দ্বাদশের পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করে পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষা। সেই ফলাফল ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে পড়ুয়ারা জানাচ্ছেন, তাঁদের দেখানো হচ্ছে অন্যের খাতা। আবার কারোর কাছে পুরো খাতার সঠিক প্রতিলিপি পৌঁছয়নি। ঘটনার দায় স্বীকার করে নিয়েছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। অভিযোগকারী পড়ুয়াদের কাছে ই-মেল মারফত সঠিক খাতার প্রতিলিপিও পাঠানো হয়। পড়ুয়াদের যাবতীয় অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
যদিও এতেই তাতে স্বস্তি নেই পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের। ফলপ্রকাশে জানা গিয়েছে, ৮৮.৩১ শতাংশ থেকে ৮৫.২০ শতাংশে নেমেছে পাশের হার। দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের উপর ভিত্তি করেই পড়ুয়ারা কলেজে ভর্তি হওয়ার আবেদন জমা করেন। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, সিবিএসই-র ফলপ্রকাশের পর উত্তরপত্র নিয়ে সমস্যা শুরু হওয়ায় সেই প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। অনেকে আবার কলেজে ভর্তি হতে গিয়েও দ্বাদশে প্রাপ্ত নম্বর জমা দেওয়ার বিষয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন, যে হেতু উত্তরপত্রের পুনর্মূল্যায়ন হতে এখনও সময় লাগবে।
দ্রুত এবং স্বচ্ছতা ভাব ফলপ্রকাশের লক্ষ্যেই চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে সিবিএসই অন স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম (ওএসএম) পদ্ধতিতে মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করে। সেই মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ, যাতে দ্রুত খাতা দেখা সম্ভব হয়, তাই কম সময়ের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ডিজিটাল মূল্যায়ন সংক্রান্ত কাজের প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করা হয়েছিল। যদিও কী ভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, কতদিন আগে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল, কারা প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন— সে সংক্রান্ত কোনও তথ্যই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক কিংবা সিবিএসই-র তরফে বিশদে জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ, একটি বেসরকারি সংস্থা বেআইনি ভাবে চুক্তির ভিত্তিতে ওই মূল্যায়ন ব্যবস্থা পরিচালনা করেছিল। যদিও সেই দাবি নস্যাৎ করেছে সিবিএসই। এক্স হ্যান্ডেল মারফত বোর্ড জানিয়েছে, আইন মেনেই ডিজিটাল মূল্যায়নের জন্য সেন্ট্রাল পাবলিক প্রোকিয়োরমেন্ট পোর্টাল মারফত দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। সেই অনুযায়ীই বৈধ সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।
তবে, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন শিক্ষামহলের একাংশ। তাঁদের দাবি, পরীক্ষার খাতায় কী ধরনের কালি দিয়ে উত্তর লিখতে হবে, সেই নির্দেশিকা কি আদৌ বোর্ডের তরফে পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছিল? যদি তা না দেওয়া হয়ে থাকে, তা হলে বুঝতে হবে খাতা স্ক্যান করতে কী কী সমস্যা হতে পারে, তা আগে থেকে ওই সংস্থা জানায়নি বোর্ডকে। কেন জানানো হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এ ছাড়াও অভিভাবকদের একাংশ দাবি করছেন, খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত জটিল প্রক্রিয়ায়ও সমস্যার কারণ হচ্ছে। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পরও সঠিক খাতার প্রতিলিপি পাচ্ছেন না পরীক্ষার্থীরা। তাঁদের প্রশ্ন, একের পর এক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করছেন খাতা বদলে যাওয়ার। সে সব দায় স্বীকার করলেও ঘটনার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা কেন দিচ্ছে না বোর্ড? সমাজমাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ-অনুযোগের উত্তর দিলেও আবেদনকারীদের খাতা কী ভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, সেই সম্পর্কেও যথাযথ তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি বোর্ড।