Advertisement
E-Paper

বিদেশে পড়াশোনার খরচ বাড়তে চলেছে, আর্থিক সঙ্গতির প্রমাণ না থাকলে বাতিল হতে পারে ভিসাও

এ দেশের পড়ুয়ারা ভিন্‌ দেশে পাড়ি দিতে চান উচ্চশিক্ষার জন্য। কিন্তু যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া দরকার, ২০২৬-এ ভিসার আবেদনের বিধিতে কতটা রদবদল হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৭

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

নতুন শিক্ষাবর্ষে বিদেশে পড়াশোনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন? পড়ুয়াদের ভিসার আবেদন নিয়ে কড়াকড়ি বেড়েছে বিভিন্ন দেশে। কোথাও ভিসা ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে, কোথাও আর্থিক সঙ্গতির প্রমাণ হিসাবে ব্যাঙ্কে জমা অর্থের পরিমাণও বাড়িয়েছে কিছু দেশ। প্রস্তুতির আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন, কোন নিয়মে বদল হল।

সাধারণত বিদেশে গিয়ে পড়াশোনার জন্য কোন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করতে চান, কী ভাবে পড়াশোনার খরচ বহন করবেন, কোথায় থাকবেন— সেই সব তথ্য জমা দিতে হয়। পাশাপাশি, আবেদনের জন্য ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণপত্র হিসাবে বিশেষ প্রবেশিকার স্কোরও জানাতে হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের তরফে এই সব ক্ষেত্রেই নিয়মের রদবদল করা হয়েছে।

ব্যাঙ্কে জমার অঙ্ক বৃদ্ধি

  • কানাডায় গিয়ে যাঁরা পড়াশোনা করতে চাইছেন, তাঁদের বর্তমানে ক্যাড ২২,৮৯৫ (ভারতীয় মুদ্রায় ১৪-১৫ লক্ষ টাকা) ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স হিসাবে দেখাতে হবে। প্রতি মাসে ক্যাড ২,২৬০ খরচ করার আর্থিক সঙ্গতি থাকা চাই পড়ুয়ারা। আগে কানাডায় গিয়ে থাকার খরচ হিসাবে ক্যাড ২০,৬৩৫ থাকলেই চলত।
  • অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার জন্য পড়ুয়াদের কাছে ওই খাতে ভারতীয় মুদ্রায় ১৭ লক্ষ টাকা থাকতে হবে। থাকা-খাওয়ার খরচ হিসাবে মাসে ১ থেকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার আর্থিক সঙ্গতি থাকা প্রয়োজন। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত পড়ুয়াদের ১৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার কাছাকাছি ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স-এর প্রমাণপত্র জমা দিতে হত।
  • অভিবাসন নীতিতে বদলের পরে আমেরিকায় থেকে পড়াশোনার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে দেশে গিয়ে ভারতীয় পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষা খাতে বছরে ২৩ লক্ষ টাকা খরচ করার আর্থিক সঙ্গতি থাকা প্রয়োজন। প্রতি মাসে সেই খরচ ২ লক্ষ টাকা থেকে ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এর আগে পড়ুয়াদের ১১ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক সঙ্গতির প্রমাণ দিতে হত।
  • বিট্রেনের ক্ষেত্রে লন্ডনে থেকে পড়াশোনার জন্য ১ হাজার ৫০০ পাউন্ড স্টার্লিং প্রতি মাসে খরচ করতে হয়। লন্ডন ছাড়া অন্য কোনও শহরের ক্ষেত্রে ওই খরচ ১ হাজার ১৭১ পাউন্ড স্টার্লিং পর্যন্ত হতে পারে। ২০২২-এর দোরগোড়ায় মাসে ৯৬ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করার আর্থিক সঙ্গতির প্রমাণ দিতে হত পড়ুয়াদের।
  • চিনে থাকা খাওয়ার জন্য প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ করতে হতে পারে। তবে বেজিং-এর মতো শহরে থেকে ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে ৬০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২০২৫-এর পর থেকে ওই খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • এ ক্ষেত্রে নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ওই অর্থ থাকা প্রয়োজন। স্বল্প সময়ের চুক্তিতে চাকরি না করেই নিজের খরচ চালাতে পারবেন কিনা, তার যথাযথ প্রমাণপত্র জমা দিতে না পারলে আবেদন বাতিলও হতে পারে।

ভিসার আবেদনমূল্য বৃদ্ধি

  • অস্ট্রেলিয়া ভিসা ফি-র জন্য বর্তমানে ১,৬০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ধার্য করেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১ লক্ষ ০৮ হাজার ৪৫০ টাকা। এর আগে ভিসার আবেদনমূল্য হিসাবে ৭১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার অর্থাৎ ৪৮ হাজার ১১৬ টাকা দিতে হত। আন্তর্জাতিক স্তরে ভিসার জন্য সর্বাধিক আবেদনমূল্য অস্ট্রেলিয়ার তরফেই ধার্য করা হয়েছে।
  • আমেরিকায় ‘ভিসা ইন্টিগ্রিটি ফি’ হিসাবে ২৫০ ডলার দিতে হবে, ভারতীয় মুদ্রায় ২৩,৬৩২ টাকা। এ ছাড়াও ভিসার আবেদনমূল্য হিসাবে ৫৩৫ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা) খরচ করতে হবে। আগে ভিসার আবেদনমূল্য হিসাবে ৫১০ ডলার অর্থাৎ ৪৮ হাজার ২১২ টাকা টাকা দিতে হত।
  • বিট্রেনে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দিতে আগ্রহীদের ভিসার আবেদনের জন্য আগে ৩৬ হাজার টাকা থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ করতে হত। ২০২৬-এ আবেদনমূল্য হিসাবে ৬৮ হাজার টাকা থেকে ৭৩ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের ইমিগ্রেশন হেলথ সার্চার্জেস হিসাবে আরও ৭৭৬ পাউন্ড স্টার্লিং অর্থাৎ ৯৯ হাজার ১৪৯ টাকা প্রতি বছর জমা দিতে হবে।
  • চিনে পড়াশোনা করতে আগ্রহীদের ভিসার আবেদনের জন্য ২,৯০০ টাকা থেকে ৪,৪২৫ টাকা খরচ করতে হত। এখন সেই খরচ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৭ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা।
  • কানাডার ক্ষেত্রে অবশ্য এই খাতে খরচ বৃদ্ধি পায়নি।

তবে, অন্যান্য ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে বিভিন্ন দেশে। যে বিষয় নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন, তার সঙ্গে বর্তমান শিক্ষাগত যোগ্যতার কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে অন্য কোনও বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন পেশাগত দিক থেকে কোনও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে কিনা, তাও যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তাই শুধুমাত্র পছন্দের বিষয় বেছে নিলেই চলবে না। কেন সেই বিষয়টি বেছে নিচ্ছেন, তা আদতে যুক্তিযুক্ত কিনা— সেই ব্যাখ্যাও দিতে হবে।

এ ছাড়াও দীর্ঘ সময় পর পড়াশোনা শুরু করছেন, এমন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সব ধরনের নথি যাচাই করা হবে। এ ক্ষেত্রে পূর্বে কোনও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর নাম নথিভুক্ত রয়েছে কিনা, কিংবা বিদেশে যাওয়ার অনুমতি তিনি আবার পাবেন কিনা— তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধুমাত্র পড়াশোনার জন্য, নাকি পড়াশোনার পর সেখানেই চাকরি করবেন তা খতিয়ে দেখে ভিসা মঞ্জুর করা হয়। সেই অনুযায়ী আবেদন না করলে পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার অনুমোদনও হাতছাড়া হতে পারে।

Student Visa Rules Abroad Education
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy