বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ! এ প্রশ্ন একেবারে প্রথম থেকেই তুলছে মানুষ। কিন্তু বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি ছাড়া এক পা এগোনো সম্ভব নয়। আবার সেই প্রযুক্তিই নানা কৌশলে বিপদে ফেলছে মানুষকে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একদল মানুষ ছড়িয়ে চলেছে অপরাধের জাল।
প্রায় প্রতিদিনই ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা জালিয়াতির খবর পাওয়া যায়। আবার এই জালিয়াতি রুখতেও হাতিয়ার সে-ই প্রযুক্তিই। নিরাপত্তার খাতিরে বিশেষজ্ঞরা প্রতি দিন কাজ করছেন সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে। ফলে এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনার প্রতি ঝোঁক বাড়ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে পেশাগত সুযোগও।
কী পড়তে হবে সাইবার সিকিউরিটি সংক্রান্ত কাজ করতে? কোথায় পড়ানো হয়? সেই সব আলোচনা করা হল এই প্রতিবেদনে।
সরাসরি সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে পড়ার তেমন সুযোগ থাকে না। এই বিষয় নিয়ে উচ্চস্তরের ডিগ্রি অর্জন করতে হলে প্রথমে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে স্নাতক স্তরে পড়তে হয়। তারপর সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ থাকে। তবে, এই বিষয়ে পড়ার জন্য দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ থাকা প্রয়োজন। এ ছাড়াও, বহু সার্টিফিকেট কোর্সও করা যায় এই বিষয় নিয়ে।
ন্যাশনাল ফরেনসিক সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটিতে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে ইন্টিগ্রেটেড কোর্স করা যায়। অর্থাৎ বিটেক ও এমটেক দু’টি কোর্সই পড়া যায় এই প্রতিষ্ঠান থেকে। রাজ্যের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে (ম্যাকাউট) স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন পড়ার সময় সাইবার সিকিউরিটিতে স্পেশ্যালাইজ়েশন কোর্স করা যায়। দেশের বিভিন্ন আইআইটি-তেও কম্পিউটার সায়েন্স-এ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় সাইবার সিকিউরিটির পাঠ পড়ানো হয়।
পেশাগত সুযোগ কী কী?
এথিক্যাল হ্যাকার হিসাবে সরকারি সংস্থায় চাকরির সুযোগ থাকে। এ ছাড়াও সাইবার ফরেনসিক ইনভেস্টিগেটর, সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট, নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার, ইনফরমেশন সিকিউরিটি ম্যানেজার পদে চাকরি পাওয়া যায়। সাধারণত, সরকারি সংস্থা প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)-সহ আরও পরিসরে চাকরির সুযোগ থাকে। ই-কমার্স, স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত সংস্থাতেও এই বিষয় নিয়ে পড়ার পর চাকরির সুযোগ খোলা থাকে।