পরীক্ষার আগেই প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের ৬ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মহারাষ্ট্রের টেট কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) দিল্লি, বিহার, হরিয়ানা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি শুরু করেছে। তদন্তকারী দল ঠাণের জয়েন্ট সিপি পঞ্জাবরাও উগালের নেতৃত্বে কাজ করছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় অভিযুক্ত আর দু’জনের খোঁজ চলছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের মোবাইলের মেসেজ, কল রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে দেশের একাধিক রাজ্যে প্রশ্নফাঁস করার একটি সংগঠিত চক্রের খোঁজ মিলেছে। তাই প্রয়োজনে অন্য রাজ্যে গিয়েও তদন্ত করতে পারে সিট।
অন্য দিকে মহারাষ্ট্র স্টেট কাউন্সিল অফ এগ্জ়ামিনেশন-এর তরফে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই পরীক্ষা বাতিলের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। সংবাদমাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ করেন প্রশ্নকর্তারা। তাঁদের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজের সঙ্গেই এই প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হয়েছিল। অতিরিক্ত গরমের জন্য তাঁরা কাজ থেকে রেহাই পাননি। কিন্তু প্রশ্নফাঁস হওয়ায় এই পরিশ্রমের কোনও গুরুত্বই রইল না।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকা অভিযোগে যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা হলেন রাজীব কুমার সাউ, আকাশ কুমার এবং ধীরজ বলরাজ সিংহ। এদের মধ্যে দু’জন বিহারের এবং এক জন্য হরিয়ানার বাসিন্দা। অভিযুক্তদের কাজ থেকে পরীক্ষা হওয়ার আগে মোট চারটি সেট-এর প্রশ্নপত্র এবং প্রায় ৪৬ লক্ষ টাকার চেক উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে দিল্লির একটি সংবাদপত্রের প্রেস কার্ড এবং লোক জনশক্তি পার্টি-র একটি মিছিলের দলীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই নথিগুলি ঠিক কোন কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
চলতি বছর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার জন্য রাজ্যের ১,০২৮টি কেন্দ্র বরাদ্দ করা হয়েছিল। ২৮ জুনের পরিবর্তে কবে পরীক্ষা নেওয়া হবে, সেই সংক্রান্ত তথ্য মহারাষ্ট্র স্টেট কাউন্সিল অফ এগ্জ়ামিনেশন-এর ওয়েবসাইটে জানানো হবে। এর আগে ২০১৬-এ পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল মহারাষ্ট্রে। সে বারও পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল। একাধিক চক্রের হদিশ মেলার পর মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।