সর্বস্তরে খরচ কমানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই মতো উচ্চ শিক্ষা দফতর এবং স্কুলশিক্ষা দফতরও খরচ কমাতে উদ্যোগী হয়েছে। কোথাও নিয়মিত বৈঠকের জলখাবারে কাটছাট, তো কোথাও কমানো হচ্ছে কাগজের ব্যবহার। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রায় সব বিভাগেই।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি উচ্চ শিক্ষা দফতরের সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারদের বৈঠক হয়। আলোচনায় উঠে আসে ব্যয়হ্রাসের প্রসঙ্গ। অপ্রয়োজনীয় খচের তালিকা তৈরি করে সেখানে রাশ টানার কথা বলা হয়। এমনকি বিকাশ ভবনে কয়েকজন আধিকারিককে পরীক্ষামূকল ভাবে বাড়ি থেকে কাজ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাড়ির তেল খরচ কমানোর জন্য এই উদ্যোগ। এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে মেলা-খেলায় বাড়তি খরচ হত বলে বার বার সরব হয়েছেন তৎকালীন বিরোধী নেতারা। এ বার সেই বাড়তি খরচের বোঝা কমাতেই খরচে রাশ ধরতে চাইছে সরকার।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও খরচ কমাতে উদ্যোগী হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান, সব থেকে অপ্রয়োজনীয় খরচগুলির কথা আগে ভাবা হয়েছে, যাতে সেগুলি প্রথমেই কমিয়ে দেওয়া যায়। দেখা গিয়েছে নিয়মিত বৈঠক করতে যে খরচ হয়, তাতে রাশ টানা সহজ। তিনি জানান, সিদ্ধান্ত হয়েছে অধিকাংশ বৈঠকই অনলাইনে করার চেষ্টা করা হবে এর পর থেকে। বাইরে থেকে যাঁরা বৈঠকে যোগ দিতে আসেন, তাঁদের যাতায়াতের খরচ-সহ নানা খাতে ব্যয় হয়। অনলাইনে বৈঠক সেরে নেওয়া হলে অনেক খরচ বাঁচে।
এরই পাশাপাশি রয়েছে জলখাবারের খরচ। মুখোমুখি বৈঠক করতে গেলে সাধারণত কিছু জলখাবার রাখতে হয়। এত দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকেন প্যাটিস বা চিকেন স্যান্ডউইচের সঙ্গে একটি মিষ্টির বন্দোবস্ত করা হত। সঙ্গে থাকা চা বা কফি এবং বিস্কুট। আপাতত স্থির হয়েছে মুখোমুখি বৈঠকের সংখ্যা কমানো হবে। যে কয়েকটি বৈঠক করতেই হবে, সেখানেও কাটছাট করা হবে জলখাবারে। স্থির হয়েছে অভ্যাগতদের চা-বিস্কুট ছাড়া আর কিছু দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, স্কুলশিক্ষা দফতরও এ ভাবেই খরচ কমানোর কথা জানিয়েছে স্কুলগুলিকে। জেলা স্কুল পরিদর্শকের প্রতিদিনের কাজের খরচেও রাশ টানতে বলা হয়েছে। দফতরেও কাগজের খরচ কমাতে ই-ফাইল ব্যবহারের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও খবর।
এই ব্যয়হ্রাসের ফলে স্কুল-কলেজের উন্নতি হবে কি না তা নিয়ে অবশ্য সংশয় থেকেই যাচ্ছে। যদিও আশাবাদী অনেক শিক্ষকই। কলকাতার এক স্কুলের প্রধানশিক্ষকের দাবি, ‘‘বিগত সরকারের আমলে অপ্রয়োজনীয় খরচের বহর এত বেশি ছিল বলেই কম্পোজ়ি়ট গ্র্যান্ট পেতাম না আমরা। বর্তমান সরকার খরচ কমিয়ে স্কুলের উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে সেটা সকলের পক্ষেই ভাল হবে।’’