Advertisement
E-Paper

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব! স্কুলে স্কুলে শূন্যপদে অনুমোদন দিচ্ছে না দফতর, অভিযোগ প্রধানশিক্ষকদের

স্কুলের প্রধানশিক্ষকরা জানান, সমস্যা মূলত দু’জায়গায়। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬-র প্যানেল বাতিল হয়েছে। চিহ্নিত ‘অযোগ্য’ বহু শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে। সেই সব শূন্যপদ পূরণ হয়নি। প্রয়োজনীয় পদেও মিলছে না অনুমোদন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৪

— প্রতীকী চিত্র।

মেদিনীপুরের এক স্কুলে অনুপস্থিত ভূগোল শিক্ষক। তবে কি ফাঁকা যাবে ক্লাস? প্রধানশিক্ষকের নির্দেশে সপ্তম শ্রেণির ভূগোল ক্লাস নিতে গেলেন জীববিদ্যার শিক্ষিকা।

পূর্ব বর্ধমানের এক স্কুলে পদার্থবিদ্যার ক্লাস করাচ্ছেন শিক্ষক। তাই নবম শ্রেণির ভৌতবিজ্ঞানের ক্লাস নিতে পাঠাতে হল ভূগোলের শিক্ষককে।

অভিযোগ, এ ভাবেই চলছে বহু স্কুল। কখনও শিক্ষকের অভাবে ক্লাস করানোই যাচ্ছে না। কখনও অন্য বিষয়ের শিক্ষকের যদি কোনও ক্লাস নেওয়ার যোগ্যতা থাকে, তবে তাকেই পাঠানো হচ্ছে সেখানে, স্বীকার করছেন প্রধানশিক্ষকেরা।

রাজ্যের বহু সরকারপোষিত স্কুলে শিক্ষকসঙ্কট এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, হাজার হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে, জানাচ্ছেন শিক্ষকেরাই।

কিন্তু সমস্যা ঠিক কোথায় ?

স্কুলের প্রধানশিক্ষকরা জানান, সমস্যা মূলত দু’জায়গায়। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬-র প্যানেল বাতিল হয়েছে। চিহ্নিত ‘অযোগ্য’ বহু শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে। সেই সব শূন্যপদ পূরণ হয়নি। কিন্তু স্কুল চালাতে হলে শিক্ষকের তো প্রয়োজন। রাজ্যের গ্রাম এবং মফস্সলে বহু সাধারণ পরিবারের সন্তান এখনও এ সব স্কুলের উপর নির্ভরশীল। ফলে কোনও স্কুল চলছে পার্শ্ব শিক্ষক নিয়োগ করে।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সমস্যা রয়ে গিয়েছে আরও একটি জায়গায়। প্রয়োজন হলেও শিক্ষক পদের অনুমোদন দিচ্ছে না সরকার। জলপাইগুড়ি জেলার এক স্কুলের প্রধানশিক্ষক বলেন, “জেলাস্কুল পরিদর্শকের অফিসে বার বার আবেদন করেও শিক্ষক পদের অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না। পড়ুয়া থাকা সত্ত্বেও কেন শূন্যপদের অনুমোদন দিচ্ছে না, তা বুঝতে পারছি না।”

একই কথা বলছেন অন্য স্কুলের প্রধানশিক্ষকেরাও। পূর্ব মেদিনীপুরের কেলোমাল সন্তোষিনী হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক মৃন্ময় মাঝি বলেন, “আমার স্কুলে একাদশ দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রায় ৩০০ জন পড়ুয়া রয়েছে। কিন্তু বহু বিষয়ের শিক্ষক নেই। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা, গণিত, ভূগোলের একজন মাত্র শিক্ষক। কী করে স্কুল চলবে?” পরিস্থিতি এমনই যে, কোনও এক দিন কেউ কোনও শিক্ষক স্কুলে উপস্থিত না হতে পারলে ক্লাস করানো যাচ্ছে না।

পূর্ব বর্ধমানের ঝাড়ুলিয়া হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক অনির্বাণ দাশগুপ্ত বলেন, “শিক্ষকের ঘাটতি মেটাতে এক বিষয়ের ক্লাসে অন্য বিষয়ের শিক্ষককে পাঠাতে বাধ্য হই। পঞ্চম থেকে দশম পর্যন্ত ৩০০ জন পড়ুয়া। অনেক সময়ই শিক্ষকেরা অভাবে ক্লাস ফাঁকা যায়।” উত্তর ২৪ পরগণার তোকিপুর রাজলক্ষ্মী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মাফুজ আহমেদ বলেন, “এলাকার বহু মানুষের ভরসা এই স্কুল। কিন্তু শিক্ষকের অভাবে ক্লাস ব্যাহত হচ্ছেই। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।”

তবে শুধু শিক্ষকের ঘাটতিই নয়, পড়ুয়া-শিক্ষকের অনুপাতিক হার যথার্থ নয় বলেই এই পরিস্থিতি বলে মনে করেন শিক্ষকদের একাংশ। কলকাতার তালতলা হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক ঋত্বিক কুণ্ডু বলেন, “কলকাতার বহু স্কুলেই শিক্ষকের সংখ্যা পড়ুয়ার তুলনায় বেশি। আবার কোনও স্কুল ভুগছে শিক্ষকসঙ্কটে। এই অসমবণ্টনের কারণে আখেরে ক্ষতি হচ্ছে পড়ুয়াদের, কমছে হচ্ছে শিক্ষার মান।”

School education department WB Education
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy