প্রযুক্তির হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিল্পকলার সংজ্ঞা। গত কয়েক বছরে একটু একটু করে আমূল বদলে গিয়েছে চলচ্চিত্র দৃশ্যের ধরন, এসেছে গ্রাফিক্স। পোস্টারের বদলে জনপ্রিয় হচ্ছে মোশন পোস্টার।
এ কাজের নেপথ্যে থাকেন মোশন গ্রাফিক্স আর্টিস্ট। যাঁরা ছবির মাধ্যমে গল্প বলেন। বিভিন্ন ধরনের রঙ, চিহ্ন, প্রতীকী সঙ্কেতের মাধ্যমে তাঁরা প্রতিটি ছবিকে জীবন্ত করে তোলেন।
এমন শিল্পী হতে চাইলে কী কী শিখতে হবে, কী ভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে— রইল তার সুলুক সন্ধান।
মোশন গ্রাফিক্স কোথায় ব্যবহার করা হয়?
সংবাদ সম্প্রচার, বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র, টেলিভিশন সিরিয়াল, ভিস্যুয়াল কন্টেন্ট, অ্যাপ অ্যানিমেশন, গেম, এডটেক ভিডিয়োর ক্ষেত্রে মোশন গ্রাফিক্স-এর ব্যবহার জনপ্রিয়।
কারা শিখতে পারবেন?
দ্বাদশ উত্তীর্ণ হওয়ার পর এই কাজ শিখতে আগ্রহীরা ডিজ়াইন শাখার অধীনে ভিস্যুয়াল বা কমিউনিকেশন ডিজ়াইন নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন। এ ছাড়াও অ্যানিমেশন অ্যান্ড মোশন গ্রাফিক্স, মাল্টিমিডিয়া, ডিজিটাল মিডিয়া, অ্যাপ্লায়েড আর্টস নিয়ে স্নাতক স্তরে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।
মোশন গ্রাফিক্স, অ্যানিমেশন অ্যান্ড ভিএফএক্স-এর মতো বিষয় নিয়ে ডিপ্লোমা কোর্সও করে নেওয়া যেতে পারে। অনলাইনে কিংবা হাইব্রিড মোডে ক্লাস করার সুযোগ থাকে এ ক্ষেত্রে।
কী কী বিষয় জানতে পারবেন?
এই সমস্ত কোর্সে বিশেষ সফট্অয়্যার ব্যবহার করে গ্রাফিক্স তৈরি করা, টাইপোগ্রাফি, লেআউট, কালার থিয়োরি, স্টোরিবোর্ডিং, ভিস্যুয়াল স্টোরিটেলিং, রিদম, সাউন্ড সিঙ্ক-এর মতো বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থাকে।
পোর্টফোলিও:
মোশন গ্রাফিক্স আর্টিস্ট হিসাবে ভাল সংস্থায় কাজের সুযোগ পেতে চাইলে পোর্টফোলিও আকর্ষণীয় হওয়া প্রয়োজন। এর জন্য লোগো অ্যানিমেশনস, ব্যাখ্যামূলক ভিডিয়ো, রিল, ব্র্যান্ড নির্ভর মোশন প্রজেক্টের কাজে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। পোর্টফোলিও-তে বিভিন্ন বিভাগের কাজের অভিজ্ঞতার উল্লেখ থাকলে চাকরির ক্ষেত্রে সুযোগ পাওয়া যায় সহজেই।
সৃজনশীল ভাবনা, ছবির মাধ্যমে গল্প বলতে পারা এবং পরীক্ষামূলক ভাবে এগিয়ে যেতে পারার দৃঢ়তা পোর্টফোলিও-র মাধ্যমে প্রকাশ করা আবশ্যক। তবেই নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার মেলে।
কাজের সুযোগ:
ইন্টার্নশিপ: বিজ্ঞাপনী সংস্থা, সিনেমার প্রযোজনা সংস্থায় ইন্টার্ন হিসাবে মোশন গ্রাফিক্স আর্টিস্টরা কাজ শুরু করতে পারেন।
ফ্রিল্যান্সিং: পড়াশোনার সঙ্গেই কাজের সুযোগ থাকে। বাড়িতে বসেই নির্দিষ্ট প্রজেক্টের জন্য ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ পেতে পারেন।
স্থায়ী চাকরি: বিজ্ঞাপনী সংস্থা, সিনেমার প্রযোজনা সংস্থা ছাড়াও ইনফরমেশন টেকনোলজি-র প্রতিষ্ঠানগুলিতেও মোশন গ্রাফিক্স আর্টিস্টদের চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়াও সরকারি সংস্থাতেও বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়ে থাকে।
আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানির মতো মোশন গ্রাফিক্স আর্টিস্ট-দের চাহিদা বিপুল। সেখানে গিয়ে কিংবা বাড়িতে বসেই এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞেরা চাকরির সুযোগ পেতে পারেন।
বেতন:
প্রাথমিক ভাবে বছরে তিন থেকে ছ’লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক পাওয়া যায়। অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা অর্জন করতে পারলে ওই বেতনকাঠামো ১৮ থেকে ৩০ লক্ষ পর্যন্ত হতে পারে।