Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২২ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি কাশ্মীরে

সংবাদ সংস্থা
০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ১৪:১৯
বানভাসি শ্রীনগর। ছবি: এফপি।

বানভাসি শ্রীনগর। ছবি: এফপি।

কাশ্মীরে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হল শুক্রবার সকাল থেকে। টানা তিন দিনের বৃষ্টি ও সেই সঙ্গে হড়পা বানে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। এখনও নিখোঁজ ৪৫। রাজ্যের বেশিরভাগ অংশই এখনও জলমগ্ন থাকায় উদ্ধারকার্যও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। রাজ্য পুলিশ ও সেনার সঙ্গে এ দিন উদ্ধারকার্যে হাত লাগিয়েছে বায়ুসেনা ও ছয় কোম্পানি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল (এনডিআরএফ)। জম্মুতে হড়পা বানে আটকে পড়া ১৪ জনকে এ দিন উদ্ধার করেছে সেনা। উদ্ধারকার্যে সাহায্যের জন্য পাঠানো হয়েছে বায়ুসেনার এমআই-১৭ কপ্টার। প্রশাসন সূত্রে খবর, গত দু’দিনে অন্তত ২৫০ জনকে উদ্ধার করেছে সেনা-সহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল। বন্যায় মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ও গুরুতর আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতেই বারাজুলা ও লাগোয়া এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। যুদ্ধকালীন তত্পরতায় উদ্ধারকার্য চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে ৫০ জন যাত্রী-সহ একটি বরযাত্রীর বাস। বাস চালক ও কন্ডাক্টর-সহ ছ’জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও খোঁজ মিলছে না ৪৫ জন যাত্রীর।

Advertisement

তবে রাজ্যে এখনই আবহাওয়ার উন্নতি হবে না বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বরং উপত্যকার বিস্তীর্ণ অংশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বিভিন্ন নদীর জলস্তর আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। দক্ষিণ কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকা-সহ পুলওয়ামা, অনন্তনাগ এবং কুলগাম জেলা এখনও জলমগ্ন। দ্রুত গতিতে বইছে সোফিয়ান জেলার রামবিয়ারা ঝর্ণা। ফলে দক্ষিণ কাশ্মীরের বন্যা পরিস্থিতির এখনই উন্নতি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। ইতিমধ্যেই সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪০টি গ্রাম। ভেঙে পড়েছে দেড়শোটিরও বেশি বাড়ি। গোটা রাজ্যে এখনও জলবন্দি হাজারখানেক মানুষ।

প্রশাসন সূত্রে খবর, এ দিন সকাল থেকে অনন্তনাগ জেলায় বিপদসীমার প্রায় ১২ ফুট উপর দিয়ে বইছে ঝিলম নদী। শ্রীনগরে এই নদী বইছে বিপদসীমার প্রায় ৪.৪ ফুট উপর দিয়ে। রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা এখনও জলমগ্ন। জলবন্দি শ’খানেক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর।

বন্যা ও ধসে বন্ধ হয়ে গিয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ জাতীয় সড়ক। রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন (বিআরও)। বিআরও সূত্রে খবর, এখনও জলবন্দি ডোডা, কিস্তওয়ার, রামবান, সাম্বা, জম্মু, উধমপুর, রাজৌরি, পুঞ্চ এবং কাঠুয়া জেলার বিভিন্ন সড়ক।

আরও পড়ুন

Advertisement