গত ১১ জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশের ছিন্দওয়াড়ায় খাবারে বিষক্রিয়ায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছিল। মৃতদের মধ্যে এক মহিলা ও তাঁর ঠাকুরদা একই পরিবারের। তৃতীয় জন এক নিরাপত্তারক্ষী। প্রথমে সকলে একে স্বাভাবিক মৃত্যু মনে করেছিলেন। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশ বুঝতে পারে, গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এর পিছনে। ওই মহিলার শ্বশুরবাড়ির লোকজন এতে জড়িত। আরও কেউ এর পিছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার শুরু গত ৯ জানুয়ারি। ছিন্দওয়াড়ার জুন্নরদেও এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে একটি ব্যাগ ঝুলতে দেখা যায়। তার মধ্যে ছিল আনাজ এবং মিষ্টি। প্রথমে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের এক নিরাপত্তারক্ষী সেখান থেকে একটি মিষ্টি খান। তার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বমি ও ডায়রিয়ায় দু’দিন পর মৃত্যু হয় তাঁর। তখন সকলে একে স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবেছিলেন। কিন্তু একই সময়ে ওই খাবার খায় দোকানটির মালিকের পরিবার। মৃত্যু হয় খুশবু কাঠুরিয়া (২২) এবং তাঁর ৭২ বছর বয়সি ঠাকুরদার। পরিবারের আরও দু’জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। ময়না তদন্ত এবং ফরেনসিক পরীক্ষার পরে খাবারে প্রবল মাত্রায় সেঁকো বিষের উপস্থিতি স্পষ্ট হয়।
তদন্ত করে পুলিশের দাবি, খুশবুর বাপের বাড়ির দোকানের সামনে ওই ব্যাগ রাখার ব্যবস্থা করেছিল শ্বশুর জাদু কসর এবং তার পরিবারের লোকজন। তারা জানত, সেখানে খাবার রাখলে ওই পরিবার তা নিতে পারে। বাইরের কোনও ব্যক্তি যে সেখান থেকে খেতে পারেন সেটা ষড়যন্ত্রকারীদের হিসাবের মধ্যে ছিল না। ফলে বেঘোরে মৃত্যু হয় নিরাপত্তারক্ষীর। ২০২৪ সালে বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন খুশবু। চলে এসেছিলেন সেই পরিবার থেকে। তাতে নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যে কসর পরিবারের মুখ পুড়েছিল। তখন থেকেই খুশবুর উপরে আক্রোশ তাদের। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় মামলা দায়ের করে পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজ শুরু করেছে। দেখছে আরও কেউ জড়িত রয়েছেকি না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)