Advertisement
E-Paper

এক কোটি ক্যান্টিন দুর্নীতি সহ নানা অভিযোগ সংসদ ও প্রিয়দর্শিনীর বিরুদ্ধে, পাল্টা তদন্তের দাবি বালু কন্যার

তন্ময় জানিয়েছেন, তিনি এবং আরও বেশ কয়েক জন চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তোলায় তাঁদের চাকরি যায়। তার পর একের পর এক নিয়োগ হয়েছে। তাঁরা অবশ্য কাজে ফিরতে পারেননি। নানা স্তরে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর। অভিযোগের তির বালু কন্যা সহ একাধিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। এ বারে পাল্টা তদন্তের দাবি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা প্রিয়দর্শিনীর।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ২৩:৫৩

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

একের পর এক দুর্নীতি হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে— দরপত্র থেকে, চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ এমনকি ক্যান্টিনের খরচ নিয়েও অভিযোগ। এ বিষয়ে সংসদেরই কয়েকজন প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক কর্মী সম্প্রতি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মনের কাছে।

তন্ময় মাশ্চটক সহ বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কর্মী সরাসরি চিঠি লিখে নানা দিকে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন মন্ত্রীর কাছে। তাঁর দাবি, বিগত সরকারের আমলে দুর্নীতি হয়েছে, তাতে জড়িয়ে রয়েছেন বহু নেতা-মন্ত্রী। তন্ময়ের চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে সংসদের প্রাক্তন সচিব তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের নামও। যদিও পাল্টা তদন্তের দাবি তুলেছেন প্রিয়দর্শিনী। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার তদন্ত শুরু করুক।

তন্ময় জানিয়েছেন, তিনি এবং আরও বেশ কয়েক জন ২০০৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সংসদে কাজ করেছেন চুক্তির ভিত্তিতে। তার পর চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তোলায় তাঁদের চাকরি যায়। তার পর একের পর এক নিয়োগ হয়েছে। তাঁরা অবশ্য কাজে ফিরতে পারেননি। এ বিষয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও করেছেন।

স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে তন্ময় উল্লেখ করেছেন দরপত্র দুর্নীতির কথা। আঙুল তুলেছেন প্রিয়দর্শিনীর দিকে। বিভিন্ন সময়ে সংসদের বিভিন্ন কার্যালয়ে রক্ষণাবেক্ষণ বা সৌন্দর্যায়নের কাজে তাঁর পছন্দের ব্যক্তিদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সংসদের চারতলার রক্ষণাবেক্ষণেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। তন্ময়ের অভিযোগ, ক্যান্টিনে প্রায় ১ কোটি টাকার বিল হয়েছে। ২০২৪ সালে যে সংস্থাকে ক্যান্টিনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই সংস্থার দরপত্রেও নিয়মভঙ্গ করা হয়েছে বলে দাবি।

২০২৫ নাগাদ তৎকালীন সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ই-টেন্ডার চালু করার চেষ্টা করেন। চলতি বছর মার্চে পার্থ কর্মকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ই-টেন্ডার চালু হয়।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটে জিতে রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তার পরই বিদায়ী সরকারের মনোনীত আধিকারিকদের পদ ছাড়তে বলা হয়। পদ যায় প্রিয়দর্শিনীরও। তার পর থেকে পুরনো ফাইল নাড়াঘাঁটা শুরু হয়েছে।

তন্ময়ের অভিযোগের পর সংসদের ক্যান্টিন নিয়ে নানা অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। সংসদের অন্দরের খবর, কোনও অনুষ্ঠানে দু’শো জনের উপস্থিতি থাকলে বরাত দেওয়া হত প্রায় ৫০০ জনের। সেই পরিমাণ খাবার তৈরিই হত না। এ ভাবে সব কিছুতেই বাড়তি বরাত দিয়ে ক্যান্টিন চালানো সংস্থাকে টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তন্ময় বলেন, ‘‘আমি স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীকে বিশদে জানিয়েছি। অনুরোধ করেছি যেন এই সব বিষয় নিয়ে সঠিক ভাবে তদন্ত করা হয়।”

তবে প্রিয়দর্শিনী বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে এই সব অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন। কারণ, আমি অ্যাপ্রুভিং অথরিটি ছিলাম না। আমি চাই রাজ্য সরকার সংসদের সব কিছু নিয়ে তদন্ত করুক। সংসদের ভিতরে ঢুকে সরকার দেখুক কী অবস্থা হয়ে রয়েছে।’’

WBCHSE 2026

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy