ফের ভোটের আগে মেলা করে সরকারি চাকরির চিঠি বণ্টন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ বারে লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে মোদী আজ ভিডিয়ো মাধ্যমে এক লাখ সরকারি চাকরির চিঠি তুলে দিলেন চাকুরিপ্রাপ্তদের হাতে। দিল্লিতে ‘কর্মযোগী ভবন’ সুসংহত কমপ্লেক্সের প্রথম পর্যায়ের শিলান্যাসও করেন। এই প্রাঙ্গণ বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে সহযোগিতা এবং বোঝাপড়া বাড়াবে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
সরকারি চাকরির বিলি বণ্টনে মোদী তাঁর বক্তৃতায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেসকে। জানিয়েছেন, মোদী সরকার আসার আগের দশ বছরে চাকরির বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়া থেকে শুরু করে নিয়োগপত্র হাতে পাওয়া পর্যন্ত ছিল এক দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তার মধ্যে ঘুষ দেওয়া নেওয়া চলত বলে অভিযোগ মোদীর। তাঁর কথায়, “বর্তমান সরকারের আমলে গোটা প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ করে গড়ে তোলা হয়েছে। সময়ের মধ্যে নিয়োগ হচ্ছে। আজ দেশের প্রতিটি যুব বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে, কঠোর পরিশ্রম এবং দক্ষতা দিয়ে তাঁরা তাঁদের চাকরিটি সুনিশ্চিত করতে পারবেন।”
মোদী জানান, দেশের যুবশক্তিকে উন্নয়নের অংশীদার করার চিন্তাভাবনা করছে তাঁর সরকার। বিরোধীরা দেশে রেকর্ড বেকারত্ব নিয়ে তাঁকে আক্রমণ করলেও আজ সে সব প্রসঙ্গ উড়িয়ে মোদী দাবি করেন, গত সরকারের তুলনায় একই সময়সীমায় (দশ বছরে) দেড়গুণ বেশি যুবর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছে তাঁর সরকার। সরকারি প্রয়াসের ফলে নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান ও স্বনিযুক্তির জন্য সুযোগ সৃষ্টির কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সোমবার আরও বলেন, বাজেটে প্রায় ১ কোটি বাড়ির ওপর সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্র বসানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এতে পরিবারের বিদ্যুৎ বিল কমবে এবং তাঁরা গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। তিনি বলেন, এই কর্মসূচিতে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আজ ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম… এই স্টার্টআপগুলির কারণে, কর্মসংস্থানের সুযোগও আরও বেড়েছে।’’
সদ্য নিয়োগ হওয়া যুবক যুবতীরা রাজস্ব বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বিভাগ, পরমাণু শক্তি বিভাগের মতো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কাজ করবেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, আর্থিক পরিষেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক, জনজাতি মামলা বিষয়ক মন্ত্রক এবং রেল মন্ত্রক-সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলির বিভিন্ন পদেও নিয়োগ করা হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)