Advertisement
E-Paper

স্বল্প বরাদ্দে মিড-ডে মিল সামলাতে হিমসিম, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান শিক্ষকদের একাংশ

মালদা জেলার ঘটনা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। আর এখানেই শিক্ষকদের একাংশ তুলছেন পাল্টা অভিযোগ, সরকারি নির্দেশ মানতে গিয়েই বিপাকে পড়ছেন তাঁরা। এমনকি অনেকেই দাবি তুলছেন, এ বার মিড-ডে মিলের দায়িত্ব থেকে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হোক।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ১০:০৩

— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

স্কুল চত্বরে দাঁড়িয়ে প্রধানশিক্ষক। তাঁকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দারা, অভিযোগ নানা রকম। সে সবের বিচার করবে কে? কেউ জানেন না। শুধু সকলে হাতে করে ডিম এনেছেন। কথা না বাড়িয়ে প্রধানশিক্ষক মাথা পেতে নিলেন সে সব ডিম।

গোটা দৃশ্যটি ভাইরাল সমাজমাধ্যমে। জানা গেল, রান্নায় ‘ছিপি (বোতলের ঢাকনা) করে তেল দিতে বলেন প্রধানশিক্ষক’। স্কুলের মিড-ডে মিল রান্নার দায়িত্ব যাঁর হাতে, তিনিই তুললেন অভিযোগ। অত বড় তেলের বোতল থেকে মাত্র ‘এক ছিপি’? কম তেলে রান্নার নির্দেশ দেওয়ায় সন্দেহ দৃঢ় হল, নিশ্চয়ই টাকা নয়-ছয় হচ্ছে।

মালদা জেলার ঘটনা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। আর এখানেই শিক্ষকদের একাংশ তুলছেন পাল্টা অভিযোগ, সরকারি নির্দেশ মানতে গিয়েই বিপাকে পড়ছেন তাঁরা। এমনকি অনেকেই দাবি তুলছেন, এ বার মিড-ডে মিলের দায়িত্ব থেকে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হোক। অভিযোগ, মিড-ডে মিলের বরাদ্দ বৃদ্ধি হয়নি এক টাকাও। অথচ, আনাজ, ডিম থেকে রান্নার গ্যাস— দাম ঊর্ধ্বমুখী। একটি ডিমের দাম যেখানে ৭টাকা, সেখানে ৬টাকা ৭১ পয়সা বরাদ্দে মিড-ডে মিলের রান্না হবে কী করে?

এ দিকে ২০২৫-এ খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা দিয়েছিলেন দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্থূলতা রোধ করতে নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে ভোজ্যতেল ব্যবহারে রাশ টানতে হবে। তার পরই এ রাজ্যের জেলায় জেলায় পৌঁছেছিল নির্দেশিকা, মিড-ডে মিলে তেল কমাতে হবে।

এর পর শুরু হয় রান্নার গ্যাসের অভাব। ফলে রান্নার পরিমাণও কমানোর চেষ্টা করা হয়েছিল স্কুলে স্কুলে। যদিও সে সময় গ্রীষ্মাবকাশ থাকায় সমস্যা ততখানি প্রকট হয়নি। গত ১ জুন থেকে স্কুল খোলার পর নতুন করে মাথা তুলছে বিতর্ক।

এই পরিস্থিতিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে স্কুলশিক্ষা দফতরের দ্বারস্থ হলেন শিক্ষকেরা। অন্য কোনও সংস্থা বা সরকারকে এই দায়িত্ব নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে বলে খবর। অ্যাডভানস্‌ড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস-এর সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি জানান সম্প্রতি স্কুলশিক্ষা দফতরে তাঁরা বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘দফতরে বলেছি যে একটা ডিমের দাম বর্তমানে ৭ টাকার বেশি। সেখানে প্রাথমিক স্তরে এক পড়ুয়ার বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। একটি ডিম দেওয়ার টাকাই নেই, তার উপরে ভাত, রান্নার গ্যাস, সব্জি কোথা থেকে আসবে? নানা কাজে প্রধানশিক্ষকদের জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তাই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।’’ তাঁদের দাবি, সরকার তৃতীয় পক্ষের কোনও সংস্থাকে দিয়ে এই কাজ করিয়ে নিতে পারে।

Mid Day Meal West bengal Gov
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy