একাদশ-দ্বাদশ স্তরের স্কুলে শিক্ষকের শূন্যপদ সংক্রান্ত অসঙ্গতির অভিযোগে এ বার তৎপর হল স্কুলশিক্ষা দফতর। সূত্রের খবর, রাজ্যের জেলা স্কুল পরিদর্শকের তরফে সংশ্লিষ্ট জেলার স্কুলগুলিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কলকাতা সংলগ্ন এক জেলার জেলা স্কুল পরিদর্শক জানান, মঙ্গলবার থেকেই সব স্কুলকে এই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অন্য বেশ কয়েকটি জেলায়ও এই বার্তা দেওয়া হয়েছে স্কুলগুলিকে। সম্প্রতি স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফ থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি স্তরে শিক্ষক নিয়োগের জন্য যে তালিকেপ্রকাশ করা হয়েছে সেখানে বেশ কিছু অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। যে স্কুলের শূন্যপদ নেই সেখানে সেই স্কুলের শূন্যপদ দেখানে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল ‘অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।’ তার পরই বিষয়টি নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়।
সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গড়াই দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সূত্রের খবর, তার পরই বিষয়টি নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়। কেন্দ্রীয় পোর্টাল চালুর দাবিও জানানো হয়।
সূত্রের খবর, প্রতিটি স্কুলের তরফে শূন্যপদের তালিকা সংগ্রহ করে তা পাঠানো হয় জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসে। সেখান থেকে সেই তালিকা স্কুলশিক্ষা কমিশনারেটে এসে পৌঁছোয়। তা যাচাই করে সেই তালিকাই চলে আসে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনে। ওই তালিকা থেকেই শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ফলে একেবারে প্রাথমিক স্তরে জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিস থেকে কিছু হেরফের হয়ে থাকলে পরে সেগুলি যাচাই করার সম্ভাবনা থাকে না।
এক জেলা স্কুল পরিদর্শক অবশ্য জানান, তাঁরা নিজেদের মত করে তালিকা তৈরি করেন না। স্কুল থেকে যে তালিকা এসে পৌঁছোয়, তা-ই কমিশনারেটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাই কোনও ভুল হয়ে থাকলে স্কুলের দিক থেকেই হওয়ার সম্ভাবনা বলে দাবি করা হয়েছে। সে কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছেই ফের তা জানতে চাওয়া হয়েছে। তালিকা যে হেতু প্রকাশ্যেই রয়েছে তাই যে কোনও স্কুল তা খতিয়ে দেখে অফিসে জানাতে পারবেন।
যদিও ইতিমধ্যেই মঙ্গলবার থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনে কাউন্সেলিং শুরু হয়ে গিয়েছে। সোমবার ফের ১৩টি স্কুলের আর একটি তালিকা প্রকাশ হয়েছে। এই শূন্যপদ নিয়ে যেন কোনও সমস্যা না তৈরি হয়, তাই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করতে চাইছে সরকার। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে ইতিমধ্যেই ২০১৬ সালের প্যানেল সম্পূর্ণ বাতিল হয়েছে। ফের এই শূন্যপদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন আবেদনকারীদের একাংশ।