Advertisement
E-Paper

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে নেই নির্বাচিত সদস্য, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জোরাল হচ্ছে

সিন্ডিকেট, আইসিসি, আইকিউএসি-সহ অন্যান্য বহু কমিটিতে ছাত্র প্রতিনিধির প্রয়োজন আছে বলে মনে করছে ডিএসও এবং এবিভিপি। নতুন শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরেই ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানাবেন তাঁরা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১৪:৪২
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় । ছবি: সংগৃহীত।

নির্বাচনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে যুক্ত থাকে গণতন্ত্র। অন্তত গণতান্ত্রিক দেশে সেটাই দস্তুর। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে বহু ক্ষেত্রে এই নির্বাচনকে উপেক্ষা করার প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল বলেই দাবি শিক্ষক ও পড়ুয়াদের একাংশের। সেটা পুরসভা হোক বা ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এ বারে সেই গণতন্ত্রকে নষ্ট করার অভিযোগ উঠছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরেও। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হলে সব থেকে প্রয়োজনীয় হল কর্মসমিতি, যেটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট। সেখানেই বহু বছর কোনও নির্বাচন হয়নি বলেই জানাচ্ছেন শিক্ষকেরা। ফলে কেবলমাত্র মনোনীত সদস্যদের দিয়েই চলছে শতাব্দী প্রাচীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সিন্ডিকেট। রাজ্যে পালাবদলের পরে সিন্ডিকেটের সদস্যপদের জন্য নির্বাচনের দাবি তুলেছেন শিক্ষকদের একাংশ।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান, প্রায় ৩০ জনের বেশি সদস্য রয়েছে সিন্ডিকেটে। সেখানে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী এবং ছাত্রদের নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকার কথা। কিন্তু এই চারটি ক্ষেত্রে কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে। রাজ্যের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেষ বারের মতো ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়েছিল ২০১৭ সালে। তারপরে ২০১৯ নাগাদ যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সির মতো জায়গায় নির্বাচন হলেও আর কোথাও এই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি বলেই অভিযোগ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও চিত্র একই রকম। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে অধ্যাপক এবং শিক্ষাকর্মীদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই কেন?

সরাসরি কেউ উত্তর না দিলেও শিক্ষকদের অভিযোগ, নির্বাচনের মাধ্যমে সিন্ডিকেট চালানোর অনুমোদন বিগত সরকারের থেকে পাওয়াই যায়নি। কিন্তু এখন কী করা যাবে? বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান যে, এই বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা দফতরের সবুজ সঙ্কেত পেলেই করা যেতে পারে। এখনও দফতরের মন্ত্রী স্থির হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তো পড়ুয়াদের প্রতিনিধিকে রাখা যাবে না। কিন্তু শি‌ক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নির্বাচন করাই যেতে পারে। উচ্চ শিক্ষা দফতর নির্দেশ দিলেই সেটা আমরা করতে পারি।’’

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারক কোনও কমিটিতে যদি সকলেই কারও না কারও দ্বারা মনোনীত হন তাহলে সেখানে আদৌ গণতন্ত্র থাকে কি? এই অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।’’

এবিভিপি-র কলকাতা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন হালদার বলেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রীর নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই আমরা মন্ত্রীর কাছে দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি জানাব। বিগত তৃণমূল সরকার হেরে যাওয়ার ভয়ে গত ১০ বছরে কোনও নির্বাচন করায়নি। আমরা চাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতন্ত্র থাকুক। কর্মসমিতি বা সিন্ডিকেটে পড়ুয়াদের নির্বাচিত প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে পড়ুয়াদের স্বার্থের কথা তুলে ধরতে পারেন। সেই জন্যই এই নির্বাচন খুবই জরুরি।’’

ছাত্র সংগঠন ডিএসও-র কলকাতা জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য অনীক দে বলেন, ‘‘ছাত্র-ছাত্রীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি সহ অন্যান্য শিক্ষার দাবিতে ইতিমধ্যে আমাদের সংগঠনের রাজ্য কমিটির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি সনদ পেশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেও একই দাবিতে আমরা বারবার সোচ্চার হয়েছি। সিন্ডিকেট, আইসিসি, আইকিউএসি-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য যে সমস্ত কমিটিতে ছাত্র প্রতিনিধি থাকার কথা, আমরা চাই সেই সমস্ত ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিকে দ্রুততার সাথে আনা হোক।’’

Calcutta University Syndicate Election
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy