Advertisement
E-Paper

প্রাচীন পাণ্ডুলিপির হুবহু প্রতিলিপি তৈরি করবে কৃত্রিম মেধা! এশিয়াটিক সোসাইটির ‘অনুকৃতি’ দেখাচ্ছে পথ

প্রাচীন নথি, পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের কাজে কৃত্রিম মেধা, মাল্টিস্পেকট্রাল ইমেজ-এর মতো প্রযুক্তির সঙ্গে গতানুগতিক পদ্ধতির ব্যবহারও করবে এশিয়াটিক সোসাইটি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:২৯

নিজস্ব চিত্র।

প্রাচীন পুঁথি বা পাণ্ডুলিপির সংরক্ষণেও সাহায্য করছে কৃত্রিম মেধা। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছবি তুলে নথি সংরক্ষণের পাশাপাশি, প্রতিলিপি তৈরি করে পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের পথে এগোতে চাইছে এশিয়াটিক সোসাইটি। ১৫ জানুয়ারি এশিয়াটিক সোসাইটি-র ২৪৩তম প্রতিষ্ঠা দিবসে তেমনই একটি পুঁথির প্রতিলিপি কর্তৃপক্ষ তুলে দিলেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি এবং পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্র সিংহ শেখাওয়াতের হাতে।

জানা গিয়েছে, বহু প্রাচীন, প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপি বা নথি অপটিক্যাল ক্যারেক্টর রেকগনিশন (ওসিআর) পদ্ধতিতে স্ক্যান করে বা হ্যান্ডরিটেন টেক্সট রেকগনিশন (এইচটিআর) পদ্ধতি পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। ওই পদ্ধতিতে ভারতীয় ভাষায় ব্যবহৃত হওয়া লিপি চিহ্নিত করা সম্ভব। এরই সঙ্গে লিথোগ্রাফি (আলোর সাহায্যে সিলিকন ওয়েফারের উপর মাইক্রোস্কপিক সার্কিটে ছাপানোর পদ্ধতি), থ্রিডি প্রিন্টিং-এর কৌশল যোগ করে পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি তৈরির কাজ চলছে।

পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি এবং পর্যটন মন্ত্রী।

পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি খতিয়ে দেখছেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি এবং পর্যটন মন্ত্রী। নিজস্ব চিত্র।

কাগজ, তালপাতা এবং ভূর্জপত্রে ওই প্রতিলিপি ছাপানো হবে। মূলত প্রাচীন নথি, পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এই বিশেষ পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এই কাজে প্রযুক্তিগত সহায়তা করেছেন সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং (সিড্যাক) এবং আইআইটি খড়্গপুরের বিশেষজ্ঞেরা।

দেশের প্রথম কৃত্রিম মেধা চালিত পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি তৈরি হচ্ছে কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতেই। এই কর্মকাণ্ডের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অনুকৃতি’। কৃত্রিম মেধা, অ্যাডভান্সড ইমেজিং প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে পাঠযোগ্য নয়, এমন পাণ্ডুলিপি এবং নথির পাঠোদ্ধার করা হচ্ছে। তারই সঙ্গে ওই সব পাণ্ডুলিপি গঠন, আকার হুবহু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে দেখে মনে হয় যেন প্রাচীন অবিকৃত পুঁথিই।

কৃত্রিম মেধার সাহায্যে তৈরি প্রথম পুঁথির প্রতিলিপি।

কৃত্রিম মেধার সাহায্যে তৈরি প্রথম পুঁথির প্রতিলিপি। ছবি: এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে সংগৃহীত।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হাতে যে পাণ্ডুলিপির অনুকৃতি তুলে দেওয়া হয়েছে, তা ভাস্করাচার্য রচিত ভারতীয় গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক সংস্কৃত পুঁথি— ‘সিদ্ধান্ত শিরোমণি’। আনুমানিক ১১৫০ খ্রিস্টাব্দে লিখিত।

পাণ্ডুলিপি এবং দুস্প্রাপ্য নথি সংরক্ষণ, প্রাচীন লিপির পাঠোদ্ধার বিষয়ে গবেষণা বা কৃত্রিম মেধার সাহায্যে পুঁথি সংরক্ষণের কাজে এশিয়াটিক সোসাইটিকে সহযোগিতা করতে চলেছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইআইটি খড়্গপুরও।

AI Model 3D Printing Manuscript Restoration Cloning Research Work
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy