Advertisement
E-Paper

ডিম খাওয়ানো যায়নি বেশির ভাগ পড়ুয়াকে! প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবকেই দায়ী করছে স্কুলগুলি

বাকি জেলাগুলিতে এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু কেন? স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলাশাসক ও অতিরিক্ত জেলাশাসকের তরফে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ফলে পৌরসভা বা পঞ্চায়েতের মাধ্যমে স্কুলগুলিতে টাকা পৌঁছায়নি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৮:০৮
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

হাতে ছিল এক মাসের বেশি সময়। ১২টি ডিম খাওয়ানোর কথা ছিল পড়ুয়াদের। সম্ভব হয়নি। আর তার কারণ হিসাবে প্রশাসনের দিকেই আঙুল তুলেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাজ্য শিক্ষা দফতরের অধীন মিড-ডে মিল বিভাগের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয় স্কুলের প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক পড়ুয়াদের দুপুরের খাবারে দিতে হবে ১২টি অতিরিক্ত ডিম অথবা মরসুমি ফল।

কিন্তু হিসাব বলছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত মাত্র চারটি জেলায় এই কর্মসূচি সফল করা সম্ভব হয়েছে। কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পড়ুয়ারা অতিরিক্ত ডিম ও ফল পেয়েছে মধ্যাহ্ন ভোজনে।

বাকি জেলাগুলিতে এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু কেন? স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলাশাসক ও অতিরিক্ত জেলাশাসকের তরফে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। ফলে পৌরসভা বা পঞ্চায়েতের মাধ্যমে স্কুলগুলিতে টাকা পৌঁছায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমগ্র শিক্ষা মিশনের এক আধিকারিকও জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতে যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল, তা কার্যকর করতে হলে জেলাশাসক ও অতিরিক্ত জেলাশাসকদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা প্রয়োজন ছিল। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ীই বরাদ্দ টাকা স্থানীয় পঞ্চায়েত বা পৌরসভার মাধ্যমে স্কুলগুলির কাছে পৌঁছবে। এ ক্ষেত্রে বহু জেলা বিজ্ঞপ্তি না প্রকাশ করায় পড়ুয়াদের অতিরিক্ত ডিম ও ফল দেওয়া সম্ভব হয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে।

উত্তর ২৪ পরগনা নারায়ণদাস বাঙ্গুর স্কুলের প্রধানশিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন, “মার্চ মাস থেকেই অতিরিক্ত ডিম ও ফল খাওয়ানোর জন্য তৈরি ছিলাম আমরা। কিন্তু প্রশাসন উদ্যোগী নয়। ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় রয়েছে। ৯ মার্চ পর্যন্ত কোনও নির্দেশিকা পাইনি। এর পর নানা রকম ছুটি রয়েছে স্কুলে। কবে ১২টি অতিরিক্ত ডিম খাওয়ানো হবে?”

দমদমের ঋষি অরবিন্দ বিদ্যামন্দির স্কুলের প্রধানশিক্ষক অসীমকুমার নন্দ বলেন, “কবে পড়ুয়াদের কী খাওয়াতে হবে তা পৌরসভা থেকে তালিকা করে দেওয়া হয়। কিন্তু অতিরিক্ত ডিম খাওয়ানোর বিষয়ে এখন‌ও পর্যন্ত কোন‌ও নির্দেশ আসেনি। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী স্কুলে আসতে পারে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।”

মার্চে তিনটি সপ্তাহ বাকি রয়েছে। তার মধ্যে ১৭ মার্চ হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিন, ২০ ও ২১ মার্চ ইদ, ২৬ মার্চ রামনবমী, ,৩১ মার্চ মহাবীর জয়ন্তী উপলক্ষে ছুটি রয়েছে। কোনও কোনও স্কুলে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ১ কোটি ১১ লক্ষ পড়ুয়ার কাছে মিড-ডে মিলে অতিরিক্ত ডিম ও ফল পৌঁছনোর কথা। এখন‌ও পর্যন্ত সমস্ত জেলা মিলিয়ে ৭৪ লক্ষ ৭৫ হাজার পড়ুয়াকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যা মোট পড়ুয়ায় ৬৭ শতাংশ।

mid-day meal
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy