পুণের ব্যবসায়ীর পুত্র কেতন অগ্রবালকে লোহাগড় দুর্গ থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে খাদের ধারে আচমকা বসে পড়েছিলেন সিয়া গোয়ল। পুলিশ জানিয়েছে, সেটাই ছিল তাঁর ‘সিগন্যাল’। প্রেমিক চেতন চৌধরীকে সে ভাবেই ইশারা করেন সিয়া। তাঁকে বসে পড়তে দেখে চেতন বুঝেছিলেন, সময় এসেছে। তখনই যুগলের সামনে গিয়ে কেতনকে সজোরে ধাক্কা মারেন তিনি। পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হয়। কোথাও এতটুকুও ত্রুটি ছিল না।
কেতন হত্যার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক পুলিশ আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, শুধু প্রেমিককে ‘সিগন্যাল’ দেওয়ার জন্য নয়, সিয়ার বসে পড়ার আরও কারণ ছিল। তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। কেতনকে ধাক্কা দেওয়ার পর তিনি যদি বাঁচার চেষ্টা করেন এবং সামনে থাকা সিয়াকে আঁকড়ে ধরতে চান, সে ক্ষেত্রে কেতনের সঙ্গে তাঁরও খাদে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকত। তাই আগেভাগে বসে পড়ে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রেখেছিলেন সিয়া।
আরও পড়ুন:
বসে পড়ে ইশারা করার বিষয়টি সিয়া-চেতনের পরিকল্পনারই অঙ্গ ছিল, জানিয়েছে পুলিশ। তাঁরা ঠিক করেছিলেন, দুর্গের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে জল খাওয়ার বা জুতোর ফিতে বাঁধার অজুহাতে সিয়া বসে পড়বেন। তখনই চেতন এসে ধাক্কা মারবেন কেতনকে। পুলিশের ওই আধিকারিকের কথায়, ‘‘ইচ্ছাকৃত ভাবেই এমন সঙ্কেত বেছে নেওয়া হয়েছিল, যাতে ধাক্কা দেওয়ার সময় কেতনের নাগালের বাইরে থাকেন সিয়া। তাঁর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।’’
নিজের পরিচয় গোপন রাখতে একাধিক পদক্ষেপ করেছিলেন চেতন। প্রথমত, তিনি দুর্গে ওঠার সময়ে একটি হুডি পরেছিলেন। ওঠার পর তা খুলে রাখেন। কালো টি-শার্ট পরে দুর্গে ছিলেন চেতন। পরে কাজ সেরে নামার সময় আবার হুডি পরে নেন। শুধু তা-ই নয়, পুণে থেকে লোহাগড় দুর্গ পর্যন্ত দীর্ঘ ৯০ কিলোমিটার রাস্তা স্কুটারে গিয়েছিলেন তিনি। গাড়িতে নয়। পুলিশ জানতে পেরেছে, টোল প্লাজ়াগুলিকে এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আশঙ্কা ছিল, গাড়িতে গেলে টোল প্লাজ়ার সূত্র ধরে তাঁর খোঁজ পেয়ে যেতে পারেন তদন্তকারীরা। চেতন দুর্গ থেকে পুণে ফেরেনও সেই স্কুটারে চেপেই। সিয়া এবং চেতন উভয়েই পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। রবিবার সিয়াকে দুর্গে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছে পুলিশ।