কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি হোক বা দক্ষ ব্যবস্থাপক হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা, প্রয়োজন পড়ে এমবিএ ডিগ্রি। এমবিএ-র জন্য দেশের নানা আইআইএম বা অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন অনেকেই। সাধ বা সাধ্য থাকলে অনেকেই পাড়ি দিতে চান আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ বা এশিয়ার কোনও দেশে। কী ভাবে বিদেশ থেকে এমবিএ ডিগ্রি নিয়ে আসা যায়, রইল তারই খুঁটিনাটি—
বিদেশে এমবিএ করলে কী এমন বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়?
১। ভিন্দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ভিড় করে, ফলে পরিচিতি এবং সুযোগের পরিসর বৃদ্ধি পায়। নানা দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা যায়। যোগাযোগের ক্ষেত্র বাড়ায় চাকরি পেতে বা নিজেদের ব্যবসায়িক উদ্যোগেও তা অনেক সাহায্য করে।
২। এমন বেশ কিছু বিষয়ে এমবিএ করা যায়, যা দেশের সম্ভব নয়। পাশাপাশি, বেশ কিছু সংস্থায় প্রবাসের নামী প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যক্রম এবং পঠনপাঠনের গ্রহণ যোগ্যতা বেশি থাকে।
৩। বিদেশি ডিগ্রি থাকলে দেশে ফিরে কাজের বাজারে প্রতিযোগিতায় অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে, বেতন বৃদ্ধিতেও সহায়ক হয়।
৪। একই ভাবে বিদেশে চাকরির সুযোগও বৃদ্ধি পায় এ জন্য।
প্রয়োজনীয় যোগ্যতা—
শিক্ষাগত:
আগ্রহীদের যে কোনও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতকে ন্যূনতম ৫০-৬০ শতাংশ নম্বর থাকতে হয়। স্নাতকের পাঠক্রমের মেয়াদ হতে হয় তিন বা চার বছরের।
পেশাগত:
বিদেশের বেশির ভাগ জায়গায় এমবিএ-র জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন। দেশ এবং প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করে ন্যূনতম দুই থেকে পাঁচ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা জরুরি।
আরও পড়ুন:
প্রবেশিকা:
বিদেশি প্রতিষ্ঠানে এমবিএ করার জন্য ইচ্ছুক ব্যক্তিদের গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট (জিম্যাট) বা গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এগ্জ়ামিনেশন (জিআরই)-তে উত্তীর্ণ হতে হয়। নামী প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তির জন্য জিম্যাট স্কোর ৬০০ বা ৭০০ বেশি থাকা প্রয়োজন।
ভাষার দক্ষতা পরীক্ষা:
বিদেশের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে যে হেতু ইংরেজিতেই পঠনপাঠন হয়, তাই যাচাই করা হয় আবেদনকারীদের ভাষার উপর দক্ষতা। এ জন্য তাঁদের আইইএলটিএস-এ ৬.৫-৭ এর বেশি বা টোয়েফেল-এ ৯০ থেকে বেশি স্কোর থাকতে হয়। এ ছাড়া জানতে হয় স্থানীয় ভাষাও।
প্রয়োজনীয় নথি:
কোর্সে ভর্তির আবেদনের জন্য বেশ কিছু নথি জমা দিতে হয় আগ্রহীদের। তিনি কেন এমবিএ করতে চান এবং কেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে ইচ্ছুক, তা লিখে একটি ‘স্টেটমেন্ট অফ পারপাস’ জমা দিতে হয়। পাশাপাশি, কলেজ বা কর্মক্ষেত্রের উর্ধ্বতনের কাছ থেকে দুই থেকে তিনটি সুপারিশপত্র জমা দিতে হয়। প্রয়োজন সাম্প্রতিক জীবনপঞ্জির একটি নমুনা।
আর্থিক ক্ষমতা:
কোর্সের মেয়াদ সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছরের হতে পারে। বিদেশে এমবিএ করা যে হেতু ব্যয়বহুল, তাই আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট এবং ঋণ নিয়ে থাকলে সেই নথি জমা দিতে হয়।
নামী প্রতিষ্ঠান—
২০২৬-এর কিউএস তালিকা অনুযায়ী প্রথম দশে রয়েছে —
১। দি ওয়ার্টান স্কুল, আমেরিকা।
২। হার্ভার্ড বিজ়নেস স্কুল, আমেরিকা।
৩। এমআইটি সোলান স্কুল অফ ম্যানেজমেন্ট, আমেরিকা।
৪। স্ট্যানফোর্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অফ বিজ়নেস, আমেরিকা।
৫। এইচইসি প্যারিস বিজ়নেস স্কুল, ফ্রান্স।
৬। লন্ডন বিজ়নেস স্কুল, ইংল্যান্ড।
৭। কেমব্রিজ জাজ বিজ়নেস স্কুল, আমেরিকা।
৮। ইনসিড, ফ্রান্স।
৯। কেলগ স্কুল অফ ম্যানেজমেন্ট, আমেরিকা।
১০। কলম্বিয়া বিজ়নেস স্কুল, আমেরিকা।