নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ, যথাযথ পদক্ষেপ সত্ত্বেও অভিযোগ উঠল ভোট দিতে না পারার। ভোটদানের ক্ষেত্রে অব্যবস্থার শিকার ভোটাকর্মীরা।
রবিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটকর্মীরা ঠিক ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি বলে বিক্ষোভও দেখান। সোমবার কমিশনের দফতরে অভিযোগ জানায় ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চ। ওই দিন নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সকলেই যেন ভোট দিতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে। যে কেন্দ্রে যতটা সম্ভব বন্দোবস্ত করা যায় সেটা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থাও থাকছে বলে জানান কমিশনের এক কর্তা।
অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছিল গত ১৬ এপ্রিল। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে যে সব ভোটকর্মীরা যুক্ত রয়েছেন তাঁদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার কথা ছিল প্রশিক্ষণের শেষ দিন অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ ওঠে, বহু ভোটকর্মী ভোট দিতে পারেননি। পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর, মুর্শিদাবাদ-সহ বিভিন্ন জায়গায় কর্মীরা নানা অভিযোগ তোলেন। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের ভগৎ সিংহ মোড়ের কাছে একটি বেসরকারি স্কুলে ভোটকর্মীরা ভোট দিতে পারেননি। অভিযোগ, ওই স্কুলে ছোট্ট একটি ঘরের মধ্যে তিনটি বিধানসভা এলাকার ভোটকর্মীদের জমায়েত করে ভোট নেওয়া হচ্ছিল। অব্যবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, অনেকেই ভোট না দিয়ে বেরিয়ে যান।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বসন্তপুর তেলিপুকুর এলাকার একটি স্কুলে আবার তালিকায় নাম না থাকায় ভোট দিতে পারেননি বহু ভোটকর্মী। সমস্যা হয়েছিল মুর্শিদাবাদেও। এর পর শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের ভোটকর্মী শাখা এবং ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চের তরফ থেকে অভিযোগ পেয়ে নড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। গত ১৭ এপ্রিল কমিশন সব জেলায় একটি নির্দেশিকা পাঠায়। সেখানে কমিশন জানায়, পোস্টাল ব্যালট ভোটের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই কমিশন যে নির্দেশিকা দিয়েছে সেগুলি যথাযথ ভাবে পালন করতে হবে। সেখানে যেমন উল্লেখ ছিল গালা দিয়ে মুখবন্ধ বাক্স রাখার, তেমনই সিসি ক্যামেরার নজরদারির কথাও বলা হয়েছিল।
দুর্গাপুরে অভিযোগ উঠেছিল, একটি ঘরের মধ্যে তিনটি বিধানসভা এলাকার ভোটকর্মীদের জমায়েত করে ভোট নেওয়া হচ্ছিল। তার বদলে এক একটি কক্ষে ৫০ থেকে ৬০ জনের ভোট নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে অযথা ভিড় এড়ানো যাবে বলেই মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
তবে রবিবার অন্য চিত্র দেখা যায় বলে অভিযোগ। যদিও বিএলও ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘আমি আগেই বলেছিলাম যে নির্দেশ যেন কাগুজে হয়ে না থাকে। বাস্তবে সেটাই হচ্ছে।’’ তারই পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের এক কর্তা এ দিন জানান, সব ক্ষেত্রে ৫০-৬০ জনের জন্য পৃথক ঘরের ব্যবস্থা হয়ত সম্ভব নয়। বাস্তবে যতটুকু করা যায় করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই সকলে যেন ভোট দিতে পারেন। সেটা আমাদের দায়িত্ব। তাই আমরা সব রকমের ভাবে চেষ্টা করছি। তারপরেও যদি কারও ভোট দিতে বাকি থাকে তিনি ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারেও ভোট দিতে পারবেন।’’ কোনও সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস তাঁর।
যদিও হুঁশিয়ারির সুরে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ (ভোট কর্মী শাখা)-র সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘‘আমরা জেলা প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের এই ভূমিকাকে ধিক্কার জানাচ্ছি। ভোটকর্মীরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারলে ভোট কর্মীরা দায়িত্ব বয়কট করতে বাধ্য হবেন।’’