পশ্চিমবঙ্গের সব জেলা এবং পুরসভা এলাকা থেকে সর্বমোট প্রায় ৮৫০টি স্কুলকে নির্বাচন করছে স্কুলশিক্ষা দফতর। তালিকা প্রায় প্রস্তুত। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারকে ওই তালিকা পাঠাবে দফতর। কেন্দ্রের অনুমোদন পাওয়ার পরে অর্থ পেলেই শুরু হবে ‘পিএমশ্রী’ (প্রধানমন্ত্রী স্কুলস ফর রাইজ়িং ইন্ডিয়া) মডেল স্কুলের কাজ। দফতর সূত্রের দাবি, সাধারণত সেই তালিকায় সম্মতি দেয় কেন্দ্র। এক্ষেত্রেও আশা করা যায় যে সেই অনুমোদন পাওয়া যাবে।
রাজ্যে পালাবদলের পরেই নানা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। তার মধ্যে অন্যতম শিক্ষাক্ষেত্রে ‘পিএমশ্রী’ (প্রধানমন্ত্রী স্কুলস ফর রাইজ়িং ইন্ডিয়া) মডেল স্কুল প্রকল্প। রাজ্য জুড়ে, প্রতিটি ব্লকে অন্তত দু’টি করে মডেল স্কুল তৈরি হবে। পুরসভার ক্ষেত্রেও সেই সংখ্যা একটি পুর এলাকায় দু’টি স্কুল। গত ১৫ মে দিল্লিতে কেন্দ্রের স্কুল শিক্ষামন্ত্রকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষা দফতরের এক মউ স্বাক্ষরিত হয়। স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, সেখানে জাতীয় শিক্ষানীতি মেনে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চালু করার ক্ষেত্রে দু’পক্ষই সহমত হয়েছে।
স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ২০২২-২৩ সাল থেকে কেন্দ্রের তরফে চালু করা হয় ‘পিএমশ্রী’। ২০২৭ সালের মধ্যে গোটা রাজ্যে সমগ্র শিক্ষা অভিযানের মাধ্যমে ১৪ হাজারের বেশি স্কুলকে এই পিএমশ্রী প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়। রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে অন্তত একটি স্কুলকে বেছে নিয়ে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করানো হবে, এমনই লক্ষ্য ছিল। সেই স্কুলের সার্বিক বিকাশ করা হবে। পরিকাঠামো থেকে শিক্ষার পদ্ধতি, সর্বত্রই মডেল হিসাবে পরিচিত হবে স্কুলগুলি। আশপাশের স্কুল পড়ুয়াদেরও সার্বিক বিকাশে সাহায্য করবে ওই সব স্কুল। উন্নয়নের খাতে ২৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করে কেন্দ্রীয় সরকার। কথা ছিল, স্কুলগুলিকে মডেল হিসাবে তৈরি করার জন্য মোট টাকার ৬০ শতাংশ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং ৪০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার। কিন্তু শর্ত, ওই মডেল স্কুলের নামের আগে যুক্ত করতে হবে পিএমশ্রী। আর এখানেই আপত্তি তোলে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্য সরকার।
দফতর সূত্রের খবর, সে সময় রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল যে, এই প্রকল্পে রাজ্যও অংশীদার। শিক্ষা সংবিধানের যৌথ তালিকাভুক্ত। তাই স্কুলের নামের আগে ‘পিএম’ যুক্ত হওয়াটা বাঞ্ছনীয় নয়। তাই এই প্রকল্পের সঙ্গে সহমত হয়নি তৎকালীন রাজ্য সরকার। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরই বোঝা যাচ্ছিল, এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল। গত ১৫ মে দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের শিক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা। সেখানেই এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের নাম যুক্ত করা হয়।
স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক মিলিয়ে প্রায় ১২,৩১০টি স্কুল এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার উপযুক্ত বলে তালিকা প্রকাশ করেছে স্কুলশিক্ষা দফতর। তারপরে সেই সব স্কুলে পরিদর্শন করে সেখান থেকে স্কুলগুলিকে বেছে নেওয়া হয়। দফতরের এক কর্তা জানান, প্রায় ৮৫০টি স্কুলকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। সেই কাজ এখনও চলছে। একদম শেষের দিকে। উন্নত পরিকাঠামো সহ পঠনপাঠন পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন হবে এই স্কুলগুলিতে।