Advertisement
E-Paper

ধ্বংসস্তূপের নীচে নবজাতককে নিয়ে আটকে মা! বিধ্বস্ত ভেনেজ়ুয়েলার ভাঙা বাড়ি থেকে অবশেষে দু’জনকেই উদ্ধার

বর্তমানে ওই মহিলা এবং তাঁর পুত্র ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নবজাতককে বুকের মাঝে রেখে ভূমিকম্পে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা শোনান ওই মহিলা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১৫:৫৪
Mother of newborn rescued from Venezuela tells her story

ভেনেজ়ুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে উদ্ধার মা এবং পুত্র। ছবি: সংগৃহীত।

ছোট্ট শিশুকে বুকে জড়িয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন এক মহিলা। দিন দুয়েক আগেও তিনি ভাবতে পারেননি যে বেঁচে থাকবেন। তবে প্রতিকূলতা কাটিয়ে তিনি বেঁচে আছেন। বেঁচে আছে তাঁর সন্তানও। এখন তাঁর মনে হচ্ছে, ‘‘বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণায় আমার পুত্রই। ও না-থাকলে হয়তো বাঁচতামই না।’’ মহিলার নাম ডায়না পাটিনো। আর সন্তানের নাম হুয়ান ডেভিড। ভেনেজ়ুয়েলার বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়েও বেঁচে গিয়েছেন তাঁরা। হুয়ান এখন ভেনেজুয়েলায় ‘আশার আলো’ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে ডায়না এবং তাঁর পুত্র ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হুয়ানকে বুকে মাঝে রেখে ভূমিকম্পে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন বিবিসি-কে। তিনি জানান, লা গুয়াইরার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় অঞ্চলে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে আটতলার ঘরে বাসন ধোয়াধুয়ি করছিলেন। আচমকা কম্পন অনুভূত হয়। ডায়নার কথায়, ‘‘ভেবেছিলাম হালকা কম্পন। তাও ছুটে গিয়ে ছেলেকে কোলে তুলে নিলাম। তার পরে মনে হল আমার পা আর মাটিতে নেই। আমি উড়ছি। আবার মনে হল কাদা, জলে ডুবে যাচ্ছি। শেষে গর্তে পড়ে গেলাম। জানি না, গোটা সময়ে কী ভাবে আমি হুয়ানকে বুকের সঙ্গে আটকে রেখেছিলাম।’’

‘‘গর্তে পড়ে চিৎকার শুরু করেছিলাম। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পর বুঝতে পারলাম চিৎকার করে, কাউকে ডেকে লাভ নেই।’’ স্মৃতি হাতড়ে বললেন ডায়না। তাঁর কথায়, ‘‘তখন ঠিক করলাম ডাকাডাকি করে শক্তি ক্ষয় করার কোনও অর্থ হয় না। যখন কাছাকাছি কোনও শব্দ, কারও কণ্ঠস্বর বা পায়ের শব্দ শুনতে পাব, তখন ডাকব। আমি জানি না ওই রকম বিপদে পড়েও কী ভাবে শান্ত ছিলাম। আমার বাঁ পা কংক্রিটের নীচে চাপা পড়েছিল। নড়াচড়ার অবস্থায় ছিলাম না। তবে মনের জোর না-হারিয়ে টিকে থাকার লড়াই শুরু করলাম।’’

কী ভাবে উদ্ধার পেলেন ডায়না? তাঁর কথায়, ‘‘অনেক ক্ষণ কেটে যাওয়ার পর ধ্বংসস্তূপের তলায় গর্ত দিয়ে আলোর রেখা ঢুকছে। তখনই ঠিক করি এ বার ডাকতে হবে, বাঁচার চেষ্টা করতে হবে। সেই আশায় চিৎকার শুরু করি। শেষপর্যন্ত আমাদের বার করে আনা হয়।’’ বৃহস্পতিবার রাতে ডায়না এবং হুয়ানকে ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এই ঘটনায় ডায়নার দু’পায়ে আঘাত লেগেছে।

ডায়নার স্বামী গার্সন জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি সবে বাড়ি ফিরেছিলেন। অ্যাপার্টমেন্টের নীচে গাড়ি পার্ক করছিলেন। সে সময় কম্পন অনুভূত হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে পারতেন। তবে স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে চিন্তা ছিল। চোখের সামনে দেখেছেন তাঁদের অ্যাপার্টমেন্ট কী ভাবে হুড়মুড়ি ভেঙে পড়ে। বুঝেছিলেন ধ্বংসস্তূপের নীচে কোথাও না কোথাও তাঁর স্ত্রী-পুত্র চাপা পড়ে আছেন। তবে আদৌ বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল। উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে দিনরাত ধ্বংসস্তূপের তলায় ডায়না এবং হুয়ানকে খুঁজেছেন গার্সন। শেষপর্যন্ত স্ত্রীর চিৎকার কানে যেতে যেন ধড়ে প্রাণ ফিরে পান গার্সন। শেষে বলেন, ‘‘আমরা সর্বস্ব হারিয়েছি। কিন্তু পুত্রই আমাদের শক্তি। আবার আমরা সবকিছু তৈরি করব। হুয়ানের জন্য বাঁচব।’’

venezuela Earthquake

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy