Advertisement
E-Paper

আম এখনও আমজনতার নাগালের বাইরে

হাত দিলেই ছ্যাঁকা লাগে! কারও দাম কেজিতে ৬০ টাকা। কারও আবার ১০০। বৈশাখ মাসের শেষ সপ্তাহে কলকাতার মেছুয়ায় আম এসেছে বটে, তবে তার বেশির ভাগই ভিনরাজ্যের। মুম্বইয়ের আলফানসো, মধ্য ভারত থেকে আসা ল্যাংড়া, হিমসাগর শোভা পাচ্ছে নিউমার্কেট, লেক মার্কেট কিংবা গড়িয়াহাট-মানিকতলায়। অফিস ফেরতা মানুষ বাজারে ঢুঁ মারছেন ঠিকই। কিন্তু ব্যাগ ভর্তি করে আম নিয়ে বাড়ি ফেরার ঝুঁকি এখনও নিতে পারছে না আম বাঙালি।

দেবাশিস দাস

শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০১৫ ১৭:১৭
গন্ধ বিচার। চলছে আমের বিকিকিনি। ছবি: স্বাতী চক্রবর্তী।

গন্ধ বিচার। চলছে আমের বিকিকিনি। ছবি: স্বাতী চক্রবর্তী।

হাত দিলেই ছ্যাঁকা লাগে!
কারও দাম কেজিতে ৬০ টাকা। কারও আবার ১০০।
বৈশাখ মাসের শেষ সপ্তাহে কলকাতার মেছুয়ায় আম এসেছে বটে, তবে তার বেশির ভাগই ভিনরাজ্যের। মুম্বইয়ের আলফানসো, মধ্য ভারত থেকে আসা ল্যাংড়া, হিমসাগর শোভা পাচ্ছে নিউমার্কেট, লেক মার্কেট কিংবা গড়িয়াহাট-মানিকতলায়। অফিস ফেরতা মানুষ বাজারে ঢুঁ মারছেন ঠিকই। কিন্তু ব্যাগ ভর্তি করে আম নিয়ে বাড়ি ফেরার ঝুঁকি এখনও নিতে পারছে না আম বাঙালি।

মেছুয়ায় মুম্বইয়ের আলফানসো আমের দর করতে গিয়ে প্রায় ভিরমি খাওয়া অবস্থা মহাকরণের বড়বাবু শক্তিপ্রসাদ দাসের। কেন? শক্তিবাবু জানাচ্ছেন, ‘‘কী কুক্ষণে যে দর করতে গিয়েছিলাম! ১২টা আলফানসোর দাম চাইছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। দর শুনেই পা চালিয়েছি শিয়ালদহের দিকে। অন্য আমের দাম করার সাহস পাইনি।’’

কিন্তু আর কত দিন এমন চলবে?

Advertisement

মেছুয়ার আম বিক্রেতারা বলছেন, আর বেশি দিন নয়। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই আমের দাম চলে আসবে নাগালের মধ্যে। এ বার পশ্চিমবঙ্গে আমের ফলন ভাল হয়েছে বলেই আম বিক্রেতাদের কাছে খবর। বারুইপুরের হিমসাগর বাজারে ঢুকতে শুরু করেছে। তার পরে পরেই এসে পড়বে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া আর উত্তর ২৪ পরগনার আম। মধ্যবিত্ত বাঙালির আম খাওয়ার আশ তাঁরা এ বার পূরণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মেছুয়ার ফল ব্যবসায়ী মহম্মদ ইসলাম।

ইসলাম জানাচ্ছেন, শহরের বিভিন্ন বাজারে হিমসাগর এখন বিকোচ্ছে কিলো প্রতি ৫০-৬০ টাকায়। ল্যাংড়া আম বিকোচ্ছে ৮০ টাকায়। গোলাপখাস বিকোচ্ছে ৫০ টাকায়। তাই আমের জন্য পরিজনরা বায়না জুড়লেও অফিস ফেরার পথে ব্যাগ ভর্তি আম নিয়ে এখনও বাড়িতে ঢোকা হয়ে ওঠেনি অনেকেরই।

নিউমার্কেটের আম বিক্রেতা আমজাদ আলির আশা, ‘‘আর দিন কয়েকের মধ্যেই হিমসাগরের দাম কিলো প্রতি ৩০-৪০ টাকায় নেমে আসতে পরে। গোলাপখাস, আম্রপালি, বেগমফুলি অনেক কম দামে মিলবে। তার পরে আসবে ল্যাংড়া আর ফজলিরা।’’

মালদহের আম ব্যবাসায়ী সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে গড়ে প্রতি বছর কম করে পাঁচ লক্ষ টন আম উৎপাদন হয়। আম বিশেষজ্ঞদের মতে, আমের ফলন এক বছর বেশি হলে তার পরের বছর কম ফলন হয়। তবে এই কম ফলনের বছরেও মাত্র ত্রিশ শতাংশের মতো আম উৎপাদন কম হয় বলে তাঁরা জানান।

এরই মধ্যে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আমের চাহিদা বাড়তে শুরু করছে। অম্বুবাচীর সময়ে এই চাহিদা আরও বাড়বে বলে শহরের আম বিক্রেতারা মনে করছেন। চাহিদা বাড়লেও যোগানে কোনও ঘটাতি থাকবে না বলে তাঁরা মনে করছেন। শহরের একাধিক আম বিক্রেতা জানান, এ বার মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায় আমের ফলন বেশ ভাল হয়েছে বলে তাঁদের কাছে খবর। এ বছর অনেক কালবৈশাখী হলেও আমের ফলনের উপরে তার প্রভাব পড়েনি বলে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ার আমচাষিরা শহরের ব্যবসায়ীদের জানিয়েছেন।

দিন কয়েকের মধ্যে অন্য আমের দাম কমে এলেও আলফানসোর দামের কোনও হেরফের হবে না বলে শহরের ব্যবাসয়ীরা মনে করছেন। তবে বাঙালির কাছে আলফানসো দুয়োরানি। হিমসাগর, ল্যাংড়া-রা বাজারে এসে গেলে মুম্বইয়ের ওই আম হালে পানি পাবে না বলেই অনেকের অভিমত।

precious and costly mango costly mango precious
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy