Advertisement
E-Paper

পারিবারিক বিবাদের জের, হাওড়ায় খুন আট বছরের শিশু

আবর্জনার স্তূপ ঘেঁটে কাটা হাত নিয়ে একটি কুকুরকে পালাতে দেখেছিল স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে হাত উদ্ধার হলেও কাটা হাতটি কার তা জানা যায়নি। শুক্রবার সেই আবর্জনার স্তূপ থেকেই বিশাল শর্মা নামে তৃতীয় শ্রেণির এক পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দেখা যায় কাঁধ থেকে বিশালের বাঁ হাতটি নেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০১৫ ১৩:৩৯

আবর্জনার স্তূপ ঘেঁটে কাটা হাত নিয়ে একটি কুকুরকে পালাতে দেখেছিল স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে হাত উদ্ধার হলেও কাটা হাতটি কার তা জানা যায়নি। শুক্রবার সেই আবর্জনার স্তূপ থেকেই বিশাল শর্মা নামে তৃতীয় শ্রেণির এক পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দেখা যায় কাঁধ থেকে বিশালের বাঁ হাতটি নেই। গলায় জড়ানো রয়েছে তার। এ ছাড়াও তার দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সাত সকালে এলাকায় এক শিশুর দেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীরা স্তম্ভিত। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার সালকিয়ায় সনাতন মিস্ত্রী লেনে।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবারই বিশালের পরিবারের তরফ থেকে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয় থানায়। তারপর থেকেই তদন্তে নামে পুলিশ। ইতিমধ্যে মুক্তিপণ চেয়ে বাড়িতে ফোন আসায় অপহরণের অভিযোগে রনজয় ঠাকুর নামে বিশালের এক আত্মীয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে বিশালকে সে বিহারের জামুইয়ে রেখে এসেছে। সেই অনুযায়ী বিহারের উদ্দেশে রওনা দেয় তদন্তকারী অফিসারের একটি দল।

ঠিক কী ঘটেছিল?

পুলিশ সূত্রের খবর, হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার বাসিন্দা বিশাল প্রতি দিনের মতো বুধবার স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। ওই দিনই দুপুরে বিশালের বাবা রামবিলাসবাবুর কাছে মুক্তিপণ চেয়ে একটি ফোন আসে। রামবিলাসবাবু পেশায় ব্যবসায়ী। বাড়ির কাছেই তাঁর একটি বিউটি পার্লার রয়েছে। অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে এক ব্যক্তি তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আধ ঘণ্টার মধ্যেই ওই টাকা একটি ব্যাগে করে কাছের একটি হনুমান মন্দিরে রেখে আসতে বলা হয়। ফোন পাওয়ার পরই রামবিলাসবাবু পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পরেই টাকা সমেত সাদা পোশাকে পুলিশ তাঁর সঙ্গে ওই মন্দিরে যায়। কিন্তু দাবি মতো নির্দিষ্ট স্থানে টাকার ব্যাগ রেখে দিলেও তা কেউ নিতে আসেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ঘটনায় যুক্ত থাকার সন্দেহে রনজয়কে গ্রেফতার করা হয়। জেরায় সে অপহরণের কথা স্বীকার করে। পুলিশকে রনজয় জানায়, বিহারে তার বাড়ির কাছেই একটি জায়গায় বিশালকে আটকে রাখা হয়েছে। তবে সে ভাল আছে। ওই দিনই বিশালকে উদ্ধারের জন্য অভিযুক্ত এবং রামবিলাসবাবুকে নিয়ে বিহারের উদ্দেশে রওনা দেয় পুলিশ। শুক্রবার এলাকা থেকেই বিশালের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের খবর যায় তদন্তকারী ওই দলটির কাছে।

তবে শুধুমাত্র মুক্তিপণ না মেলাতেই এই খুন নয় বলে মনে করছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জেনেছে, সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই রামবিলাসবাবুদের পারিবারিক বিবাদ রয়েছে। সে কারণেই এই ঘটনা। এই খুনের ঘটনায় আর কে কে যুক্ত তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বছর খানেক আগেও হাওড়ায় অপহরণ করে এক স্কুল ছাত্রকে খুন করা হয়েছিল। সেই ঘটনার সঠিক কিনারা এখনও করতে পারেনি পুলিশ।

child killed howrah child killed child brutally killed family rivalry howrah golabari police station murder
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy