Advertisement
E-Paper

চালকের ‘ভুলে’ থামল না ট্রেন, ইমার্জেন্সি ব্রেক গার্ডের

যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন। ঘোষণাও হচ্ছিল। যাঁরা ট্রেন থেকে নামবেন তাঁরাও তত ক্ষণে কামরার গেটে অপেক্ষমান। কিন্তু ট্রেন থামার কোনও লক্ষ্মণই নেই। হু হু করে ছুটে বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো যাত্রী থেকে শুরু করে ট্রেনের যাত্রীরাও চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু তত ক্ষণে প্রচণ্ড গতিতে ধুলো উড়িয়ে ট্রেনটির সাতটি কামরা প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে। প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে ট্রেন চলে যাচ্ছে দেখে শেষ মুহূর্তে ট্রেনের গার্ড ইমার্জেন্সি ব্রেক কষেন। তার পরেই বিরাট আওয়াজ করে ট্রেনটির গতি কমতে শুরু করে। কামরায় বিদ্যুৎও চলে যায়। দু’-এক মিনিটের মধ্যে ট্রেনটিও কিছুটা এগিয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ মে ২০১৫ ১৮:১০

যাত্রীরা প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করছিলেন। ঘোষণাও হচ্ছিল। যাঁরা ট্রেন থেকে নামবেন তাঁরাও তত ক্ষণে কামরার গেটে অপেক্ষমান। কিন্তু ট্রেন থামার কোনও লক্ষ্মণই নেই। হু হু করে ছুটে বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো যাত্রী থেকে শুরু করে ট্রেনের যাত্রীরাও চিৎকার করতে থাকেন। কিন্তু তত ক্ষণে প্রচণ্ড গতিতে ধুলো উড়িয়ে ট্রেনটির সাতটি কামরা প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে। প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে ট্রেন চলে যাচ্ছে দেখে শেষ মুহূর্তে ট্রেনের গার্ড ইমার্জেন্সি ব্রেক কষেন। তার পরেই বিরাট আওয়াজ করে ট্রেনটির গতি কমতে শুরু করে। কামরায় বিদ্যুৎও চলে যায়। দু’-এক মিনিটের মধ্যে ট্রেনটিও কিছুটা এগিয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

ট্রেনটি কল্যাণী-শিয়ালদহ সুপার (৩১৩২০)। ব্যারাকপুর ছাড়ার পরে থামার কথা বেলঘরিয়া স্টেশনে। কিন্তু কী এমন ঘটল যে ট্রেনটি না থেমে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে এগিয়ে গেল? থামলই বা কী করে ?

রেল সূত্রের খবর, চালক শিয়ালদহ পর্যন্ত ট্রেন নিয়ে এসে জানিয়েছেন, বেলঘরিয়ায় ট্রেনটি যে থামার কথা তা তিনি ভুলে গিয়েছিলেন। আর সে জন্যই এই বিপত্তি। চালককে আপাতত ‘বুক’ করা হয়েছে। কেন এই ঘটনা ঘটল তা নিয়ে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।

কী হতে পারত এই ঘটনায়?

রেল সূত্রের খবর, যে ভাবে গার্ডকে ইমার্জেন্সি ব্রেক কষতে হয়েছে তাতে ট্রেনটি বেলাইন হতে পারত। আবার বেলঘরিয়া স্টেশনের গা ঘেঁষেই রয়েছে উড়ালপুল। যার তলায় রয়েছে বন্ধ লেভেল ক্রসিং। বেআইনি হলেও সেখান দিয়ে সারা ক্ষণ রেললাইন পারপার করেন অজস্র মানুষ। স্টেশনে যে ট্রেন থামার কথা সেটা না থেমে হু হু করে বেরিয়ে যেতে থাকলে অনেক মানুষ কাটাও পড়তে পারতেন। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ বেশি দূর গড়ায়নি। বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন কল্যাণী-শিয়ালদহ সুপারের যাত্রীরা।

বস্তুত, সোমবার সকালে রেলের বিভিন্ন দফতরের কর্মীরা পর পর ভুল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রেলকর্তাদের একাংশের বক্তব্য, চালক না হয় ভুলে গিয়েছিলেন, কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, স্টেশনের স্টার্টার সিগন্যাল লাল থাকলে নিশ্চয়ই চালক তা দেখতে পেয়ে সতর্ক হতেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই সময় বেলঘরিয়া স্টেশনের স্টার্টার সিগন্যাল লালের বদলে সবুজ ছিল। রেলকর্তাদের একাংশ বলছেন, এটাও চূড়ান্ত গাফিলতি। এ ক্ষেত্রে সিগন্যাল বিভাগের কর্মীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। গার্ড ট্রেনটি থামালেও রেলকর্তাদের কেউ কেউ আবার বলছেন, গার্ড যখন দেখছেন প্ল্যাটফর্ম এসে গেলেও চালক ট্রেনটির গতি কমাচ্ছেন না, তখন তাঁর কেবিন থেকে চালককে সতর্ক করা উচিত ছিল।

kalyani sealdah local train dangerous mistake by train driver train guard emergency break belgharia station belgharia station mishap
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy