প্রত্যেক স্কুলের শৃঙ্খলা থাকে। স্কুলের কোনও পড়ুয়ারই সেই শৃঙ্খলা ভাঙা উচিত নয় বলে বৃহস্পতিবার মন্তব্য করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত। এক ছাত্রের মোবাইল ফোন নিয়ে স্কুলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলার শুনানি চলাকালীন এ দিন ওই মন্তব্য করেন বিচারপতি দত্ত।
বর্ধমান শহরের পাওয়ার হাউস পাড়ার বাসিন্দা একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্র স্থানীয় একটি কোএডুকেশন (ইংরেজি মাধ্যম) স্কুলে পড়ে। সে ১৫ অগস্ট, স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্কুলে গিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্কুলে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ১৫ অগস্ট সে স্কুলে গিয়েছিল মোবাইল ফোন নিয়ে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, ১৪ অগস্টও পৃথক একটি নোটিস জারি করে পড়ুয়াদের বলা হয়, ১৫ অগস্ট মোবাইল ফোন না নিয়ে স্কুলে আসতে। অনুষ্ঠান চলাকালীন ছাত্র মোবাইল ফোন বার করে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। এক শিক্ষক তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপালের কাছে সেটি জমা দেন। ছাত্রকে জানানো হয়, তার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগামী দু’বছর ওই মোবাইল ফোন স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা থাকবে।
ছাত্রটির বক্তব্য, সে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানায়, ওই দিন কখন অনুষ্ঠান শেষ হবে তা স্কুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। অনুষ্ঠান শেষ হলে বাড়ি থেকে গাড়ি পাঠানোর কথা বলার জন্য সে তার বাবার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে আসে। ছাত্রের দাবি, সে স্কুলে যত ক্ষণ ছিল, তত ক্ষণ সে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেনি।
এ নিয়ে ছাত্রের বাবা স্কুলের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি অধ্যক্ষকে জানান, ছেলেকে মোবাইল ফোন সঙ্গে দিয়ে তিনিই স্কুলে পাঠিয়েছিলেন। ওই ফোন তাঁর ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। ফোন ফেরত পেতে তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অনুরোধ করেন। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ সেই ফোন ফেরত দেননি বলে ছাত্রের বাবার অভিযোগ।
ফোন ফেরত পাওয়ার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গত ৮ সেপ্টেম্বর স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ছাত্রের বাবা। এ দিন ওই মামলারই শুনানি ছিল। বিচারপতি দত্ত এ দিন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রের বাবা, দু’পক্ষকেই তাঁদের বক্তব্য দু’সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা পেশ করে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন।