টেট উত্তীর্ণ না হলে পড়াতে পারবেন না প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিকে। গত বছর সেপ্টেম্বরে এমনই রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট তার পর থেকেই সারা দেশে শুরু হয়েছে তৎপরতা। কী ভাবে হাজার হাজার শিক্ষকের চাকরি বাঁচানো যাবে, কোন উপায়ে লক্ষাধিক পড়ুয়ার পঠনপাঠন থাকবে স্বাভাবিক?
বিভিন্ন রাজ্য থেকে রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানায় সুপ্রিম কোর্টে। পাশাপাশি নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির তরফেও রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল। আগামী কাল, মঙ্গলবার মামলার শুনানি হতে চলেছে সুপ্রিম কোর্টে।
নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টে এক রায়ে জানায় প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে সব শিক্ষকদের টেট বাধ্যতামূলক। যাঁদের এই যোগ্যতা নেই তাঁদের আগামী দু’বছরের মধ্যে এই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে যাঁদের চাকরির সময়সীমা শেষ হচ্ছে তাঁদের অবশ্য এই নির্দেশের আওতার বাইরে রাখা হয়। অর্থাৎ পাঁচ বছর পর্যন্ত যাঁদের চাকরি রয়েছে, প্রবীণ সেই শিক্ষকদের আর টেট পরীক্ষায় বসতে হবে না।
কিন্তু বাকি প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি শিক্ষকের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে যায়। তারপরেই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয় বিভিন্ন রাজ্য থেকে। ধ্রুবশেখর জানান, মঙ্গলবার বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের ঘরে এই মামলার শুনানি রয়েছে।
ধ্রুবশেখর জানান, মঙ্গলবার মূলত দু’টি বিষয়ের প্রতি বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করবেন তাঁদের আইনজীবীরা। প্রথমত, ২০০৯ সালে শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী ১ এপ্রিল ২০১০-এ আইন বলবৎ হয়। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১-এর জুলাই মাসে শিক্ষকদের যোগ্যতা সংক্রান্ত আইন চালু হয়। সেখানে টেট বাধ্যতামূলক করা হয়। তাই আদালতের কাছে তাঁদের আর্জি এই আইন বলবৎ হওয়ার আগে যে সব শিক্ষকেরা কর্মরত রয়েছেন তাঁদের এই নির্দেশের আওতার বাইরে রাখা হোক। কারণ ২০১১-র আগে কাজে যোগ দেওয়া শিক্ষকদের টেট বাধ্যতামূলক ছিল না।
সারা দেশে কয়েক লক্ষ শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা টেট উত্তীর্ণ নন। শিক্ষার অধিকার আইন, আরটিই ২০০৯ এবং এনসিটিই-র ২০১০ নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য টেট পাস করা ন্যূনতম এবং বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, টেট আবশ্যিক যোগ্যতা। কিন্তু সমস্যা হয়েছে ২০১১ পর্যন্ত শিক্ষকতায় নিযুক্তদের নিয়ে। পাশাপাশি এই শুনানি সর্বসমক্ষে করার আবেদনও জানানো হবে।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষকেরা।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ৮ মাস পরেও কেন্দ্রের তরফে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করা হয়নি। তা হলে কি সরকারও চাইছে যে লক্ষ লক্ষ শিক্ষক বিপদে পড়ুন, গোটা দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা পঙ্গু হয়ে যাক?” তবে তিনি আশাবাদী আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দেবে।
শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘‘২০১০ সাল থেকে শিক্ষার অধিকার আইন লাগু হয়েছে। তার আগে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে সব শিক্ষকেরা নিযুক্ত হয়েছেন তাঁদের সকলকেই ও আওতার বাইরে রাখা হবে সেটাই আশা করছি।” পাশাপাশি তাঁরা কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবিও তুলেছেন। তাঁরা চান, প্রয়োজনে নির্দেশিকা জারি করুক কেন্দ্র।
একই ভাবে মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক অনিমেষ হালদারও বলেন, “আশা করি সুপ্রিম কোর্ট রায়টি পুনর্বিবেচনা করবেন। আইন লাগু হওয়ার আগে নিযুক্ত শিক্ষকদের ওই নির্দেশ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।’’