নতুন করে পরীক্ষার খাতা দেখে কেবল ২ নম্বর বেড়েছে— অভিযোগ করেছিলেন সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার্থী বেদান্ত শ্রীবাস্তব। পাল্টা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক বিবৃতি দিয়েছিল, ওই ছাত্র ‘নির্ভেজাল মিথ্যা’ কথা বলছে। আদতে তার ১১ নম্বর বেড়েছে। এ বার বেদান্ত জানালেন, তিনি মিথ্যা বলেননি। বরং সিবিএসই-ই নিজের ভুল নিজে শুধরে এখন বাহবা চাইছে। কারণ ওই বাড়তি ৯ নম্বর তখনই বেড়েছিল, যখন তাঁর পদার্থবিদ্যার খাতা অদল-বদলের গণ্ডগোলটি ধরা পড়েছিল।
বেদান্তের নাম মাস খানেক আগে খবরে এসেছিল সিবিএসই দ্বাদশের খাতা দেখার বিতর্কে। পদার্থবিদ্যার খাতার স্ক্যানড কপি বদলে যাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন দিল্লির ওই পরীক্ষার্থী । যার জন্য তাঁকে ‘পাকিস্তানি’, ‘দেশবিরোধী’ ইত্যাদি বিশেষণে আক্রমণ করা হয়। যদিও পরে সমস্যা খুঁজতে গিয়ে সিবিএসই দ্বাদশের অনস্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতিতে খাতা দেখা নিয়ে নানা অনিয়ম প্রকাশ্যে এসে পড়ে এবং সমালোচনার মুখে পড়ে সিবিএসই। সম্প্রতি সেই সমস্ত ত্রুটি শুধরে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় পরীক্ষার্থীদের খাতা পুনর্মূল্যায়ন করেছে এবং ফল প্রকাশ করেছে বোর্ড। বেদান্ত সেই পুনর্মূল্যায়নের নম্বর হাতে পেয়ে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন । সেখান থেকেই নতুন বিতর্কের শুরু।
বেদান্ত ভিডিয়োয় জানিয়েছিলেন, তাঁর খাতা পুনর্মূল্যায়ণের পরে কেবল ২ নম্বর বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমি আমার খাতা পুনর্মূল্যায়নের নম্বর পেয়েছি। ১১টি প্রশ্নের উত্তর পুনর্বার দেখার জন্য আবেদন করেছিলাম। তাতে মাত্র ২ নম্বর বেড়েছে। এক নম্বর অঙ্কে আর এক নম্বর কম্পিউটার সায়েন্সে। আর যে খাতা বদল হয়েছিল (পদার্থবিদ্যা), তাতে একটিও নম্বর বাড়েনি।’’
পাল্টা শিক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়, পদার্থবিদ্যায় আরও ৯ নম্বর যোগ হয়েছে বেদান্তের। তিনি মিথ্যা কথা বলছেন। এ বার ওই ছাত্র দাবি করলেন, তথ্যটি ঠিক নয়।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেদান্ত জানিয়েছেন, পদার্থবিদ্যায় যে ন’ নম্বর বেড়েছে বলে জানিয়েছে বোর্ড, তা পুনর্মূল্যায়ণের প্রক্রিয়ায় বাড়েনি। বেদান্তের কথায়, ‘‘ওটাই আমার আসল নম্বর। যা প্রথমে আমি পাইনি, কারণ আমাকে ভুল খাতার নম্বর দেওয়া হয়েছিল।’’ বেদান্ত জানিয়েছেন, ওই ৯ নম্বর বেড়েছিল তিনি তাঁর আসল খাতা হাতে পাওয়ার পরেই। আর বোর্ড এখন নিজের ভুল শুধরে নিজেই বাহবা পেতে চাইছে।