Advertisement
E-Paper

কর্মসমিতিতে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রস্তুতি যাদবপুরে! কেন ছাত্র নির্বাচন নয়, উঠছে প্রশ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রের খবর, গত জানুয়ারির শেষে কর্মসমিতির বৈঠক হয়। সেখানেই স্থির হয়, কর্মসমিতি এবং কোর্টে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন হবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৫৭
Jadavpur University

যাদবপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়া বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্মসমিতিতে শিক্ষক নির্বাচনের বিষয়ে যদি সিদ্ধান্ত সম্ভব হয়, তা হলে পড়ুয়া নির্বাচন কেন সম্ভব নয়? প্রশ্ন তুলছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসমিতি এবং কোর্টে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যেই নতুন করে পড়ুয়াদের তরফে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের দাবি ওঠায় বিতর্ক শুরু হয়েছে। উপাচার্য অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, ধাপে ধাপে সব করা হবে। এ দিকে কর্মসমিতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলছে শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, গোটা প্রক্রিয়ার বৈধতাই নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রের খবর, গত জানুয়ারির শেষে কর্মসমতির বৈঠক হয়। সেখানেই স্থির হয়, কর্মসমিতি এবং কোর্টে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন হবে। কিন্তু যে চারটি ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ছাত্র প্রতিনিধি থাকার কথা, সেখানে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ছাত্র সংগঠন ডিএসও। সংগঠনের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি শুভাশিস জানা বলেন, “ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলে আইকিউএসি-এ ছাত্র প্রতিনিধি থাকার কথা। ইসি-তে যদি শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা না থাকে, তা হলে ছাত্রছাত্রীদের প্রতিনিধিদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট নন কেন, সেখানে কেন নির্বাচন হবে না?”

জানা গিয়েছে, এই সব কাউন্সিলে দু’জন করে ছাত্র প্রতিনিধি এবং একজন করে রিসার্চ স্কলার থাকার কথা। পড়ুয়াদের প্রশ্ন, ওই কাউন্সিলে ছাত্র প্রতিনিধিদের নির্বাচন বা দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ছাত্র সংসদের নির্বাচন নিয়ে কেন কোনও সিদ্ধান্ত হল না?

গত নভেম্বরে উপাচার্য পদে যোগ দিয়েছেন চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। প্রথম দিনই উঠেছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ। ডিএসও-র চিঠির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “আমরা এই সব নির্বাচন প্রক্রিয় সদ্য শুরু করেছি। ধাপে ধাপে সব পর্যায়েই সিদ্ধান্ত হবে।”

যদিও এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন শিক্ষক ও পড়ুয়াদের একাংশ। প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও। শিক্ষক সংগঠন আবুটা-র সাধারণ সম্পাদক ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গৌতম মাইতি বলেন, “এই নির্বাচন বৈধ নয়। আচার্য এবং রাজ্যের সরকারের সংশোধিত অনুমোদিত বিধি বা স্ট্যটিউট ছাড়া এই নির্বাচন করা যায় না। ১৯৮২ সালের স্ট্যাটিউট অনুযায়ীও ছাত্র প্রতিনিধির নির্বাচন না করিয়ে শুধুমাত্র শিক্ষক প্রতিনিধির নির্বাচন করা যায় না।” যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র আদিত্য বলেন, “বহু বার নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। সেটা হোক আইন মেনেই। এমন ভাবে যেন শিক্ষক বা ছাত্র নির্বাচন না করা হয়, যার আইনি বৈধতা নেই।”

এসএফআইয়ের রাজ্য কমিটি-র সদস্য তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে বলেন, “সরকারই চায় না গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ছাত্রেরা এ ধরনের কমিটিতে আসুন, ছাত্রসংসদ নির্বাচন দ্রুত করা হোক। এ ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।” একই ভাবে ‘উই দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর তরফে জিম্মি জানান, তাঁরাও মনে করেন ছাত্রসংসদ নির্বাচন করলেই দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

Students Union Election Jadavpur Campus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy