Advertisement
E-Paper

কৃত্রিম মেধা, যোগ ও যোগ্য সঙ্গী! কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাজ্যপাল দেখালেন নব ভারতের দিশা

বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, রাজ্যপাল আরএন রবির ভাষণের অধিকাংশ জুড়েই ছিল বাঙালি মনীষীদের কথা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, ঋষি অরবিন্দের কথাও বলেন তিনি। এমনকি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একজন যোগ্য জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার পরামর্শও দেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১৯:১৬
নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব চিত্র।

দীর্ঘ ছয় বছর বাদে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হল সমাবর্তন। নবনিযুক্ত রাজ্যপাল, আচার্য আরএন রবির হাত থেকে শংসাপত্র পেলেন প্রায় ১১০০ পিএচডি ডিগ্রি প্রাপক। আর সেখানেই উঠে এল গত কয়েক বারের সমাবর্তনের প্রসঙ্গ। অভিযোগ উঠেছিল, ডিগ্রি প্রাপকেরা যথেষ্ট সম্মানের সঙ্গে শংসাপত্র পাননি মঞ্চে। এ বার অন্য রকম সমাবর্তন।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে আশুতোষ শতবার্ষিকী সভাঘরে সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়। গোটা অনুষ্ঠানের অনেকাংশেই উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসঙ্গ। এ দিন দীক্ষান্ত ভাষণ করেন আইআইটি, খড়্গপুরের অধিকর্তা সুমন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনায় এক নবজাগরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বাংলা একদিন বিশ্বকে স্বাধীন চিন্তার পথ দেখিয়েছে। আজ আবার সময় এসেছে সেই চিন্তনে নতুন আলোক স্ফূরণের। যেখানে প্রশ্ন হবে সাহসী, জ্ঞানে ফুটুক মানবতার আলো।”

এ বছর ডিএসসি দেওয়া হয় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বিজ্ঞানী বিজয় পাণ্ডুরঙ্গ ভক্তকরকে। ডিলিট দেওয়া হয় কবি রণজিৎ দাস এবং শিক্ষাবিদ ফাদার থমাসকে। এ ছা়ড়াও, ভুবনমোহিনী দাসী পুরস্কার, জগত্তারিণী পুরস্কারের পাশাপাশি তুলে দেওয়া হয় আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, সরোজিনী বসু, স্যার দেবপ্রসাদ সর্বাধিকারী প্রমুখের নামাঙ্কিত পুরস্কারও প্রদান করা হয়।

আচার্যের ভাষণে রাজ্যপাল তুলে আনেন নতুন ভারতের প্রসঙ্গ। তিনি দাবি করেন, “২০৪৭-এর মধ্যে ভারত আবার বিশ্বসভা শ্রেষ্ট আসনে অধিষ্ঠান করবে। বিজ্ঞান, গবেষণা ও মেধার ক্ষেত্রে উচ্চ স্থানে থাকবে ভারত।” তাঁর ভাষণের অধিকাংশ জুড়েই ছিল বাঙালি মনীষীদের কথা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ‘বন্দেমাতরম’ দিয়ে শুরু হয়ে রাজ্যপালের ভাষণে উঠে আসে রবীন্দ্রনাথের কাব্যপ্রতিভা, বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণ এবং ঋষি অরবিন্দের কথাও। রাজ্যপাল দাবি করেন, “২০০০ বছর ধরে ভারত চিকিৎসায়, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতিতে সারাবিশ্বে প্রথম ছিল। তখন আমেরিকা, ইংল্যান্ড ছিল না। উনিশ শতকের পর থেকেই ভারতের স্থান অন্য দেশগুলির পিছনে চলে যেতে শুরু করে।” এ দিনের ভাষণে রাজ্যপাল স্বপ্ন দেখান ২০৪৭-এর।

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, “২০৪৭-এ একটা প্রশ্ন উঠবে, আর সেই প্রশ্নের উত্তরও থাকবে নতুন প্রজন্মের কাছে। প্রশ্ন করা হবে, নতুন গৌরবোজ্জ্বল ভারতের জন্য আমি কী করেছি?” কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও মেশিন লার্নিং-এর অগ্রগতি ছুঁয়েও রাজ্যপাল উল্লেখ করেন যোগাভ্যাসের প্রয়োজনীয়তার কথা। এমনকি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একজন যোগ্য জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়ার পরামর্শও দেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের।

Calcutta University Convocation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy