প্রতি দিনের জীবনধারায় মন্ত্রপাঠের গুরুত্ব বিশেষ। দৈনিক রোজনামচায় যদি দশ মিনিটও সময় বার করে যে কোনও একটি মন্ত্র সঠিক নিয়মে পাঠ করা যায়, তা হলে খুব ভাল ফল মেলে। মন শান্ত হয়, রাগ কমে, ধৈর্য বৃদ্ধি পায় প্রভৃতি নানা ভাল ফল মেলে। এরই সঙ্গে ভগবানের আশীর্বাদও সর্ব ক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকে। তিনি সর্বদা আমাদের পথ দেখান। তবে বহু মানুষের মনেই একটা সাধারণ প্রশ্ন উঁকি মারে, তা হল মন্ত্র কী ভাবে পাঠ করা উচিত? আওয়াজ করে, বিড়বিড় করে, না মনে মনে— কোন উপায়ে মন্ত্রপাঠ করলে সুফল প্রাপ্তি হয়। শাস্ত্রে বিভিন্ন ভাবে মন্ত্র পাঠের কথা বলা রয়েছে। জেনে নিন, মন্ত্রোচ্চারণের সঠিক নিয়মগুলি কী।
আরও পড়ুন:
মন্ত্রপাঠের সঠিক নিয়ম:
- প্রথমে শিরদাঁড়া সোজা করে, পা গুটিয়ে পদ্মাসনে বসতে হবে। খুব ভাল হয়ে যদি মেঝেতে কোনও আসন পেতে বসেন। সরাসরি মেঝের উপর বা বিছানায় বসে মন্ত্রোচ্চারণ না করাই ভাল। শিরদাঁড়া ভাঙলে চলবে না। সেটি সোজা রাখতে হবে।
- হাতে মন্ত্রজপের মালা রাখতে পারেন। পাশে সুগন্ধি ধূপ বা মোমবাতিও জ্বালানো যেতে পারে। তবে এগুলি কোনওটাই আবশ্যিক নয়। পুরোটাই নির্ভর করছে আপনার উপর।
আরও পড়ুন:
- মন শান্ত রাখুন। এই সময় মনে অন্য কোনও চিন্তা আনা চলবে না। অন্য কোনও বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে কেবল লক্ষ্যের কথা ভাবুন ও মন্ত্রপাঠে মনোযোগ দিন।
- সবার প্রথমে উচ্চকণ্ঠে, শব্দগুলি স্পষ্ট ভাবে উচ্চারণ করে মন্ত্রপাঠ করুন, যাতে যে মন্ত্র আপনি উচ্চারণ করছেন, সেটি সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিজেরও কানে ঢোকে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এর ফলে শরীর ও মনের উপর সুপ্রভাব পড়ে। সেই কারণে মন্ত্রোচ্চারণ শুরু করার সময় সর্বদা উচ্চকণ্ঠে মন্ত্রোচ্চারণ করতে হবে।
আরও পড়ুন:
- তার পর আওয়াজ কমিয়ে, বিড়বিড় করে মন্ত্রপাঠ করুন। এর ফলে একাগ্রতা বৃদ্ধি পাবে। মন শান্ত হয় এবং লক্ষ্য স্থিরে সুবিধা হয়। তাই মন্ত্রোচ্চারণ সর্বদা জোর আওয়াজে শুরু করে তার পর গলার স্বরের তীব্রতা কমাতে হয়।
- সব শেষে মনে মনে মন্ত্রোচ্চারণ করুন। বিশ্বাস করা হয়, এই সময় আধ্যাত্মিক জগতের সঙ্গে আমাদের শরীরের একটি সংযোগ তৈরি হয়। এর ফলে আমাদের ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধি হয়। সেই কারণে সর্বদা স্পষ্ট উচ্চারণে মন্ত্রপাঠ শুরু করে, ধীরে ধীরে গলার স্বরের তীব্রতা কমিয়ে সব শেষে মনে মনে মন্ত্রপাঠ করতে হয়।