Advertisement
E-Paper

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট! প্রভাবিত স্নাতকের ভর্তি প্রক্রিয়া, পরীক্ষার মধ্যেই আঁধারে ছাত্রীনিবাস

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, গোটা ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মোটেই সন্তোষজনক নয়। অভিযোগ, বিদ্যুৎবাহী তার এবং ট্রান্সফর্মার পুরনো আমলের। এ দিকে নানা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি। সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ পরিবহণের সক্ষমতা থাকছে না তারের।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ১৭:৩৭

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি ভবন অন্ধকারে। কার্যত টালমালাট গোটা প্রাঙ্গন। প্রভাব প়ড়ল স্নাতক ভর্তি প্রক্রিয়ায়।

জানা গিয়েছে, ওই ভবন থেকেই গোটা ক্যাম্পাসের ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ন্ত্রিত হয়। বৃহস্পতিবার থেকে দফায় দফায় বিদ্যুৎ পরিষেবায় সমস্যা তৈরি হওয়ায় বিপর্যস্ত দৈনন্দিক জীবন। সূত্রের খবর, গত দু’দিনের বেশ কয়েকবার বিদ্যুৎবাহী প্রধান তারে বিস্ফোরণ হয়েছে। আর তাই গোটা ক্যাম্পাসেই বন্ধ হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। তার জেরে স্নাতক ভর্তির পোর্টালে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হলেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শুধু তা-ই নয়, ছাত্রীনিবাসে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ। ক্ষোভ ছড়াচ্ছে ছাত্রীদের মধ্যে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, গোটা ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মোটেই সন্তোষজনক নয়। অভিযোগ, বিদ্যুৎবাহী তার এবং ট্রান্সফর্মার পুরনো আমলের। এ দিকে নানা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি। সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ পরিবহণের সক্ষমতা থাকছে না তারের। ফলে পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।

কিন্তু এ বারের সমস্যা একটু আলাদা। কারণ গত বৃহস্পতিবার এক বার সমস্যা হওয়ায় মেরামতি করা হয়, তারপরে ফের পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। ওই প্রযুক্তি ভবনেই রয়েছে ইন্টারনেটের সার্ভার। সে কারণে ইন্টারনেটের সার্ভারে বিদ্যুতের পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় গোটা ক্যাম্পাসে সেই প্রভাব পড়েছে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে পরিষেবা। স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

পাশাপাশি শুক্রবার সমস্যা হয়েছে ছাত্রীনিবাসেও। এক ছাত্রী জানান, ওই দিন দুপুর ৩ টে থেকে তাঁদের হস্টেলে কোনও বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ ছিল। পরে কর্তৃপক্ষ জেনারেটের ব্যবস্থা করেন। রাত ১২টা নাগাদ বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।

এক ছাত্রী বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ না থাকায় পানীয় জলের সমস্যাও তৈরি হয়। আমাদের এক সহপাঠী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”

বর্তমানে স্নাতকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষ এবং স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ পরিষেবা বার বার বিচ্ছিন্ন হলে সমস্যায় পড়তে পারেন আবাসিক পড়ুয়ারা। যদিও মহিলা হস্টেলে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ওই জেনারেটর চলেছে।

সূত্রের খবর, বেশ কয়েকমাস আগে ক্যাম্পাসের বিদ্যুৎ পরিষেবাকে ঢেলে সাজার জন্য হিসেব করা হয়েছিল। কিন্তু যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে দেওয়া অসুবিধাজনক বলে জানানো হয়েছিল। তাই কাজও করানো যায়নি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রিতম রায় বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সব পরিকাঠামো দ্রুত ঠিক করা উচিত। ইন্টারনেট পরিষেবা না থাকার জন্য সাধারণ কাজও ব্যহত হচ্ছে। এ ছাড়া ছাত্রীদের হস্টেলে বিদ্যুৎ পরিষেবা না থাকাটাও বাঞ্ছনীয় নয়।’’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডল শনিবার বলেন, ‘‘আমি ক্যাম্পাস এবং ছাত্রীনিবাস পরিদর্শন করলাম। মোট ৩টে জেনারেটর দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারেরাও কাজ করছেন। কারও কোনও অসুবিধা হবে না। তবে এই সমস্যার যেন স্থায়ী সমাধান করা যায় সেই চেষ্টা চলছে।’’

JU Jadavpur University Jadavpur University Hostel
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy