উচ্চ মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষায় তিনটি প্রশ্ন সিলেবাস-বহির্ভূত বলে অভিযোগ ওঠার পরে অবশেষে তা স্বীকার করে নিল সংসদ। জানানো হয়েছে, প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীরা করেছে তাদের ওই তিনটি প্রশ্নের জন্য নির্ধারিত পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
জানা গিয়েছে, আরও বেশ কিছু প্রশ্ন নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে। তাদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে সমস্যা হয়েছে। সে জন্য আরও সময় প্রয়োজন ছিল। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সূত্রে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা করা হবে।
অবকল সমীকরণে (ডিফারেনশিয়াল ইকুয়েশন) যে প্রশ্নটি রয়েছে তা সিলেবাস-বহির্ভূত। এমনকি বাজারচলতি যে বইগুলি রয়েছে, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রশ্নগুলি পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত নয়। এই প্রশ্নটি ২ (বি) নম্বরে রয়েছে। এই প্রশ্নের পূর্ণমান ২। এ ছাড়া, ১১ (বি) এবং (সি)-এর প্রশ্নও পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত হয়েছে বলে স্বীকার করে নিয়েছে সংসদ। এই দু’টি প্রশ্নের পূর্ণমান ৪ করে। অর্থাৎ, মোট ১০ নম্বরের প্রশ্ন পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত।
বিকেলে সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “তিনটি প্রশ্ন পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত বলে আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের জানানো হয়েছে। তাঁরা সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে যদি কোনও পরীক্ষার্থী এই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেও থাকে, তাকে পুরো নম্বর দেওয়া হবে।” তার পরে প্রকাশিত হয় এই সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি।
তবে এ টুকুই নয়, অঙ্ক পরীক্ষা ঘিরে অভিযোগ রয়েছে আরও। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, এমন বেশ কিছু প্রশ্ন এসেছে, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং সংসদ নির্দিষ্ট উত্তরপত্রে সমাধান করা পরীক্ষার্থাদের পক্ষে অসুবিধাজনক।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, “এমনিতেই এ বছর পড়াশোনার সময়ই পায়নি ছাত্র-ছাত্রীরা। তার উপর অভিযোগ, পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত প্রশ্ন করা হয়েছে। বেশ কিছু প্রশ্নের সমাধান করতে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। এই অল্প সময়ের মধ্যে তা শেষ করা দুরূহ। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের কাছে আমরা দাবি জানাচ্ছি, ছাত্র-ছাত্রীদের যথাযথ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যেন উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হয়।”
পলাশী জুনিয়র হাইস্কুল গণিতের শিক্ষক সৌরভ নায়েক বলেন, “প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্ক থাকা উচিত ছিল প্রশ্নকর্তাদের। এতে শুধু অঙ্ক পরীক্ষা নয়, অন্য পরীক্ষাগুলিতেও ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক সমস্যা তৈরি হয়।”