সাধারণ কোনও দৃশ্যকে দর্শকের চোখে অসাধারণ করে তোলাই ভিস্যুয়াল এফেক্টস-এর কাজ। ‘অবতার’ থেকে বলিউডের ‘ধুরন্ধর ২’ বা ‘আরআরআর’, কিংবা বাংলায় ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ থেকে শুরু করে ‘পক্ষীরাজের ডিম’— দেশ ও বিদেশের বেশির ভাগ চলচ্চিত্রেই এই প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে আজকাল। যার যেমন ক্রয়ক্ষমতা, সেই অনুযায়ী বাড়ছে বিশ্বাসযোগ্যতা, নিপুণ হচ্ছে এফেক্টস। কোনও দৃশ্যকে আরও আকর্ষণীয় এবং বাস্তবনির্ভর করে তুলতেই মূলত ভিস্যুয়াল এফেক্টস-এর ব্যবহার করে থাকেন ভিডিয়ো এডিটরেরা।
ভিস্যুয়াল এফেক্টস আসল কী?
চলচ্চিত্রে প্রায়ই দেখা যায়, নায়ক কোনও বন্যজন্তুর সঙ্গে একা হাতে লড়ছেন, কিংবা ছাদ থেকে শূন্যে ঝাঁপ দিচ্ছেন নায়িকা। এই সব দৃশ্যকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে ভিডিয়ো এডিটরেরা ভিস্যুয়াল এফেক্টস ব্যবহার করে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজ (সিজিআই), কম্পোস্টিং, মোশন ক্যাপচার, সিম্যুলেশন।
কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজ-এর (সিজিআই) মাধ্যমে থ্রিডি মডেলের মাধ্যমে কাল্পনিক চরিত্রকে বাস্তব রূপ দেওয়া হয়ে থাকে। ‘অবতার’ কিংবা ‘অ্যাভেঞ্জার্স’-এর মতো চলচ্চিত্রে এই কৌশলেই বিভিন্ন চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলা হয়েছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ধুরন্ধর ২’-এর বিভিন্ন দৃশ্যে স্পেশ্যাল এফেক্টস ব্যবহার করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রেক্ষাপটে তৈরি ওই সিনেমাতে বিভিন্ন জায়গার ছবি কম্পিউটারের সাহায্যে বানিয়ে মূল দৃশ্যের সঙ্গে যোগ করা হয়েছে। এ ছাড়াও সিম্যুলেশন-এর মাধ্যমে আগুন, জল, ধোঁয়া তৈরি করা হয়ে থাকে বিভিন্ন দৃশ্যে। এই সবই ভিস্যুয়াল এফেক্টস-এর অঙ্গ।
কারা পড়তে পারবেন?
মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর ভিডিয়ো এডিটিং নিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী হন অনেকেই। উল্লিখিত পরীক্ষায় ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর থাকলে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি হওয়া যাবে।
কী কী বিষয় শেখা যায়?
অ্যানিমেশন ফিল্ড ডিজ়াইন, ফিল্ম এডিটিং, থ্রি-ডি অ্যানিমেশন অ্যান্ড ভিস্যুয়াল এফেক্টস নিয়ে এ দেশে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও ডিপ্লোমা কিংবা সার্টিফিকেশন কোর্সের মাধ্যমেও উল্লিখিত বিষয়টি শেখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভিডিয়ো এডিটিং-এর সঙ্গেই ভিস্যুয়াল এফেক্টস-এর খুঁটিনাটি শেখার সুযোগ পাওয়া যায়।
কোথায় কী পড়ানো হয়?
- দেশের বিভিন্ন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিডিয়ো এডিটিং নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। এই রাজ্যে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট, ওয়েবেল অ্যানিমেশন অ্যাকাডেমি থেকে অ্যানিমেশন সিনেমা এডিটিং, থ্রি-ডি অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স অ্যান্ড কম্পোস্টিং-এর মতো বিষয়গুলি ডিপ্লোমা থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর স্তরের কোর্স হিসাবে করানো হয়ে থাকে।
- এ ছাড়াও ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজ়াইন; ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, বোম্বে এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিস থেকে ভিএফএক্স অ্যান্ড অ্যানিমেশন ডিজ়াইন নিয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরের কোর্স করা যেতে পারে।
- ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজিতে ফিল্ম এডিটিং, ভিস্যুয়াল স্টোরি টেলিং, পোস্ট প্রোডাকশন-এর অধীনে ভিএফএক্স নিয়ে ছ’মাস থেকে ১২ মাসের সার্টিফিকেশন কোর্স করানো হয়ে থাকে।
- এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা পরিচালিত ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অন টেকনোলজি এনহ্যান্সড লার্নিং (এনপিটিইএল), স্বয়ম প্ল্যাটফর্ম-এর মাধ্যমে ভিডিয়ো এডিটিং, ভিস্যুয়াল এফেক্টস-এর বিষয়গুলি নিয়ে অনলাইনেও পড়াশোনা করা যায়। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম মেধাকে ব্যবহার করে ভিডিয়ো এডিটিং-এর কাজ কী ভাবে করতে হবে, তা-ও শেখার সুযোগ মেলে।
কাজের সুযোগ:
সিনেমা থেকে শুরু ওয়েব সিরিজ, তথ্যচিত্রের মতো যে কোনও ধরনের ভিডিয়ো প্রোডাকশনের কাজ করতে হলে ভিস্যুয়াল এফেক্টস-এর জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এ ছাড়াও বহুজাতিক সংস্থাতেও মার্কেটিং-এর জন্য ভিডিয়ো প্রোডাকশন-এর কাজ করা হয়ে থাকে।
এই সব সংস্থায় কাজের সুযোগ পেতে চাইলে পোর্টফোলিও আকর্ষণীয় হওয়া প্রয়োজন। সৃজনশীল ভাবনা, ছবির মাধ্যমে গল্প বলতে পারা এবং পরীক্ষামূলক ভাবে এগিয়ে যেতে পারার দৃঢ়তা পোর্টফোলিও-র মাধ্যমে প্রকাশ করা আবশ্যক। তবেই নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার মেলে।