যে কোনও কাজের নির্ভুল ভাবে করার জন্য প্রয়োজন সঠিক নির্দেশ। কখনও তা পাঠান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, কখন পাঠায় মগজ। কম্পিউটারের ক্ষেত্রেও বিষয়টা তেমনই। তবে কম্পিউটারের সঙ্গে কথোপকথনের জন্য বিশেষ সাঙ্কেতিক ভাষা জানা প্রয়োজন। একেই বলে কোডিং।
কী থাকে কোডিং-এ?
কোডিং-এর মূল উপাদানগুলি হল ভ্যারিয়েবল অর্থাৎ ডেটা স্টোরেজ, ডেটা টাইপ, গণনার জন্য অপারেটর, কন্ডিশনিং লজ়িক, লুপস, ফাংশন, সিনট্যাক্স, ডিবাগিং-এর মতো একাধিক উপাদান। প্রতিটি নির্দেশ তথ্য আকারে সংরক্ষণ করা, গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান, একই কাজ বার বার করা, একসঙ্গে অনেক গুলি কাজ করা— এই সব কিছু ব্যকরণ মেনে করার জন্য উল্লিখিত উপাদানগুলি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই সব উপাদানের সাহায্যে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি, সফট্অয়্যার, ওয়েবসাইট কিংবা অ্যাপ তৈরির কাজও করা হয়ে থাকে।
কারা শিখতে পারেন কোডিং?
- একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশিই কোডিং নিয়ে চর্চা শুরু করা যেতে পারে। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে যাঁরা কম্পিউটার সায়েন্স কিংবা কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে পড়াশোনা করছেন, তাঁরা শুরু থেকে বিষয়বস্তু সম্পর্কে সহজেই শিখে নিতে পারবেন।
- এ ছাড়াও কলা বা বাণিজ্য বিভাগের পড়ুয়ারাও পড়াশোনার পাশাপাশি, সেলফ স্টাডি বা ‘বুটক্যাম্প ট্রেনিং’-এর মাধ্যমে কোডিং শিখে নিতে পারবে। কারণ এই বিষয়টি নিয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর স্তরে আলাদা করে বিশেষ ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ নেই।
- তবে, স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর স্তরে কম্পিউটার সায়েন্স কিংবা সমতুল বিষয় নিয়ে পড়লে কোডিং সম্পর্কে আরও বিশদ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ থাকছে। এ ক্ষেত্রে যাঁরা কলা বা বাণিজ্য শাখার কোনও বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন, তাঁরা অনলাইনে ডিপ্লোমা কোর্স বা সার্টিফিকেট কোর্সের মাধ্যমে কোডিং নিয়ে পড়াশোনা করতে পারবেন। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে (আইআইটি, এনআইটি) ওই বিষয়ে ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট কোর্স করানো হয়ে থাকে।
কী কী বিষয় শিখতে হবে?
- ‘পাইথন’, ‘জাভা’, ‘এসকিউএল’, ‘স্কালা’-র মতো কোডিং-এর ভাষা শেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি, ওই ভাষা কোথায় কী ভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে, কী সীমাবদ্ধতা রয়েছে— তা নিয়েও রোজ অভ্যাস করতে হবে।
- নির্দেশনা ক্রমানুযায়ী সাজিয়ে নিতে স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করতে হয়। তাই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ় জানার পর শিখতে হবে স্ক্রিপ্টিং-এর কাজও। অটোমেশন স্ক্রিপ্টের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ‘পাইথন’, ‘জাভাস্ক্রিপ্ট’, ‘পাওয়ারশেল’-এর মতো ভাষা স্ক্রিপ্টিংয়ের কাজ করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও আলাদা করে ভাষাভিত্তিক স্ক্রিপ্টিং শেখার সুযোগও রয়েছে।
- তথ্যের আদান প্রদানের জন্য ইটিএল (এক্সট্র্যাক্ট, ট্রান্সফর্ম অ্যান্ড লোড) সিস্টেমস ব্যবহার করা হয়। কোডিং নিয়ে পড়াশোনার সময় এই বিষয়টিও জানা প্রয়োজন। কারণ কোনও কোনও কাজের ক্ষেত্রে তথ্য স্থানান্তরের নির্দেশনাও কোডিং-এর সাহায্যে করা হয়ে থাকে। ওই কাজের জন্য ‘এক্সপ্লেন্টি’, ‘স্টিচ’, ‘আলুমা’, ‘ট্যালেন্ড’-এর মতো টুল ব্যবহারের কৌশলও আলাদা করে শিখে নিতে হবে।
অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অর্জনের উপায়
- কোডিং মূলত দক্ষতামূলক কাজ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত কোডিং নিয়ে যে ধরনের আপডেট আসে, সেই সব বিষয় নিয়ে নিয়মিত চর্চা করা প্রয়োজন। তবেই চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার মিলবে। এর জন্য প্রথমে ইন্টার্নশিপ করা প্রয়োজন। সরকারি এবং বেসরকারি বহুজাতিক সংস্থায় কোডিং-এর জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ থাকে। তাতে কাজ শেখার পাশাপাশি, কোথায় কী ভুল হচ্ছে, আরও কী কী বিষয় শেখা দরকার— তা জেনেও নেওয়ার সুযোগ থাকে।
- পাশাপাশি, ভাল পোর্টফোলিও তৈরি করা প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রকল্পে (ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, অ্যাপ তৈরি) কী ভাবে কাজ করেছেন, কোন কোড কী ভাবে ব্যবহার করছেন, বাস্তব সমস্যার সমাধানে কতটা সাবলীল— সে সবের উল্লেখ রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট কোর্স বা ডিপ্লোমা প্রোগ্রামের অধীনে হাতে কলমে কাজ করার সুযোগ থাকে। সেই কাজের উৎকর্ষ সম্পর্কেও পোর্টফোলিও-তে উল্লেখ করা প্রয়োজন।
কাজের সুযোগ:
সফট্অয়্যার, ওয়েব, অ্যাপ ডেভেলপার পদে কোডিং বিশেষজ্ঞদের চাহিদা সব থেকে বেশি। এ ছাড়াও সাইবার সুরক্ষা, গেম ডেভেলপমেন্ট, মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধীনেও এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি, বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সংস্থার পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্ক, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোডার নিয়োগ করা হয়ে থাকে।
শুরুতে বেতন বছরে ৪ থেকে ১০ লক্ষ টাকা হলেও পরে তা ৩০ লক্ষের কাছাকাছি হতে পারে। তবে, তার জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা এবং পূর্ব-অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক।