Advertisement
E-Paper

কৈলাস ও মালালার হাত ধরে শান্তির নোবেল এল ভারত ও পাকিস্তানে

সীমান্তে দু’দেশের সেনা একে অপরের দিকে গোলাবর্ষণ করছে। উত্তেজনা চরমে। সীমান্তে অনেকে ঘরছাড়া। নেতাদের কণ্ঠস্বর ক্রমেই চরমে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তির নোবেলের জন্য এক ভারতীয় ও এক পাকিস্তানের নাগরিককে বেছে নিল নোবেল কমিটি। পাকিস্তানের থেকে নোবেল পাচ্ছেন নারীশিক্ষা আন্দোলনের পরিচিত মুখ মালালা ইউসুফজাই। ভারতের থেকে নোবেল পেলেন শিশুশ্রম বিরোধী আন্দোলনের কর্মী কৈলাস সত্যার্থী।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৪ ১৬:১৫
 সত্যার্থী এবং মালালা ইউসুফজাই। ছবি: এএফপি।

সত্যার্থী এবং মালালা ইউসুফজাই। ছবি: এএফপি।

সীমান্তে দু’দেশের সেনা একে অপরের দিকে গোলাবর্ষণ করছে। উত্তেজনা চরমে। সীমান্তে অনেকে ঘরছাড়া। নেতাদের কণ্ঠস্বর ক্রমেই চরমে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তির নোবেলের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের দুই নাগরিককে বেছে নিল নোবেল কমিটি। নারীশিক্ষা আন্দোলনের পরিচিত মুখ পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই এবং শিশুশ্রম বিরোধী আন্দোলনের কর্মী ভারতের কৈলাস সত্যার্থী শান্তির জন্য নোবেল পেলেন। সত্যার্থীর নোবেলে সারা দেশ গর্বিত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে মোদী বলেন, “মানবজাতির উদ্দেশে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন তিনি।”

ভারতে শিশুশ্রম বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পথীকৃৎ কৈলাস সত্যার্থী। ১৯৫৪-এ মধ্যপ্রদেশের বিদিশায় তাঁর জন্ম। ১৯৯০ থেকে তিনি শিশুশ্রম বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। গড়ে তুলেছেন ‘বচপন বাঁচাও আন্দোলন’ সংস্থা। এই সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ৮০ হাজার শিশুশ্রমিক স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। পুরস্কার ঘোষণার খবর পেয়ে কৈলাস সত্যার্থী বলেন, “যাঁরা আমার দীর্ঘ দিনের আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন তাঁদের ধন্যবাদ।”

পেশায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কৈলাসকে ছোটবেলা থেকেই শিশু শ্রমিকদের দুরবস্থা কষ্ট দিত। তাই ১৯৯০-এ চাকরি ছাড়তে দ্বিধা করেননি তিনি। তার পরে দিল্লি, মুম্বই-এর মতো শহর থেকে ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল— শিশু পাচার, শিশুশ্রম, শিক্ষার অভাবের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চালিয়েছেন কৈলাস। আঘাত এসেছে, আক্রান্ত হয়েছেন, রক্ত ঝরেছে। কিন্তু দমে যাননি কৈলাস সত্যার্থী। ধীরে ধীরে স্বীকৃতি মিলেছে দেশে-বিদেশে। নানা দেশে সক্রিয় ‘গ্লোবাল মার্চ এগেনস্ট চাইল্ড লেবার’ তাঁরই তৈরি। এর আগে ‘ডিফেন্ডার্স অফ ডেমোক্র্যাসি’, ‘মেডেল অফ দ্য ইতালিয়ান সেনেট’, ‘রবার্ট এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ার্ড’-এর মতো একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন।

পাকিস্তানে নারীশিক্ষা নিয়ে সোচ্চার ছিলেন মালালা ইউসুফজাই। এ জন্য তালিবানী আক্রমণের শিকারও হয়েছেন। তবুও দমে যাননি মালালা। বর্তমানে লন্ডননিবাসী মালালা এখনও পাকিস্তানের নারীশিক্ষার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এর জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন। এই কাজের স্বীকৃতির জন্য বেশ কয়েক বছর ধরেই মালালা নাম ঘোরাফেরা করছিল নোবেল কমিটির অন্দরে।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, শিশুদের শোষণ এবং তাঁদের সব অধিকার, বিশেষ করে শিক্ষার অধিকার রক্ষার জন্য কৈলাস ও মালালার আন্দোলনকে স্বীকৃতি দিতেই এই পুরস্কার। কৈলাস অনেকটাই মহাত্মা গাঁধীর দেখানো শান্তিপূর্ণ পথে শিশুদের আর্থিক কারণে শোষণের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। এখন বিশ্বে প্রায় ১৭ কোটি শিশুশ্রমিক আছে। যা ২০০০ সালের থেকে প্রায় সাত কোটি কম। এর পিছনে কৈলাসের মতো মানুষের অবদান রয়েছে। শিশুদের অধিকার রক্ষার আন্তর্জাতিক সনদ তৈরির পিছনে কৈলাসের অবদানের কথাও উল্লেখ করেছে নোবেল কমিটি। পাশাপাশি পাকিস্তানে নারীশিক্ষার জন্য মালালার সংগ্রামও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে নোবেল কমিটি জানিয়েছে। অত্যন্ত বিপজ্জনক অঞ্চলে এই সংগ্রাম করতে গিয়ে মালালা নিজের জীবনকে বাজি রেখেছেন। এর জন্য প্রাণ হারাতেও বসেছিলেন তিনি। আজ বিশ্বজুড়ে মালালা নারীশিক্ষা আন্দোলোনের অন্যতম মুখ বলে জানিয়েছে নোবেল কমিটি। পুরস্কার পাওয়ার পর মালালা বলেন, “কৈলাসের সঙ্গে এই যৌথ ভাবে এই পুরস্কার পেয়ে আমি খুশি।”

এ দিনের পুরস্কার ঘোষণা করেত গিয়ে নোবেল কমিটি আশা প্রকাশ করেছে, হিন্দু, মুসলিম নির্বিশেষে ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকরা উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হবে। এর জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলিরও ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছে নোবেল কমিটি।

nobel peace prize kailash satyarthi malala yousafzai
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy