বকেয়া মহার্ঘ ভাতা আদায়ে দাবিতে আন্দোলন চলছিলই, এ বার তার সঙ্গে যুক্ত হল ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। সে অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবং দ্রুত মহার্ঘ ভাতা আদায়ে দাবিতে মঙ্গলবার বিকাশ ভবন অভিযান করতে চলেছে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন।
ওই দিন দুপুরে সল্টলেকের সিটি সেন্টার মেট্রো সেন্টারের কাছে জমায়েত করে বিকাশ ভবনের অভিযান করা হবে বলে জানানো হয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংগঠনের কর্মীদের তরফে। তাঁদের অভিযোগ, সম্প্রতি সরকার সুপ্রিম কোর্টে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) রায়ের ‘মডিফিকেশন পিটিশন’ দাখিল করেছে রাজ্য সরকার। সেখানে সময় চাওয়া হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। শুধু তা-ই নয়, বকেয়া ডিএ-র নথি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।
শিক্ষক সংগঠনগুলির কাছে বকেয়া ডিএ-র হিসাব সংক্রান্ত একটি নথি পৌঁছেছে। দাবি, সেখানে দেখানো হয়েছে গ্রুপ-এ, বি, সি এবং ডি পর্যায়ের কত জন কর্মচারী এখন কর্মরত এবং কত জন পেনশনভোগী আছেন। সেখানে পৃথক ভাবে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের দেখানো হয়নি। এখানেই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংগঠন। তাঁদের বাদ দিয়েই কি সরকার মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার পথে হাঁটছে?
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “সরকারের এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে বিকাশ ভবন অভিযান করা হচ্ছে। প্রথমে জমায়েত ও বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে। পরে বিকাশ ভবনে যাওয়া হবে। সরকার চতুরতার সঙ্গে আমাদের নাম ওই তালিকা থেকে দিচ্ছে। এটা করতে দেওয়া হবে না। গোটা রাজ্যে জুড়ে এর বিরোধিতা করা হবে।”
আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যের সর্বত্র ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। তার আগে মঙ্গলবার থেকেই পথে নামতে চলেছেন শিক্ষকেরা। নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, “এ রাজ্যে শিক্ষার হাল তলানিতে ঠেকেছে। পরিকাঠামো, প্রশাসন থেকে শিক্ষার মান সর্বত্র শাসকের গ্রাসে গিয়েছে। এ বার শিক্ষকদের বঞ্চিত করে অবনমনের সেই বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে চাইছে সরকার। এটা আমরা হতে দেব না। তার বিরুদ্ধেই এই আন্দোলন।” যদিও শাসকদলের শিক্ষক সংগঠনের কেউই এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ।