পরীক্ষার ঠিক এক সপ্তাহ বাকি। তার পরেই শুরু উচ্চ মাধ্যমিক চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষা। দেশের মধ্যে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গেই সেমেস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রথম দিনেই রয়েছে প্রথম ভাষা বাংলার পরীক্ষা। নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে উৎকন্ঠা-উদ্বেগ সরিয়ে কী ভাবে মিলবে পূর্ণ নম্বর, তার পরামর্শই দিচ্ছেন যোধপুর পার্ক বয়েজ় হাই স্কুলের বাংলার শিক্ষক প্রিয়তোষ বসু।
প্রিয়তোষ জানিয়েছেন, পাঠ্যক্রম এখন তুলনামলূক ভাবে অনেক সংক্ষিপ্ত, প্রশ্নের ধরনও জটিলতাহীন। নতুন পাঠক্রমে পাঁচ নম্বরের ছ’টি প্রশ্ন থাকবে, আর প্রবন্ধ রচনায় থাকবে দশ নম্বর। মোট নম্বর ৪০। গল্প-কবিতা থেকে দু’টির মধ্যে একটি প্রশ্ন লিখতে হবে। পাঠ্যক্রমে দু’টি গল্প এবং তিনটি কবিতা রয়েছে। তাই একটি গল্প এবং দু’টি কবিতা ভাল করে পড়ে গেলেই উত্তর করা সম্ভব। কিন্তু নাটক ‘নানা রঙের দিন’ এবং সহায়ক পাঠ ‘ডাকঘর’-এর ক্ষেত্রে সে সুযোগ নেই। কারণ এখানে কোনও বিকল্প পাঠ্যবিষয় নেই। তাই নাটক এবং সহায়ক পাঠ খুব ভাল করে পড়তে হবে। শিল্পসংস্কৃতিতে বাংলা চিত্রকলার ইতিহাস এবং বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস— এই দু’টি বিষয় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে যেহেতু নির্দিষ্ট বিষয় থেকেই প্রশ্ন আসে, তাই কোনও বিষয় বাদ না দিলেই ভাল। রচনায় থাকবে ১০ নম্বর। দু’টি বিষয়ের মধ্যে একটির উত্তর লিখতে হবে। এ ক্ষেত্রে আগে থেকে কোনও একটি বিষয় স্থির করে না রাখাই শ্রেয়।
আরও পড়ুন:
প্রিয়তোষ বলেন, “সেমেস্টার পদ্ধতিতে তৃতীয় সেমেস্টারে ছিল এমসিকিউধর্মী প্রশ্ন। চতুর্থ সেমেস্টারে থাকবে রচনাধর্মী প্রশ্ন। তাই বিগত বছরগুলির থেকে কোন প্রশ্ন আসতে পারে, তার আঁচ পাওয়া সম্ভব নয়। এমনকি নতুন ছাড়াও পুরনো পাঠ্যক্রম থেকে কোন প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা, তাও আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।”
বাংলার মতো ভাষায় কতটা ভাল ফল করা সম্ভব? তিনি জানান, যে কোনও প্রশ্নের উত্তরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন সমগ্র পাঠ্যবিষয় ভাল করে পড়া। প্রশ্নের উত্তর হতে হবে তথ্যসমৃদ্ধ এবং ‘টু দ্য পয়েন্ট’। অকারণ বড় উত্তর লেখা উচিত না। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, এখনকার ‘বাংলা’ পড়ুয়াদের সাহিত্যবোধের পরীক্ষা নয়। পড়ুয়ারা কতটা বুঝতে পেরেছে, বিশ্লেষণ করতে পেরেছে এবং সহজ অনায়াস ভাষায় প্রকাশ করতে পেরেছে, তা যাচাই করে দেখা হবে।