অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে কার্যত বিপাকে কলেজ শিক্ষকদের একাংশ। অভিযোগ, তাঁদের বেতন কমে গিয়েছে একধাক্কায় অনেকখানি। এমন চলতে থাকলে অধ্যক্ষ পদে বসার মতো কর্মী খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে দাবি। প্রতিবাদে সরব অধ্যক্ষদের একাংশ।
তাঁদের দাবি, অধ্যক্ষ পদে ‘পে-প্রোটেকশন’ না থাকায় বেতন কমে গিয়েছে পুরনো বেতনের তুলনায়। এর বিরুদ্ধেই উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিবের দ্বারস্থ হতে চলেছে নিখিলবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদ। তবে সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে নয়। তাঁরা নীতি নির্ধারণ সংক্রান্ত ত্রুটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন।
সংগঠন সূত্রের খবর, ২০২১-এর আগে অন্য নিয়ম চালু ছিল। সাধারণত অন্য কোনও বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে অধ্যক্ষ পদে যোগ দিলে ‘পে-প্রোটেকশন’ দেওয়া হত। অর্থাৎ, পুরনো চাকরিতে বা পুরনো পদে যে বেতন তিনি পেতেন, অধ্যক্ষ পদের বেতন কখনওই তার থেকে কম হবে না। অভিযোগ, ২০২১-এর পর সেই নিয়মে বদল ঘটে। তার পরই এই সুরক্ষা কার্যত ভেঙে পড়েছে। ভুগছেন অধ্যক্ষেরা।
এ জন্য সরকারি আমলাদেরই দায়ী করছেন সংগঠনের সদস্যেরা। হিসাব বলছে, প্রায় ১৭ বছর সহযোগী অধ্যাপক পদ মর্যাদায় কাজ করেও কোনও কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যক্ষ পদের দায়িত্ব নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর বেতন কমে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও সহযোগী অধ্যাপকের তুলনায় একজন অধ্যক্ষের বেতন কমই হয়।
সরকারি কলেজের ক্ষেত্রে ‘পে-প্রোটেকশন’ দেওয়া হয়। কিন্তু সরকার পোষিত কলেজগুলির ক্ষেত্রে সেই নিয়মের পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। অধিক কাজের দায়িত্ব এবং কম বেতনের ফলে সরকার পোষিত কলেজগুলিতে অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে চাইছেন না অনেকেই। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই নিখিলবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের তরফে লিখিত ভাবে দফতরের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে জানা গিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে, কলকাতার সরোজিনী নাইডু কলেজ ফর উইমেন-এর অধ্যক্ষা তথা পরিষদের সভাপতি স্বাগতা দাস মোহন্ত বলেন, ‘‘এই অবস্থা চলতে থাকলে তা খুবই দুর্ভাগ্যের। এর পর তো অধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলাতেই চাইবেন না কেউ। সঙ্কট তৈরি হবে। আমরা দ্রুত দফতরে চিঠি দেব।’’ তবে এই বিষয়ে সরকারকে তাঁরা কেউই দায়ী করতে নারাজ।
এ প্রসঙ্গে আশুতোষ কলেজের অধ্যক্ষ ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানস কবি বলেন, ‘‘আমি নিজেই তো ক্ষতিগ্রস্ত। অধ্যক্ষ পদে আসার পরে আমি নিজেই বেতন কম পাচ্ছি।’’