর্মী এবং বিএলও ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “তালিকা তৈরি করে সকল স্থায়ী শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের এই কাজে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী কোনও জেলায় নির্বাচনের কর্মী কম হলে সেখানে গিয়েও ভোটের কাজ করতে হবে। এ ভাবে শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

গত নভেম্বর থেকে এসআইআর–এর কাজ শুরু হয়েছে। বিএলও হিসাবে এপ্রিলেও দায়িত্ব রয়েছে শিক্ষকদের অনেকের। এরই মধ্যে নির্বাচনী দায়িত্ব আসবে কোনও কোনও শিক্ষকের। ফলে পঠনপাঠন গত চার-পাঁস মাসে প্রায় শিকেয় উঠেছে বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্কুলে সামেটিভ পরীক্ষা চলছে এপ্রিলে। বহু শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী ভোটের প্রশিক্ষণের জন্য স্কুলে আসতে পারছেন না। বাকিদেরও যদি সে কাজে যোগ দিতে হয়, তা হলে স্কুল চলবে কী করে, প্রশ্ন শিক্ষামহলের।

যদিও এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। শিক্ষকেরা অপেক্ষা করে রয়েছেন, কবে নির্বাচন কমিশন কিছু জানাবে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, ‘‘আমরা এটা ভেবেই স্তম্ভিত হয়ে যাচ্ছি যে নির্বাচনের জন্য সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পড়ুয়ারা। অথচ, দেখে মনে হচ্ছে এটাই যেন স্বাভাবিক। ওই শিশুদেরকেই যেন সব সহ্য করতে হবে। খুব অসহায় বোধ করছি।’’

Assembly Election BLO Teachers
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy