Advertisement
E-Paper

যাদবপুর ক্যাম্পাসে ‘রাম কে নাম’! কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে প্রদর্শন ক্যাম্পাসে

আয়োজক ছাত্র সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ক্যাম্পাসে ছবি প্রদর্শনের অনুমতি দেননি। বরং বিজেপি-র ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র তরফে বিরোধিতা করা হয় এ ছবি প্রদর্শনের। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই তরফের কাছে ক্যাম্পাসের শান্তি বজায় রাখার জন্য আবেদন জানান।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ১৯:০৮
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রদর্শিত হচ্ছে তথ্যচিত্র ।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রদর্শিত হচ্ছে তথ্যচিত্র । ছবি: সংগৃহীত।

সমাজ-রাজনীতির সমান্তরালে আনন্দ পটবর্ধনের তথ্যচিত্র ‘রাম কে নাম’— বুধবার সন্ধ্যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রদর্শিত হল ছবিটি।

পড়ুয়াদের উদ্যোগে এই ছবির প্রদর্শন হয়েছে ক্যাম্পাসে। এই প্রথম নয়। এর আগেও বহু বার সারা দেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ পটবর্ধনের ছবিটি দেখাতে উদ্যোগী হয়েছেন পড়ুয়াদের একাংশ। তা নিয়ে তৈরি হয়েছে উত্তেজনার পরিস্থিতি। ২০১৯-এর অগস্টেও কলকাতার দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়— প্রেসিডেন্সি এবং যাদবপুরে ছবিটি দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন পড়ুয়ারা। সে বার সংখ্যা গরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি, দ্বিতীয়বার দিল্লিতে তৈরি হয়েছিল মোদী নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। সে বছরই নভেম্বরে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের আইনি সনদ মিলেছিল। সে বার প্রেসিডেন্সির অন্দরে ‘রাম কে নাম’ দেখানোর অনুমোদন পাওয়া যায়নি। দেখানো হয়নি ছবিটি। তবে যাদবপুরে দেখানো হয়েছিল। এ বারও তথ্যচিত্রটি দেখানো হচ্ছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তবে এ বারও বাধা ছিল। আয়োজক ছাত্র সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ক্যাম্পাসে ছবি প্রদর্শনের অনুমতি দেননি। বরং বিজেপি-র ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র তরফে বিরোধিতা করা হয় এ ছবি প্রদর্শনের। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই তরফের কাছে ক্যাম্পাসের শান্তি বজায় রাখার জন্য আবেদন জানান।

বুধবার বিকেল ৫টার পরে ছবির প্রদর্শন শুরু হয়। মোটের উপর নির্বিঘ্নেই শেষ হয়েছে প্রদর্শন। ‘আর্ট এগেনস্ট অপ্রেশন’ (নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিল্প) নামে এক সংগঠনের ছত্রছায়ায় এই প্রদর্শন বলেই জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

সমাজবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অনুভব গুপ্ত বলেন, “এটি নিষিদ্ধ ছবি নয়, যে প্রদর্শন করানো যাবে না। উপাচার্য কেন অনুমতি দিলেন না, তা তিনি বলতে পারবেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও অংশ বন্ধ রেখে প্রদর্শন হচ্ছে না, ফলে আমাদের মনে হয় না সমস্যা কিছু হবে।”

১৯৯২ সালে আনন্দ পটবর্ধন তৈরি করেছিলেন এই তথ্যচিত্র। মুম্বই থেকে অযোধ্যা— বিতর্কিত রাম জন্মভূমি ও বাবড়ি মসজিদ প্রসঙ্গ এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি উঠে এসেছে এই আনন্দের নির্মাণে।

ছবিটি প্রদর্শন সারা দেশে নিষিদ্ধ নয়। তবে ২০১৯ সালে হায়দরাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের সময় তা বন্ধ করে দিয়ে কয়েক জন পড়ুয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তারই প্রতিবাদে সে বার প্রেসিডেন্সি ও যাদবপুরের পড়ুয়াদের একাংশ ছবিটি দেখাতে উদ্যোগী হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবারই যাদবপুর ক্যাম্পাসে শারীরচর্চা শুরু করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রভাত শাখার সদস্যেরা। তারও আগে বিজেপি-র কর্মী সংগঠন জমায়েত থেকে দাবি করে, ‘যাদবপুর এখন রাষ্ট্রবাদীদের দখলে’। গত দু’বছর ধরে ক্যাম্পাসে রামনবমীর পুজো করছে এবিভিপি।

JU
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy