পর পর দু’টি ভূমিকম্প এবং কয়েকটি ‘আফটার শকে’ বিধ্বস্ত ভেনেজ়ুয়েলা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৯২০ জন মানুষের প্রাণ কেড়েছে এই ভূমিকম্প। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্যারিবিয়ান সমুদ্রবর্তী শহর লা গুয়াইরা শহর। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাতহানা দু’টি ভূমিকম্প এবং তার সঙ্গে হওয়া কয়েক ডজন ‘আফটার শকে’ ওই শহরের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার একটি প্রমাণ মিলল উপগ্রহচিত্রে।
চলতি বছরের ২২ জুনের উপগ্রহচিত্রে দেখা যাচ্ছে ঝাঁ চকচকে, শান্ত একটি শহর। কংক্রিট এবং সবুজের মেলবন্ধন রয়েছে। কিন্তু উঁচু উঁচু সেই অফিস-বাড়িগুলো মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ২৫ জুনের উপগ্রহ চিত্র থেকে দেখা যাচ্ছে, কয়েকটি উঁচু ইমারত একেবারে মাটিতে মিশে গিয়েছে। কয়েকটি গিয়েছে হেলে। গাছপালার অবস্থাও তেমনই।
গত বুধবার পরপর দু’টি ভূমিকম্প হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে। ভূ-বিজ্ঞানীরা পর পর এই কম্পনকে ‘ডাবলেট’ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। লা গুয়াইরা থেকে ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসের উত্তরাংশে ভয়ঙ্কর ক্ষতি হয়েছে। সারা দেশে এখনও পর্যন্ত ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর।
বহু মানুষ খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছেন। বেশির ভাগ জায়গায় বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন। স্কুল-কলেজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। ভূ-বিজ্ঞানীরা বলছেন, গত শতাব্দীর মধ্যে ভেনেজ়ুয়েলায় যত ভূমিকম্প হয়েছে, সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলির মধ্যে একটি ছিল এ বারের। প্রথমে ৭.২ মাত্রার একটি কম্পন হয়েছিল। তার মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পরে একই এলাকায় ৭.৫ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হয়। ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)-র সতর্কতা, ১০ হাজার থেকে এক লক্ষ পর্যন্ত মানুষের প্রাণহানি হয়ে থাকতে পারে।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোড্রিগেস দ্রুত দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ এবং আবাসন পুনর্নির্মাণে সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডারের দেওয়া সাহায্য থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হবে।