অকারণে কেটে নেওয়া টাকা ফেরত দেবে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। পড়ুয়া ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে এমনই বার্তা দিয়েছে বোর্ড। সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপি দেখতে চাওয়া নিয়ে নানা অভিযোগে জর্জরিত বোর্ড।
বহু পরীক্ষার্থীই অভিযোগ তোলেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়ার পরও পোর্টালে তা দেখাচ্ছে না। বরং টাকা জমা দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ফলে আবেদন প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না। এরই প্রেক্ষিতে পদক্ষেপ করল বোর্ড।
অভিযোগ উঠেছিল, কোনও কোনও পরীক্ষার্থীর থেকে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, অভিযোগ ছিল ওয়েবসাইট নিয়েও। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ‘স্ক্রিনশট’-এ দেখা গিয়েছিল, আবেদনমূল্য কখনও ১ টাকা, কখনও ৬৯.৬৭ টাকা, আবার কোনও ক্ষেত্রে ৮,০০০ টাকা বা প্রতি বিষয়ে ৬৯,৪২০ টাকা পর্যন্তও কাটা হবে বলে লেখা।
আবার কোনও কোনও পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, একাধিক বার টাকা জমা দেওয়ার পরও আবেদনমূল্য জমা পড়েনি বলে দাবি করা হয়েছে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে খাতাও দেখা যায়নি। বোর্ডের হেল্পলাইন বা টেলি-কাউন্সেলিং সার্ভিস থেকেও এই অর্থপ্রদান প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ দেখানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কোনও সঠিক সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না বলেই জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।
এ সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে বোর্ডের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে, যে সকল পড়ুয়ার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে তাঁদের সে টাকা ফেরত দেবে বোর্ড। যে পদ্ধতিতে পড়ুয়ারা টাকা জমা দিয়েছেন, সেই পদ্ধতিতেই অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হবে। বোর্ড আরও জানিয়েছে, যে সব ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে কম টাকা কাটা হয়েছে, প্রয়োজন হলে তাঁদের বাকি টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে আলাদা করে জানানো হবে।
আরও পড়ুন:
এ সংক্রান্ত নির্দেশের তথ্য সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ভাবে পাঠানো হবে। টাকা জমা না পড়ার কারণে কোনও আবেদন প্রক্রিয়া যদি ‘পেন্ডিং’ দেখায় তাঁদের আর নতুন করে আবেদন না করার পরামর্শ দিয়েছে সিবিএসই।
বোর্ডের তরফে ছাত্রছাত্রীদের বার বার ‘পেমেন্ট’ বা আবেদন করার চেষ্টা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এতে ডুপ্লিকেশন বা আরও দেরি হতে পারে বলেই মনে করছে সিবিএসই। এ ছাড়াও সমাজমাধ্যমে ছড়ানো কোনও গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র বোর্ডের বার্তার উপর ভরসা রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, আবেদনমূল্য হিসাবে বেশি বা কম যে টাকাই কাটা হোক না কেন পড়ুয়াদের কাছে, আবেদনকারীরা সকল পড়ুয়াই খাতার প্রতিলিপি দেখতে পারবেন বলেই জানিয়েছে বোর্ড।