Advertisement
E-Paper

যাচাই না করে সিবিএসই-র খাতা দেখার দায়িত্ব বিতর্কিত সংস্থাকে! রাহুলের প্রশ্নের কী উত্তর দিল বোর্ড?

সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে রাহুল জানতে চেয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক কি তবে যাচাই না করেই এত বড় একটা দায়িত্ব দিয়ে দিল? যে সিদ্ধান্ত লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে পারে!

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ১১:১১
সিবিএসই-র খাতা দেখার সঙ্গে জড়িয়ে ‘বিতর্কিত সংস্থা’! রাহুল গান্ধীর প্রশ্নের জবাব দিল বোর্ড।

সিবিএসই-র খাতা দেখার সঙ্গে জড়িয়ে ‘বিতর্কিত সংস্থা’! রাহুল গান্ধীর প্রশ্নের জবাব দিল বোর্ড। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার খাতা দেখার দায়িত্ব যে সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল, সেই কোএম্পট এডুটেকের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাহুল গান্ধী। সিবিএসই-র কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ওই সংস্থাকে কি কোনও বিশেষ কারণে খাতা দেখার বরাতটি ঘুরপথে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে? যুক্তি হিসাবে রাহুল বলেছিলেন, এর আগে নাম বদলে তেলেঙ্গানায় একই কাজ করেছিল সংস্থাটি আর সেখানেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে রাহুল জানতে চেয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক কি তবে যাচাই না করেই এত বড় একটা দায়িত্ব দিয়ে দিল সংস্থাটিকে? বিশেষ করে যে সিদ্ধান্ত লাখ লাখ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যত নির্ধারণ করতে পারে! রাহুলের সেই সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিয়েছে সিবিএসই।

সমাজমাধ্যমে তোলা প্রশ্নের উত্তর সিবিএসই দিয়েছে সমাজমাধ্যমেই। রাহুলের প্রশ্নের জবাবে তারা লিখেছে, ‘‘কোএম্পট এডুটেক সংসথাকে সিবিএসই দ্বাদশের ওএসম পদ্ধতিতে খাতা দেখার বরাত দেওয়া যে অভিযোগ করা হয়েছে তা অস্বীকার করছে সিবিএসই। অভিযোগটি শুধু ভিত্তিহীন নয়, তা বিভ্রান্তিকরও বটে। সিবিএসই দ্বাদশের খাতা দেখার বরাত দেওয়ার জন্য সিবিএসই যে সাধারণ অর্থনৈতিক বিধি, তা অনুসরণ করেছে। সমস্ত নিয়মও অক্ষরে অক্ষরে মেনেছে।’’ রাহুলের অভিযোগ ছিল ঘুরপথে ওই সংস্থাকে বরাত পাইয়ে দেওয়ার। সেই অভিযোগ খারিজ করে সিবিএসই জানিয়েছে, সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় খাতা দেখার বরাত দেওয়ার আগে সেন্ট্রাল পাবলিক প্রোকিওরমেন্ট পোর্টাল-এ ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৮ অগস্ট। অর্থাৎ পরীক্ষা শুরু হওয়ার সাড়ে ৫ মাস আগে। যে সংস্থা উপযুক্ত দর হেঁকেছে, তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও রাহুলের বক্তব্য, সিবিএসই-র এই উত্তর তাঁর সবক’টি প্রশ্ন এবং সন্দেহের নিরসন করেনি।

রাহুল সিবিএসই-র ওই উত্তর নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ট্যাগ করে লিখেছেন, ‘‘আমি চারটে প্রশ্ন করেছিলাম, সিবিএসই তার উত্তর না দিয়ে কেবল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যেখানে সাড়ে ১৮ লক্ষ ছাত্রের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে, সেখানে পরীক্ষার্থীরা এইটুকু সত্যিকথা আশা করতেই পারে।’’ রাহুল গোটা বিষয়টির তদন্ত করে দেখার দাবি তুলে বলেছেন, কেন্দ্রের উচিত বিশেষ তদন্ত দল বা এসআইটি গঠন করে ওই সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখা।

কোএম্পট এডুটেককে বিতর্কিত কেন বলছেন রাহুল?

কেএম্পট এডুটেক এর আগেও পরীক্ষার খাতা দেখা নিয়ে এমনই বিতর্কে জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল। তাঁর বক্তব্য এই কোএম্পট এডুটেক সংস্থার নাম আগে ছিল গ্লোবারেনা টেকনোলজিস। ২০১৯ সালে তেলেঙ্গানায় ইন্টারমিডিয়েট বোর্ডের ইন্টারমিডিয়েট (প্লাস টু) পরীক্ষায় খাতা দেখার দায়িত্বে ছিল তারা। আর সেখানেও খাতা দেখার ক্ষেত্রে কিছু অনিয়মের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে যা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, ওই সংস্থার সিইও ভিএসএন রাজুর সঙ্গে উপর মহলের বিশেষ যোগাযোগ থাকার কারণেই তারা ওই বরাত পেয়েছে। যদিও কেএম্পট-এর সিইও এবং সিবিএসই সেই অভিযোগ খারিজ করেছে।

কেএম্পট-এর বক্তব্য কী?

কেএম্পট সংস্থার প্রধান রাজু জানিয়েছেন, সিবিএসই-র পরীক্ষার খাতা দেখার বরাত পেয়েছেন তাঁরা প্রযুক্তিগত যোগ্যতা প্রমাণ করার পরে। এ ছাড়াও দর দেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা কম পরিষেবা মূল্য রেখেছিল বলে ওই বরাত পেয়েছে তারা। এমনকি, সিবিএসই-র দ্বাদশের পরীক্ষার খাতা ডিজিটালি দেখার দায়িত্বে চেয়ারম্যান হিসাবে এক জন খ্যাতনামী শিক্ষাবিদ সদগোপনকেও নিযুক্ত করেছিল সংস্থাটি।

CBSE 2026 cbse result Rahul Gandhi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy