কৃষক-কন্যার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ধাক্কা খেয়েছিল, নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁসের ঘটনায়। পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর তাঁর মনে হয়েছিল নতুন পরীক্ষায় পাশ না-ও করতে পারেন। সেই ভয় থেকেই আত্মঘাতী হন চিকিৎসক হতে চাওয়া ১৮ বছরের নিট পরীক্ষার্থী আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের সাংসদ রাহুল গান্ধী সেই ঘটনার জন্য দায়ী করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে।
রাহুল নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় একটি পোস্ট করেছেন এ ব্যাপারে। রাহুল লিখেছেন, নিট-এর প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পরে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা সামলাতে পারেননি আকাঙ্ক্ষা আর এর জন্য দায়ী মোদিজীর অধীনে নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়া দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা।
৩ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে মেয়েকে চিকিৎসাবিদ্যার প্রবেশিকার কোচিংয়ের টাকা জুগিয়েছিলেন আকাঙ্ক্ষার বাবা, যিনি পেশায় এক জন কৃষক। পেট চালানোর জন্য পরে নাগপুরে রাঁধুনির চাকরিও নেন বলে জানিয়েছেন রাহুল। তিনি লিখেছেন— ‘‘আকাঙ্ক্ষা চিকিৎক হবেন ভেবেই একজন পিতা যা করতে পারতেন, সব করেছিলেন। কিন্তু তার পরে নিট-এর প্রশ্নফাঁস হল। পরীক্ষা বাতিল হল। আর সেই অনিশ্চয়তায় আকাঙ্খা আমাদের ছেড়ে চলে গেল। তাই আকাঙ্ক্ষার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বললে ভুল হবে। এই মৃত্যু আসলে মোদীজি-র দিগ্ভ্রান্ত, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া শিক্ষা ব্যবস্থার ফল।’’
আরও পড়ুন:
আকাঙ্ক্ষার ‘সুইসাইড নোট’-এ অবশ্য আত্মহত্যার কারণ হিসাবে নিট-এর পরীক্ষার কথাই লেখা আছে। আকাঙ্খা লিখেছিলেন, ‘‘মা এবং বাবা, তোমাদের বিশ্বাস ছিল যে তোমাদের মেয়ে ভাল পড়াশোনা করে ডাক্তার হবে। কিন্তু আবার পড়াশোনা করে নতুন করে নিট দেওয়ার ক্ষমতা বা সাহস আর আমার নেই। আমি প্রথম বারের পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়ার উপযুক্ত উত্তরই লিখেছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয় বারেও যে ভাল পরীক্ষা হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। মা এবং বাবা, আমাকে ক্ষমা কোরো, আমি সবটা নষ্ট করে ফেললাম।”
নিট-এর প্রশ্নফাঁসের জেরে পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর এই ঘটনার জন্যই রাহুল দায়ী করেছেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কেন এখনও পদত্যাগ করছেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল। তিনি লিখেছেন, ‘‘ধর্মেন্দ্র প্রধানজি এখনও নিজের পদে বহাল তবিয়তে বসে রয়েছেন।’’ শেষে মোদীকে কটাক্ষ করে রাহুল লিখেছেন, ‘‘আসন বা পদ স্থায়ী হয় না। সেখানে বদল হতেই থাকে। কিন্তু মোদীজি আপনি গত ১২ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থাকে যে ভাবে নষ্ট করেছেন, তার ভোগান্তি একটা গোটা তরুণ প্রজন্মকে দিতে হচ্ছে।’’